হারিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী কোডাক | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 21.01.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

হারিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী কোডাক

কোডাক নামটি শুনলেই কানে বাজবে ‘হ্যাভ এ কোডাক মোমেন্ট’ কথাটি৷ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী কোডাক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে৷ কোডাক ফিল্ম আর ক্যামেরার সঙ্গে পরিচিত নন এমন মানুষ কিন্তু কমই পাওয়া যাবে৷

default

যে কোডাক্রোম ফিল্ম এককালে সারা বিশ্ব চিনতো

ডিজিটাল ক্যামেরা আসার আগে কোডাক এবং ফুজি ফিল্ম দখল করে রেখেছিল ফটোগ্রাফির যুগকে৷ পেশাগত হোক আর সৌখিন হোক – প্রতিটি ফটোগ্রাফার কোডাক ফিল্মের সঙ্গে পরিচিত৷ হ্যান্ড ক্যামেরার যুগে ফিল্ম কিনতে হতো৷ সেটা হতো হয় ফুজি নয়তো কোডাক৷ সেই কোডাক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে৷ বিদায়ের ঘন্টাধ্বনি বেজেছে কোডাকের৷

বিংশ শতাব্দীতে কোডাক ফিল্ম ছাড়া ক্যামেরার কথা ভাবাই যেত না৷ প্রজন্মের পর প্রজন্ম কোডাক্রম ফিল্ম ব্যবহার করেছেন৷ সারা বিশ্বে কোডাক নামটি পেয়েছে পরিচিতি, কুড়িয়েছে সুখ্যাতি৷ নিউ ইয়র্কের বিএ্যান্ডএইচ ফটো কোম্পানির যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক হেনরি পসনার আক্ষেপের সঙ্গে বলেন,‘‘কোডাক ফিল্মকে আমরা ভীষণবাবে মিস করবো৷ কোডাক ফিল্ম থাকবে না, এর প্রভাব পড়বে প্রতিটি ফটোগ্রাফারের জীবনে, পেশায়৷ আপনি প্রফেশনাল বা অ্যামেচার যাই হননা কেন কোডাক ফিল্মের অনুপস্থিতি আপনি অনুভব করবেনই৷'' কথাটা সত্যি৷

১৮৮০ সালে জর্জ ইস্টম্যান একটি স্পুলের চারপাশে একটি ফিল্ম জড়িয়ে প্রথম পরীক্ষা চালান৷ ১৮৯২ সালে নিউ ইয়র্কের রচেস্টারের বাজারে তিনি নিয়ে আসেন ইস্টম্যান কোডাক ফিল্ম৷ এই ফিল্ম বিক্রির জন্য কোম্পানি খুব কম মূল্যে বাজারে ছাড়ে বিশেষ ধরণের ক্যামেরা৷ নাম কোডাক ব্রাউনি৷ সাধারণ মানুষের জীবনে শুরু হয় ক্লিক ক্লিক, প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্তকে একটি ক্লিকের মাধ্যমে ধরে ফেলতে থাকে কোডাক ফিল্ম এবং কোডাক ক্যামেরা৷

কোডাকের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মধ্যে অন্যতম হল ,‘আপনি শুধু শাটার টিপুন, বাকি কাজ আমাদের!'৷ বিজ্ঞাপনের এই বার্তা লুফে নিয়েছিল গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ৷

১৯৩২ সালে ইস্টম্যান আত্মহত্যা করেন৷ কিন্তু থেমে থাকেনি কোডাকের যাত্রা৷ ফিল্ম এবং ক্যামেরার পাশাপাশি, প্রজেক্টর, হোম ভিডিও এবং এইট মিলিমিটার মুভি প্রজেক্টর তৈরিও শুরু হয়৷ এরপর বাজারে আসে আরেক ধরণের বিজ্ঞাপন,‘কোডাক মোমেন্ট'৷ আনন্দঘন প্রতিটি মুহূর্তের নাম হয়ে যায় কোডাক মুহূর্ত৷

১৯৮০-র দশকে সাফল্যের একেবারে তুঙ্গ মূহূর্তে কোডাকের কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখের মত৷ ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা ন্যাসার চন্দ্র প্রক্ষিণকারী যানগুলো কোডাক ফিল্মেই ধরে আনে চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রথম কিছু ছবি৷ চাঁদে হেঁটেছিলেন প্রথম যে-নভোচারীরা, তারা জুতোর বাক্স সাইজের কোডাক ক্যামেরা দিয়ে তুলেছিলেন তাদের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার বিরল ছবি৷

শুধু তাই নয়, হলিউডের অসংখ্য ছবি নির্মাণেও কোডাকের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য৷ ‘বেস্ট পিকচার্স'-এর তালিকায় ৯টি অস্কার জিতেছে কোডাক৷ সবই ছিল বৈজ্ঞানিক ও প্রাযুক্তিক উদ্ভাবনার স্বীকৃতি৷

কোডাকের জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার কমতে থাকে যখন বাজারে ডিজিটাল ক্যামেরা আসে৷ কোডাক কোম্পানি নিজেই প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করেছিল কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি৷ ডিজিটাল ক্যামেরাই যে সবার মন এবং সময়কে এভাবে জয় করবে তা টের পায়নি কোডাক৷ বিশেষ করে এশিয়ার মার্কেটে কোডাক প্রচণ্ডভাবে মার খায়৷ এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছিল কোডাক৷ আজ কোডাক সত্যিই হারিয়ে গেছে৷ শুধু বলছে, আনন্দঘন মুহূর্তে আমি ছিলাম, মনে রেখ৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দু্ল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন