হামে শিশু মৃত্যু: টিকার সংকট, নাকি অন্যকিছু?
৩১ মার্চ ২০২৬
কিন্তু সেই সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এই অভিযোগের বিষয়ে একমত নন৷
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচিতে (এইচপিএনএসপি) থাকা অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বাতিল করায় পর্যাপ্ত টিকা আনা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে৷ কিন্তু আসলেই কি টিকা সংকটের কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে? নাকি অভিভাবকদের অনীহার কারণে শিশুদের টিকা দেওয়া যায়নি৷ নাকি অন্য কোনো কারণ?
এসব বিষয়ে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘টিকা সংকটের কথা আমি বলবো না, তবে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা নেই৷ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যাপ্ত টিকা না আসায় এই পরিস্থিতি হয়েছে৷’’
তবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এখন পর্যন্ত কোনো শিশুর অভিভাবক কি অভিযোগ করেছেন, তারা টিকা দিতে গিয়ে পাননি? অন্তর্বর্তী সরকার অনুদান নিয়ে টিকা কেনা পদ্ধতি বাতিল করলেও নিজস্ব অর্থায়নে টিকার ব্যবস্থা করেছে৷ দুই দফায় আমরা যে টিকা এনেছি, তাতে এখনও পর্যাপ্ত টিকা থাকার কথা৷’’
টিকার সংকট, নাকি অন্যকিছু?
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমেছে৷ সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় মজুত শূন্যে নেমে এসেছে৷
টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘গ্যাভি’ বাংলাদেশকে টিকা কেনায় আর্থিক সহায়তা দেয়৷ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচিতে (এইচপিএনএসপি) থাকা অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হয়৷ ওপির লাইন ডিরেক্টর ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ে টিকা কিনতে পারতেন৷ কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই এইচপিএনএসপি তথা ওপি ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে৷ এরপর থেকে নতুন প্রকল্প, দলিল তৈরি, প্রকল্প অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়সহ সবকিছুতে বিলম্ব হওয়ায় এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহে নেই বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন৷
এই বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পরিকল্পনা কমিশনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে ওপি বাতিল করেছি৷ সরকার তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, অনুদান নিয়ে আর টিকা কেনা হবে না৷ নিজস্ব অর্থায়নে টিকা কেনা হবে৷ সেভাবেই নিজস্ব অর্থায়নে টিকা কেনা হয়৷ আর এখন শিশু মৃত্যুর জন্য টিকাকে দায়ী করা হচ্ছে৷ অথচ হামের টিকা একটি শিশু প্রথম ডোজ পায় ৯ মাস বয়সে৷ আর দ্বিতীয় ডোজ পায় ১৫ মাস বয়সে৷ কিন্তু যে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে বা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের কম৷ আর একটাও কি কেস স্টাডি পাওয়া গেছে যেখানে কোনো অভিভাবক টিকা নিতে গিয়ে ফিরে এসেছেন৷ তাহলে এই অভিযোগ আসছে কেন?’’
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন সাইদুর রহমান৷ বর্তমানে তিনি অবসরে গেছেন৷ সাইদুর রহমানও ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পাওয়া গেছে৷’’
অন্তর্বর্তী সরকার টিকা আনলে সেই টিকা গেল কোথায়? জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘চেয়ার ছেড়ে গিয়ে অনেক কথা বলা যায়৷ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা নেই৷ পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি সেটা হলো গত আট বছর আগে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল৷ এরপর আর দেওয়া হয়নি৷ প্রতি চার বছর পরপর নিয়মিত টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়৷ একটি নির্দিষ্ট বয়সি দেশের সব শিশুকে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়৷ এই ৮ বছরে ক্যাম্পেইনটা হয়নি- যে কারণে অনেক অভিভাবক না জানতে পেরে শিশুদের টিকা দেননি৷’’
তবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘তথ্যে কিছু বিভ্রান্তি আছে৷ আসলে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সর্বশেষ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে ২০২০ সালে৷ চার বছর পর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আবার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু ওই বছর তো এমন পরিস্থিতি ছিল না৷ ফলে দেওয়া হয়নি৷ এ বছরের এপ্রিলে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল৷ এটা হয়ত একটু পিছিয়ে যেতে পারে৷ আর কেন্দ্রীয় ভান্ডারে কমে গেছে বলে যে শেষ হয়ে গেছে, তা কিন্তু নয়৷ এই টিকাগুলো কেন্দ্রীয় ভান্ডারের বাইরেও বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থাকে৷ সেইসব জায়গায় কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা আছে৷ আর ক্যাম্পেইনে যেতে শুধু টিকা নয়, আর কিছু প্রস্তুতি লাগে৷ সেই প্রস্তুতি চলছে৷’’
বাংলাদেশে কোন রোগের জন্য কোন টিকা?
বাংলাদেশে ১২ টি রোগের জন্য ৯টি টিকা দেওয়া হয়৷
রোগগুলো হলো- ১. যক্ষ্মা, ২. পোলিও, ৩. ডিপথেরিয়া, ৪. হুপিং কাশি, ৫. ধনুষ্টংকার, ৬. হেপাটাইটিস-বি, ৭. হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, ৮. নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, ৯. হাম, ১০. রুবেলা, ১১. টাইফয়েড ও ১২. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে)৷
টিকাগুলো হলো- ১. বিসিজি : যক্ষ্মা প্রতিরোধে, ২. ওপিভি : পোলিও প্রতিরোধ, ৩. আইপিভি : পোলিও প্রতিরোধে, ৪. পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা : এতে ৫টি রোগের (ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি) প্রতিষেধক থাকে, ৫. পিসিভি : নিউমোনিয়া প্রতিরোধে, ৬. এমআর : হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে, ৭. টিসিভি : টাইফয়েড প্রতিরোধে, ৮. টিডি : কিশোরী/প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের জন্য ধনুষ্টংকার ও ডিপথেরিয়া, ৯. এইচপিভি : জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে (নির্দিষ্ট বয়সের মেয়েদের জন্য)৷
প্রথম ৭টি টিকা শিশুদের জন্য৷ বাকী ২ টা কিশোরী/ গর্ভধারণে সক্ষম মহিলাদের জন্য৷
হঠাৎ করেই কি হামের প্রাদুর্ভাব?
সারাদেশে হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে৷ চলতি বছরে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৬৭৬ শিশু৷ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে৷ এখন পর্যন্ত ৪১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাম আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত তিন মাসে মারা যাওয়া ২৪ জনের মধ্যে আটজন জলবসন্ত আক্রান্ত হয়ে এবং একজন টিটেনাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন৷ হামে আক্রান্ত হয়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে৷
এর বাইরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন এবং রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে ১ জন করে শিশু মারা গেছে৷
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা যায়৷ এদের মধ্যে ১ জনের হাম পরীক্ষা পরে শনাক্ত করা গেছে৷ বাকিগুলো শনাক্ত হয়নি৷
হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান৷ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি৷
কোন বয়সি শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে?
হামে আক্রান্ত হয়েছে বা আক্রান্ত হয়ে যে শিশুরা মারা গেছে তাদের অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের কম৷ ইপিআই এর উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৩৩ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের কম৷ এই কারণে সোমবার সকালে ‘ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি’র সভা বসেছিল৷ সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে সামনের ক্যাম্পেইনে ৬ মাসের বেশি বয়সি শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে৷’’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাইনউদ্দিন খান ডয়চে ভেলেকে জানান, তাদের হাসপাতালে যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে দুই জনের বয়স ৯ মাসের কম৷ অন্যদের বয়স বেশি৷
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, ‘‘হামের টিকার দুইটা ডোজ নিতে হয়৷ প্রথমটা ৯ মাসের পর এবং দ্বিতীয়টা ১৫ মাসের মাথায়৷ এখন অনেক অভিভাবক প্রথমটা নেওয়ার পর দ্বিতীয়টা নেওয়াতে অনীহা দেখায়৷ ফলে তাদের ডোজ কমপ্লিট হয় না৷’’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হাম করোনার চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে৷ একজন হামের রোগী ১৫ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে৷ এখন কোন বয়সের বাচ্চা টিকা পাবে সেটা তো অনেক গবেষণার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঠিক করেছে৷ এখন এই শিশুদের আশপাশে যারা আছে তাদের ইউমিনিট যদি তৈরি হতো তাহলে তো এই বাচ্চারা আক্রান্ত হতো না৷ ফলে বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাসে আনলেই সমস্যার সমাধান হবে না৷ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অব্যহত রেখে এর সমাধান খুঁজতে হবে৷’’
সরকারের প্রস্তুতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি৷ ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে৷’’
এই টিকা আসতে কতদিন লাগতে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চলে আসবে বলে আমরা আশা করছি৷’’
এছাড়াও হাম প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ এর মধ্যে দেশের বড় ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা হামের ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে৷ এছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন৷ প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে৷ এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুরা এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা পাবে৷ শিশুদের মধ্যে রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও ২০টি ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে৷
দেশের ৭০ হাজার শিশু কোনো টিকাই পায়নি?
বাংলাদেশে শিশু টিকাদানে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো বড় একটি অংশ সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে৷ জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, দেশে প্রায় ৫ লাখ শিশু পূর্ণ টিকাসূচির আওতায় নেই, যার মধ্যে অন্তত ৭০ হাজার শিশু কোনো টিকাই পায়নি৷
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালুর পর কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও ‘জিরো-ডোজ’ এবং আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের একটি বড় অংশ এখনো রয়ে গেছে৷ আনুমানিক ৪ লাখ শিশু সব ডোজ সম্পন্ন করতে পারেনি, যা সামগ্রিক টিকাদান ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক নির্দেশ করে৷
তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে টিকাদানের বৈষম্য তুলনামূলক বেশি৷ শহরে মাত্র ৭৯ শতাংশ শিশু পূর্ণ টিকাসূচি সম্পন্ন করেছে, ২ দশমিক ৪ শতাংশ এক ডোজও পায়নি এবং প্রায় ১০ শতাংশ নির্ধারিত সব ডোজ নেয়নি৷ বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে এই হার তুলনামূলক ভালো, যেখানে প্রায় ৮৫ শতাংশ শিশু পূর্ণ টিকাসূচি পেয়েছে৷
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া বলেন, ‘‘১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে৷’’