হামবুর্গের আকাশে আলোকিত ড্রোনের ঝাঁক | অন্বেষণ | DW | 30.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

হামবুর্গের আকাশে আলোকিত ড্রোনের ঝাঁক

ড্রোনের ঝাঁক উড়ন্ত আলোকসজ্জা সৃষ্টি করে দর্শকদের মুগ্ধ করছে৷ কিন্তু এমন কর্মযজ্ঞের পদে পদে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই৷ হামবুর্গ শহরে এক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এই প্রযুক্তির ভালোমন্দ বোঝা গেল৷

হামবুর্গ শহরের এল্ব ফিলহারমোনি ভবনের পঞ্চম জন্মদিবস উপলক্ষ্যে উড়ন্ত এক শিল্পকীর্তি নজর কেড়েছে৷ রাতের অন্ধকারে আকাশে ৩০০ ড্রোন অসাধারণ দৃশ্য রচনা করেছিল৷ তবে ‘আগন্তুক' ড্রোনের উপদ্রবে প্রায় আট লাখ ইউরো মূল্যের সেই আলোকসজ্জা যে পরের তিন রাত বাতিল করতে হবে, প্রথম রাতে দর্শকরা তা ভাবতেই পারেননি৷ এল্ব ফিলহারমোনির মহাপরিচালক ক্রিস্টফ লিবেন-সয়টার বলেন, ‘‘বাস্তব সংঘাত বা সংঘাতের আশঙ্কা দেখিয়ে দিচ্ছে, যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো উচিত ছিল৷ কিন্তু তার জন্য আর সময় ছিল না৷ ফলে কর্তৃপক্ষের হাতে অনুষ্ঠান বাতিল করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না৷''

‘ব্রেকিং ওয়েভস' নামের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের স্রষ্টা নেদারল্যান্ডসের ‘ড্রিফট' নামের ডিজাইনার৷ কনসার্ট ভবনটির অবস্থান ও স্থাপত্যের ভিত্তিতে লোনেকে খরডাইন ও রাল্ফ নাউটা তাঁদের শিল্পকর্ম গড়ে তুলেছেন৷ রাল্ফ বলেন, ‘‘আমার কাছে ব্রেকিং ওয়েভসের প্রেরণা ভবনের ছাদের মতো৷ সেই জায়গার সঙ্গে আশেপাশের পানির সম্পর্কের মতো৷ আমাদের কাজের মধ্যে প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সম্পর্কও দেখতে পাবেন৷''

স্টুডিও ড্রিফটের আরেক সৃষ্টা লোনেকে খরডাইন নিজেদেক সৃষ্টিকর্ম ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘ব্রেকিং ওয়েভসের আরেকটি অর্থ সাহস করে এমন কিছু করা, যা আগে কেউ কখনো করে দেখায় নি৷ একদিকে ভবন এবং অন্যদিকে পানি, সংগীত, আলোর তরঙ্গের মধ্যে সংযোগের একটা মুহূর্ত সৃষ্টি করাই লক্ষ্য৷ সেইসঙ্গে সব মানুষকেও সেই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই৷''

এই দুই স্রষ্টা উজ্জ্বল ড্রোনের মাধ্যমে পাখির ঝাঁকের নকল করে শিল্পসৃষ্টির অন্যতম পথিকৃৎ৷ যেমন ২০১৮ সালে অ্যামেরিকার নেভাদা রাজ্যের ব্ল্যাক রক মরুভূমিতে বার্নিং ম্যান উৎসবে তাঁরা এমন সৃষ্টি তুলে ধরেছিলেন৷ ২০২০ সালে নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরও এমন সৃষ্টির সাক্ষী হয়েছিল৷

জার্মানির এক শহরের আকাশে ড্রোনের মেলা

এমন কর্মযজ্ঞের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে  লোনেকে খরডাইন বলেন, ‘‘একদিকে ইঞ্জিনিয়ার, অন্যদিকে প্রযুক্তিকে প্রকৃতির রূপ হিসেবে চালনা করা সব সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ কিন্তু ড্রিফটে আমাদের মিশনই হলো প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করে প্রকৃতিকে বোঝা৷ প্রকল্প ও কাজ অনুভব করা এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক৷ এমনকি না বুঝলেও আমাদের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা প্রয়োজন৷''

হামবুর্গ শহরের আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটস মিউজিয়ামে বর্তমানে স্টুডিও ড্রিফটের নিজস্ব এক প্রদর্শনী চলছে৷ সেখানে প্রদর্শিত ‘কাইনেটিক ভাস্কর্য'-গুলিতেও দুই স্রষ্টার মৌলিক বিষয় ফুটে উঠছে – অর্থাৎ মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সংযোগ৷ ‘ইন টোয়েন্টি স্টেপস' নামের শিল্পকর্ম পাখির ওড়ার ভঙ্গির কথা মনে করিয়ে দেয়৷ ‘ফ্র্যাজাইল ফিউচার থ্রি' খাঁটি ড্যান্ডেলিয়ন বীজ আলোকিত করে তোলে৷

এল্ব ফিলহার্মোনি ভবনটি দেখতে দেখতে হামবুর্গের প্রতীক হয়ে উঠেছে৷ সুইজারল্যান্ডের তারকা স্থপতি সংস্থা হ্যারৎসোগ অ্যান্ড ডে মুরন সেটি ডিজাইন করেছে৷ সেখানে ড্রোনের সাহায্যে শিল্পসৃষ্টি সত্যি এক চ্যালেঞ্জ বটে৷ রাল্ফ নাউটা বলেন, ‘‘অপ্রত্যাশিত রেডিও সংকেত সব ভণ্ডুল করে দিতে পারে৷ কয়েকটি ড্রোন আকাশ থেকে পানিতে পড়ে যেতে পারে৷ এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এমন গোলমাল হতেই পারে৷''

সেই আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হলো৷ প্রিমিয়ার শো-র আগে সংবেদনশীল ড্রোনগুলিকে ভালোভাবে পরীক্ষা ও যথাস্থানে আনা সত্ত্বেও অঘটন এড়ানো গেলো না৷

বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ হোক বা প্রযুক্তিগত সমস্যা, ড্রোন ভেঙে পড়ার ঘটনা এড়ানো যায় না৷ ড্রেস রিহার্সালের সময় ১৫টি ড্রোন পানিতে পড়েছে৷ প্রিমিয়ারের দিন অবশ্য সংখ্যাটি পাঁচে সীমিত ছিল৷ নিরাপত্তার খাতিরে ‘ব্রেকিং ওয়েভস'-এর বাকি শো বাতিল করতে হয়েছে৷ এল্ব ফিলহারমোনির মহাপরিচালক লিবেন-সয়টার বলেন, ‘‘হতাশার মাত্রা অবশ্যই খুব বেশি ছিল৷ তবে সৌভাগ্যবশত শো খুব ভালো হয়েছে৷ কিন্তু পরের দিনগুলিতেও আমরা হাজার হাজার দর্শক আশা করেছিলাম৷ নিজস্ব চার্টার করা জাহাজও দর্শকদের জন্য প্রস্তুত ছিল৷ কোনো জায়গা খালি ছিল না৷ এই শিল্পকীর্তি দেখতে গোটা ইউরোপ থেকে মানুষ আসার কথা ছিল৷''

‘ব্রেকিং ওয়েভস' মাত্র এক বার দেখা গেলেও সেটি সত্যি মনে ছাপ রেখে গেছে৷

ক্রিস্টিনে লেবার্ট/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়