হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা
বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে৷ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে অগ্নিসংযোগ এবং ছায়ানট ভবনে ভাঙচুর ঘটে৷

শাহবাগে বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি৷ তার মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবারও শাহবাগ মোড়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও বিক্ষোভ চলছে। রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রথম আলো অফিসে আগুন, ধ্বংসযজ্ঞ
বৃহস্পতিবার রাতে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। চারতলা ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শুক্রবার সকালেও প্রথম আলো অফিস থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। নির্বাপনের কাজ করার সময় দুইজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।
ডেইলি স্টারে, আগুন ভাঙচুর ও লুটপাট
ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার-এর অফিসেও হামলা চালানো হয়। আগুনে দুই তলা পুড়ে গেছে। উপরের তলাগুলোতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ সময় ক্যামেরা, লেন্স, হার্ডড্রাইভসহ অনেক কিছু লুট করা হয়। দীর্ঘদিনের আর্কাইভও নষ্ট করা হয়েছে।
ছায়ানট ভবনে তাণ্ডব
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ছায়ানট ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। তবলা, হারমোনিয়াম, তানপুরা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করা হয়, পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনতলার একটি ভবনে পুড়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে পড়ে আছে পোড়ানো বইয়ের স্তূপ। সব কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে ছায়ানট কর্তৃপক্ষ।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আবার ভাঙচুর
বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার দুপুরেও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে ভাঙচুর চালাতে দেখা গেছে। হাতুড়ি-শাবল নিয়ে দেয়াল ভাঙছেন হামলাকারীরা।
দুটি সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ
হামলার পর শুক্রবার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। 'পাঠকের প্রতি' বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত প্রকাশনা শুরুর আশ্বাস দিয়েছে দুই সংবাদমাধ্যম।
১২ ডিসেম্বরের পর কী ঘটেছিল?
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রা্জধানীতে মুখোশধারী দুই আততায়ী তাকে গুলি করে। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলেও অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়৷ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।
প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "এই ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বিরাট বাধা সৃষ্টি করেছে।" সম্পাদক ও সংবাদকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, "সরকার আপনাদের পাশে আছে।"