হাতের নাগালে চলে আসছে মহাকাশযাত্রা | অন্বেষণ | DW | 09.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

হাতের নাগালে চলে আসছে মহাকাশযাত্রা

মহাকাশে ছুটি কাটাতে চান? ২০২১ সালে সেখানে এক হোটেল তৈরি হবার কথা৷ বেসরকারি বাণিজ্যিক উদ্যোগের কারণে মহাকাশযাত্রার উপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য কমে চলেছে৷ অন্যদিকে ব্যয়ও কমছে৷

বিশাল মাত্রার পরিকল্পনা৷ চ্যালেঞ্জ তার থেকেও বড়৷ টেসলা কোম্পানির প্রধান এলন মাস্ক মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপন করতে চান৷ অ্যামাজন-এর প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস মোটা অঙ্কের ভাড়ার বিনিময়ে ‘ব্লু অরিজিন' যানে করে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদে যাত্রী পাঠাতে চান৷ ব্রিটেনের শিল্পপতি রিটার্ড ব্র্যানসন-ও মহাকাশে পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা করে তুলতে চান৷ ২ লক্ষ ডলারের বিনিময়ে তাঁর ‘ভার্জিন গ্যালাকটিক' যানে ৫ মিনিটের জন্য মাধ্যাকর্ষণহীনতার অভিজ্ঞতা অর্জন করা যাবে৷ এ সব স্বপ্ন কি নিছক পাগলামি ও অবাস্তব?

গিডো শ্ভারৎস তা মনে করেন না৷ মহাকাশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি সুইজারল্যান্ডে এক মহাকাশ মিউজিয়াম গড়ে তুলতে ব্যস্ত৷ এ সব কি অবাস্তব স্বপ্ন নয়, যে কাজে কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে? গিডো মনে করেন, ‘‘এই সব পরিকল্পনাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷ স্পেসএক্স-এর কথাই ভাবুন৷ ২০০২ সালে ৩০ জন কর্মী নিয়ে এলন মাস্ক এই কোম্পানি খুলেছিলেন৷ ২০০৮ সালেই সফল উৎক্ষেপণ ঘটলো৷ আজ কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭,০০০৷ এরই মধ্যে তারা ৪০টি রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

গত বছরের মার্চ মাসে স্পেসএক্স প্রথমবার মহাকাশে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট পাঠিয়েছিল৷ ফলে এক নতুন যুগের সূচনা হলো৷ এলন মাস্ক রকেটের নীচের দিকটা আবার পৃথিবীতে ফেরত পাঠিয়ে সেটি পুনর্ব্যবহার করছেন৷ ফলে মহাকাশ যাত্রার ব্যয় অনেক কমে যাবে৷

জেফ বেজস ও রিচার্ড ব্র্যানসনের কোম্পানিগুলিও পুনর্ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে৷ ব্যয়ের হিসেবের দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে৷

মার্কিন মহাকাশফেরির প্রত্যেক উৎক্ষেপণের ব্যয় ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার৷ ২০১১ সালে শেষবারের মতো এই যান মহাকাশযাত্রা করেছিল৷ ইউরোপের ‘আরিয়ানে ৫' রকেট উৎক্ষেপণের জন্য ২২ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হয়৷ অন্যদিকে স্পেসএক্স কোম্পানির ‘ফ্যালকন ৯' রকেট উৎক্ষেপণের ব্যয় ৬ কোটি ২০ লক্ষ ডলার৷

অর্থাৎ ব্যয়ের মাত্রা দুই-তৃতীয়াংশ কম৷ তা সত্ত্বেও রকেট উৎক্ষেপণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া৷ এলন মাস্ক এই অঙ্ক একশোভাগের এক ভাগে কমিয়ে আনতে চান৷ এই স্বপ্ন বাস্তবসম্মত কিনা, সেটি ভিন্ন বিষয়৷ কিন্তু এই ঘোষণার ফলে অ্যামেরিকা ও ইউরোপের রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির উপর অবশ্যই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে৷ গিডো শ্ভারৎস বলেন, ‘‘ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা আরিয়ানে ৬ রকেট তৈরির ঘোষণা করেছে৷ একমাত্র নতুন সংস্থাগুলির সস্তার রকেটের কারণেই তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে৷ আরিয়ানে ৫ যথেষ্ট নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে৷ কিন্তু তার আর্থিক ব্যয়ভারের কারণে আরও কম দামের এক রকেট তৈরি করা হয়েছে৷''

এই আর্থিক চাপ সুইজারল্যান্ডেও টের পাওয়া যাচ্ছে৷ সেখানকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কোম্পানি রুয়াগ স্পেস আরিয়ানে ৫ ও ৬ মডেলের রকেটের মুখ তৈরি করছে৷ কোম্পানির প্রধান জানালেন, যে আজকাল অর্ডার পেতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম মূল্য হাঁকতে হয়৷ কিন্তু মূল্যহ্রাসের ফলে নতুন বাজারও খুলে যাচ্ছে৷ কোম্পানির প্রধান পেটার গুগেনবাখ বলেন, ‘‘অনেক আগে আমরা শুধু ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতো শুধু রাষ্ট্রীয় গ্রাহকদের জন্য কাজ করতাম৷ আর আজ বাণিজ্যিক গ্রাহকদের অনুপাত ৫০ শতাংশ পেরিয়ে গেছে৷''

মহাকাশে ছুটি কাটাতে যাবেন? শুনলে কল্পবিজ্ঞান মনে হলেও ২০২১ সালে মহাকাশে প্রথম স্পেস হোটেল গড়ে তোলা হচ্ছে৷

ধনকুবেররা মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে৷ অতীতে মহাকাশযাত্রার আকাঙ্ক্ষা শুধু রাষ্ট্রীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল৷ আজ তা বেসরকারি কোম্পানিগুলির নাগালে এসে পড়েছে৷

কাটেরিনে টমেন/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন