হাঙরের জন্য হয়েছে অভায়াশ্রম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.01.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

হাঙরের জন্য হয়েছে অভায়াশ্রম

বান্দরবানের রোয়াংছড়ির সবুজ পাহাড়ের উপর বম জনজাতির এক গ্রাম৷ সেখানেই দেখা মিললো বিশেষ এক শুটকি মাছের৷ হাঙরের শুটকি৷

default

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বিক্রি হচ্ছে হাঙরের শুটকি

পাহাড়ের উপর সুন্দর ছিমছাম গ্রাম৷ নিচে একটি ছোট্ট বাজার৷ পাহাড়ের জুম থেকে সেখানে আসে সবুজ লকলকে আনাজপাতি৷

সবুজ পাহাড়ের কোলে রোয়াংছড়ি বাজারে কথা হলো দোকানি হরিহর দাসের সঙ্গে৷ তিনিই জানালেন, হাঙরের শুটকি বিক্রি লাভজনক৷ কক্সবাজার, মহেশখালি এবং কুয়াকাটার শুটকি পল্লিতে হাঙরের শুটকি তৈরি হচ্ছে৷ আর এই শুটকি সবই হাঙরের বাচ্চা৷ বঙ্গোপসাগর থেকে ধরে আনা হয় বাচ্চাগুলোকে৷ পাহাড়ি মানুষের কাছে এই শুটকির বেশ কদর৷

কেবল বাংলাদেশ বলছি কেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাঙরের পাখনা একটি জনপ্রিয় খাবার৷ আর তাই অনেক প্রজাতির হাঙরের জীবন আজ বিপদাপন্নের তালিকায়৷

হাঙর নিয়ে রয়েছে নানা ভয়ঙ্কর গল্প৷ মানুষের ভীতির কারণ বোধ হয় এই সব গল্পই৷ তবে শুনলে অবাক লাগবে যে বেশির ভাগ হাঙরই আচার আরচরণে বিপজ্জনক নয়৷

whale

বিশ্বে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির হাঙর রয়েছে

বলে রাখা ভালো, বিশ্বে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির হাঙর রয়েছে৷ আর বছরে ৭ কোটি ৩০ লাখ টন হাঙর ধরে এর পাখনা বিক্রি হচ্ছে বলেই জানাচ্ছে দ্য পাউ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠন৷

পালাও নামের সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্রের কথা আমরা সকলে জানি৷ প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রের একটি সংগঠন নিয়েছে নতুন এক পদক্ষেপ৷ তারা সমুদ্রের হাঙর প্রজাতির জন্য গড়ে তুলেছে অভায়াশ্রম৷ ডারমট কেয়ানো নামের এক আইরিশ নাগরিক এই অভয়াশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা৷ তিনি জানালেন, সেই ১৯৯৫ সালে তিনি যখন প্রথম এসেছিলেন এই দ্বীপে, তখন দেখেছেন ৫০ থেকে ৬০টি বড় নৌকায় জেলেরা কেবল ব্যস্ত থাকতো হাঙর ধরার কাজে৷ হাঙর ধরে তা কেটে টুকরো করার সময় সাগরের পানি হয়ে যেত লাল রক্তে রাঙা৷ এই দুর্দশা দেখে তিনি উদ্যোগ নেন হাঙর নিধন বন্ধের৷ সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে৷

তাঁদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে৷ ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পালাও দেশের সরকার তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমায় অর্থাৎ ৬ লাখ ৩০ হাজার বর্গ মাইল এলাকায় নিষিদ্ধ করেছে হাঙর নিধন৷ এই এলাকাকে ঘোষণা করা হয়েছে হাঙর অভয়াশ্রম হিসাবে৷ এখানে কেউ যদি হাঙর ধরে তবে তার বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা৷ ডারমট কেয়ানোর কথায়, ‘আসলে হাঙরই মানুষকে ভয় পায়৷' তিনি জানান, ‘সুন্দর এবং ভারসাম্যর প্রকৃতির জন্যই এই প্রজাতিকে রক্ষা করতে হবে৷'

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক