হাইস্পিড ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি | অন্বেষণ | DW | 02.08.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

হাইস্পিড ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

বিশ্বের অনেক দেশেই দ্রুতগতির ট্রেনের চাহিদা বাড়ছে৷ জার্মানি এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে৷ তবে এমন ট্রেনের নিরাপত্তা এবং উচ্চ মানের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি৷

দ্রুত গতির ট্রেনের পরীক্ষা চলছে৷ জার্মানির সিমেন্স কোম্পানি নতুন ইন্টার সিটি এক্সপ্রেসের ভেলারো মডেল কতটা শীত সহ্য করতে পারবে, তা জানতে তীব্র বাতাস ও তুষারঝড় সৃষ্টি করেছে৷ তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ এমন চরম পরিস্থিতিতে যন্ত্রপাতি বরফে জমে গিয়ে বিকল হয়ে পড়তে পারে৷ শীতকালে তখন ট্রেন আচমকা থেমে যাবার আশঙ্কা রয়েছে৷

কিন্তু এমন অবস্থায়ও ক্লাচ বিনা সমস্যায় খোলা বা বন্ধ করা যাচ্ছে৷ বরফের মতো ঠান্ডা বাতাসের ধাক্কা সত্ত্বেও এই পারফরমেন্স সত্যি বিস্ময়কর৷ ট্রেনের ভেতরেও পরিমাপ চালানো হচ্ছে৷ বাইরে যখন মাইনাস ২০ ডিগ্রি শীত অথবা ৪৫ ডিগ্রি উত্তাপ সৃষ্টি হয়, তখন যাত্রীরা শীতে জমে গেলে বা গরমে ঘামলে চলবে না৷ ইনফ্রারেড ক্যামেরার মাধ্যমে তাপমাত্রার তারতম্য মাপা হচ্ছে৷

ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন মডেল ভেলারো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী ‘সিরিজ প্রোডাকশন ট্রেন'৷ তবে এমন দ্রুত গতি ট্রেনের মেটিরিয়ালের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে৷ তাই নিয়মিত পরীক্ষা জীবন-মরণের বিষয়৷

কোনো চালু ট্রেন যখন প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ হলে প্রবেশ করে, তখন পরীক্ষা ও মেরামতির সব ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে৷ মিস্ত্রিরা সম্ভাব্য সমস্যা ও ত্রুটি সম্পর্কে আগেই খবর পান৷ স্বয়ংক্রিয় এক ওয়্যারলেস সিস্টেম সেই খবর পাঠায়৷

একইসঙ্গে ১২টি ট্রেন পরীক্ষা করা সম্ভব৷ কোনো ত্রুটি ধরা না পড়লেও চার দিন পর পর প্রতিটি ট্রেন পরীক্ষা করা হয়৷ বসার আসন বা দরজায় ত্রুটি থাকলে দ্রুত মেরামতি করা হয়৷ আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র নিয়ে প্রকৌশলীরা প্রত্যেকটি চাকা পরীক্ষা করেন৷ তার জন্য ভারি চাকাগুলি অনেক সময়ে তুলে ধরতে হয়৷ তাই চাকা খোলার প্রয়োজন হয় না৷ ফলে সময় বাঁচে৷ ১৫,০০০ ‘অপারেটিং আওয়ার' পরপর এই পরীক্ষা করা হয়৷ ছোটখাটো চিড় ধরেছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়৷ কারণ সেগুলি বিপজ্জনক হয়ে পড়তে পারে৷

একেবারে নিখুঁত পরীক্ষার জন্য চাকা জলে ডোবানো হয়৷ মাত্র দুই মিনিটে পরীক্ষা করা যায়৷ অতি সামান্য বা ক্ষুদ্র পরিবর্তনও শনাক্ত ও নথিবদ্ধ করা হয়৷ লেজার গানের মতো দেখতে হলেও এটিও একটি আলট্রা সাউন্ড যন্ত্র৷

গোটা অ্যাক্সিস-এর মধ্যে সেন্সরগুলি বসানো হয়৷ সেগুলি সামান্যতম তারতম্যও টের পায়৷ এটা জানা জরুরি, কারণ একটি অ্যাক্সিস ভেঙে গেলেও ট্রেন লাইনচ্যুত হতে পারে৷ তবে সৌভাগ্যবশত মাত্র দুই শতাংশ অ্যাক্সিস-এর মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়ে৷ সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি বদলে ফেলা হয়৷ ইঞ্জিনিয়ার ক্রিস্টিয়ান বর্নশাইন বলেন, ‘‘আমাদের মেনটেনেন্স সিস্টেমের ভিত্তিই হলো অপারেশানাল সেফটি৷ অর্থাৎ,প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা তাদের দৈনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জানতে পারেন, যে একমাত্র নিরাপদ ট্রেনগুলিই ছাড়পত্র পাবে৷ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ নিরাপদ হলে তবেই কারখানা ছেড়ে বেরোতে পারবে৷ যাত্রীদের আরাম বা কার্যকারিতার মতো বিষয় সেখানে নগণ্য৷''

জার্মানির রেলপথে প্রায় ২৬০টি আইসিই ট্রেন চালু আছে৷ তাদের সংখ্যা বাড়ছে৷ সে কারণেই সেগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও জরুরি হয়ে পড়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন