হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা | বিশ্ব | DW | 04.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর আদর্শিক পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারলেও হামলার ধরন দেখে তদন্ত চলছে৷ র‌্যাব বলছে, হত্যার উদ্দেশ্যেই জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়েছে৷ আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা ঘটনাগুলো ঘটায়, তারা ‘ধর্মান্ধ’৷

সিলেটে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয় ছুরি দিয়ে প্রকাশ্যে৷ তার মাথায় চারটি এবং পিঠে ও হাতে একটি করে আঘাতের চিহ্ন আছে৷ ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, জাফর ইকবাল এখন আশঙ্কামুক্ত এবং সুস্থ আছেন৷ তবে বাসায় ফিরতে কয়েকদিন লাগতে পারে৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(শাবিপ্রবি) ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফেস্টিভ্যাল চলছিল৷ এক পর্যায়ে বিকেল ৫.৩৫-এ ৫ মিনিটের বিরতি দেয়া হয়৷ ওই সময় জাফর ইকবাল মঞ্চেই ছিলেন৷

অডিও শুনুন 01:09
এখন লাইভ
01:09 মিনিট

‘আর আমার ওপর যে ছেলেটি হামলা করেছে সে কেমন আছে?’

বিরতি দেয়ার প্রথম মিনিটেই হামলার ঘটনা ঘটে৷ হামলাকারী আগে থেকেই মঞ্চে উঠে গিয়েছিল৷ সে জাফর ইকবালের পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল৷ মঞ্চে শিক্ষার্থীরা ছিলেন৷ মঞ্চের একদিকে চারজন পুলিশও ছিলেন। এ অবস্থার মধ্যেই জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়৷ হামলার মধ্যেই তাকে ধরে ফেলা হয়৷

এ বিষয়ে সিলেটের সাংবাদিক তুহিনুল হক বলেন, ‘‘মঞ্চে থাকা পুলিশ প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে হামলাকারী পালানোর লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে৷ তখন একজন পুলিশ কনেস্টবল তাকে ধরে ফেলে৷''

ডয়চে ভেলের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তুহিন আরো বলেন, ‘‘হামলার পর ড. জাফর ইকবালের জ্ঞান ছিল৷ তিনি এরপর মোবাইলেও কথা বলেন৷ তবে কিছুক্ষণ পর জ্ঞান হারান৷ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার জ্ঞান ফেরে৷ তখন তিনি বলেন, আমি ভাল আছি তোমরা চিন্তা কোরো না। আর আমার ওপর যে ছেলেটি হামলা করেছে সে কেমন আছে? তাকে তোমরা মারধোর কোরো না৷''

হামলাকারী যুবক ফয়জুর হাসান ওরফে ফয়জুল ওরফে শফিকুরকে আটকের পর পুলিশ তাকে সিলেট র‌্যাব-এর কাছে হস্তান্তর করে৷ এরপর র‌্যাব তাকে ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করে৷

তাকে এখন সিলেটেই জিজ্ঞাসাবদ করা হচ্ছে৷ সিলেট র‌্যাব ৯-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হামলাকারী গণপিটুটিনির শিকার হয়৷ তাই প্রথমে আমাদের কাজ ছিল তাকে সুস্থ করে তোলা৷ আমরা সিলেট সিএমএইচ-এ নিয়ে তাকে চিকৎসা দেই৷ কিছুটা স্টেবল হওয়ার পর আমরা তাকে অল্প সময়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করি৷ পরে আমরা তাকে আবার পুলিশের হাতে তুলে দিই৷''

অডিও শুনুন 02:43
এখন লাইভ
02:43 মিনিট

‘হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছে’

তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছে৷'' তিনি জানান, সে জঙ্গিবাদী ধারণায় উদ্বুদ্ধ

আরেক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কমান্ডার বলেন, ‘‘সে তার কোনো যোগাযোগের কথা স্বীকার করেনি৷ সে দাবি করেছে যে, বিভিন্ন বইপত্র পড়ে এবং ইউটিউবে অনেক প্রোগ্রাম দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছে৷''

আলী হায়দার আরো বলেন, ‘‘হামলাকারী বেশকিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিয়েছে৷ সে তার নাম ও গ্রামের বাড়ির ঠিকানা একেক সময় একেক রকম বলেছে৷ পরে অবশ্য আমরা তার ঠিকানা নিশ্চিত হয়েছি৷''

অধ্যাপক জাফর ইকবালকে এর আগে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে৷ ২০১৫ সালের মে মাসে অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ দেশের ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেয় আনসার উল্লাহ বাংলা টিম-১৩৷ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩ গ্রুপের পাঠানো চিঠিতে বলা হয় ‘মাস্ট উইল প্রিপেয়ার ফর ডেথ'৷

২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর স্ত্রীসহ জাফর ইকবালকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়৷ এ ঘটনায় সিলেটের জালালবাদ থানায় ১৫ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি৷

হুমকি পাওয়ার দিন স্ত্রীসহ ঢাকায় বনানীর ডিওএইচএসে অবস্থান করছিলেন৷ ওইদিন রাত সোয়া ১২টায় ইয়াসমিন হকের মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে৷ এসএমএসে লেখা হয় ‘welcome to our new top list! Your breath may stop at anytime. abt.' (আমাদের নতুন শীর্ষ তালিকায় স্বাগতম, যে কোনো সময়ে আপনার জীবনের ইতি ঘটতে পারে৷)

অডিও শুনুন 02:09
এখন লাইভ
02:09 মিনিট

‘তারা হামলা করে জানান দিতে চায় এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়’

পরে রাত আড়াইটায় জাফর ইকবালের মোবাইল ফোনেও একটি এসএমএস আসে। সেখানেও তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়৷

বাংলাদেশি জঙ্গিবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার এ পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে আমরা মনে হয় এটা সারাবিশ্বে জঙ্গিদের একাকি হামলার যে নতুন ট্রেন্ড সেরকমই৷ এরা সাধারণত নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হয়৷''

নূর খান আরো বলেন, ‘‘তাদের কোনো লিংক থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে৷ সে যে উগ্রবাদী তাতে কেনো সন্দেহ নেই৷ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সে আইএস না আল-কায়েদার ভাবধারার অনুসারী৷ সেটা আসলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জানা যাবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এই ধরনের ছোট ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার কারণ হলো, তারা মনে করে এতে হামলা সহজ হয় এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে৷ আর প্রকাশ্যে হামলার কারণ হল, তারা হামলা করে জানান দিতে চায় এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়৷ তারা যে কোনো পরিবেশে যেকোনো অবস্থায় হামলা করতে পারে৷''

Sheikh Hasina

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি

হামলাকারী ফয়জুলের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন গ্রামে৷ ফয়জুল স্থানীয় ধল মাদ্রাসায় প্রথমে শিক্ষাজীবন শুরু করে৷ পরে সে সিলেটের বিভিন্ন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে৷ তিন ভাইয়ের মধ্যে ফয়জুল ও তার এক ভাই সিলেটে থাকে৷ অন্য ভাই প্রবাসী৷ তার বাবা এলাকায় মাওলানা হিসেবে পরিচিত৷

পুলিশ সিলেটে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তারা মামাসহ তিনজনকে আটক করেছে৷ তার মামা ফজলুল রহমান সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে গেছে৷

এদিকে, এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এই ঘটনাগুলো ঘটায়, তারা ‘ধর্মান্ধ’ এবং ভুল ধারণার বশবর্তী৷ 

রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘যারা এই ঘটনাগুলো ঘটায়, তারা মনে করে, একটা মানুষ খুন করলেই বুঝি তারা বেহেশতে চলে যাবে৷’’ 

তিনি সন্তানদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে দূরে রেখে সচেতন করে গড়ে তুলতে অভিভাবক-শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান৷

এদিকে, ঘটনায় ধৃত ফয়জুলসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শাবি প্রশাসন৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন