হজে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির দায়ে মেহেরপুরের মন্টু গ্রেপ্তার | বিশ্ব | DW | 28.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

হজে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির দায়ে মেহেরপুরের মন্টু গ্রেপ্তার

মেহেরপুরের মতিয়ার রহমান মন্টু এক সময় ‘দুর্ধর্ষ ডাকাত' ছিলেন৷ ‘বোমায়' দুই হাত হারানোর পর ‘আন্তর্জাতিক ভিক্ষুক' বনে যান৷ মন্টুকে এবার হজের সময় ভিক্ষাবৃত্তির দায়ে গ্রেপ্তার করেছে মদিনার পুলিশ৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গাংনি উপজেলার সিন্দুরকোটা গ্রামের মানুষ জানে, ৫৮ বছর বয়সি মন্টু ভিক্ষা করতে বহুবার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারতে গেছেন৷ আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, গ্রামে কিছু না করলেও বিঘা-বিঘা সম্পত্তির মালিক তিনি৷  

মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে ভাটাপাড়ায় মন্টুর সংসার৷ স্ত্রী স্বীকার করেছেন, তার স্বামী একাধিকবার ভারত ও সৌদি আরবে গেছেন৷ করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই বছর তিনি যেতে পারেননি৷ তবে সৌদি আরব গিয়ে তার স্বামী কী করেন তা বলতে পারেননি তিনি৷ ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, ‘‘বছর বিশেক আগেও মন্টু ডাকাতি করতেন৷ বোমার আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি উড়ে যায়৷ 

গ্রামে মন্টু কিছুই করেন না৷ অথচ প্রতিবছর পাঁচ-সাত লাখ টাকা ব্যয় করে হজ ভিসায় সৌদি আরবে যান৷ সেখানে ভিক্ষা করে অনেক টাকা আয় করেন৷’’ 

সোহেল আহমেদ আরও বলেন, ‘‘হাত হারানোর পর তিনি বিদেশে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন৷ প্রতিবার গ্রামে ফিরে প্রথমে জমি কেনেন৷ এভাবে ৩৫-৪০ বিঘা জমি তিনি কিনেছেন৷”

ভিক্ষাবৃত্তির দায়ে ২২ জুন মদিনায় গ্রেপ্তার হওয়া মতিয়ারকে বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মীরা থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন৷  মতিয়ার সৌদি আরবে যান ধানসিঁড়ি ট্র্যাভেল এয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে৷ গত ২৫ জুন ওই এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়৷

মন্ত্রণালয়েরর উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠি স্থানীয় উপজেলার প্রশাসনকেও পাঠানো হয়েছে৷ প্রশাসনের মাধ্যমে সেই চিঠি গেছে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে৷ উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘এরই মধ্যে এ ব্যাপারে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে৷ দেশে ফিরলেই তাকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়৷ তাকে যে এজেন্সি পাঠিয়েছে তাদের নিবন্ধনও বাতিল করা হবে৷”

ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, ‘‘ইউএনওর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে পুরো বিষয়টি আমি জানতে পারি৷ হজের নামে মদিনা শরীফে ভিক্ষার ঘটনা দেশের জন্য এবং আমাদের জন্য খুবই লজ্জার৷ তার পাসপোর্ট অনুসন্ধান করলে প্রমাণিত হবে তিনি আন্তজার্তিক ভিক্ষুক৷ তিনি আইনপ্রযোগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ভিক্ষা করতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ঘুরে বেড়ান৷’’ 

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী খানমও মনে করেন, মতিয়ার রহমান মন্টু দেশের ‘ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন'৷ এ ঘটনায় বাংলাদেশের সরকারকে বিব্রত হতে হয়েছে৷

তিনি বলেন, ‘‘মন্টু সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছি৷ যেহেতু হজ ভিসায় গেছে, তাই হজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব না৷ তবে দেশে এলে তার বিরুদ্ধে আইনগত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ ”

সিন্দুরকোটা গ্রামের কেউ কেউ মতিয়ার রহমানকে ‘বোমা মন্টু' বলেন৷ কয়েকজন মন্টুর গবাদিপশুর ব্যবসা থাকার কথা জানালেন৷ 

মটমুড়ার ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, ‘‘মন্টু অনেকবার হজ ভিসায় সৌদি আরব গেছে৷ তবে গ্রামে কখনও তাকে নামাজ পড়তে দেখিনি৷’’ 

গ্রামের চা দোকানদার হোসেন খন্দকারের দাবি, মন্টু হজে গেছেন ‘১২/১৪ বার'৷ তিনিও বললেন, সৌদিতে ভিক্ষা করে ‘বিপুল অর্থ এনে সম্পদ গড়েছেন' ওই ব্যক্তি৷ 

দুই হাত না থাকলেও মন্টু নিজের সব কাজ নিজেই করতে পারেন বলে জানালেন তার স্ত্রী মমতাজ পারভীন৷ সর্বশেষ ২১ জুন স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে তার৷

‘‘তখন তিনি বলেছেন, ‘ভালো আছি, হজ শেষে চলে আসব'৷ ওইদিনের পর থেকে উনার মোবাইল বন্ধ৷ আর যোগাযোগ করা যায়নি৷ ’’

মমতাজ বলেন, ‘‘ভারতে উনি প্রায়ই যান৷ অনেকবার সৌদি আরবে গেছেন হজে৷ বিদেশে গিয়ে উনি কী করেন তা আমি জানি না৷ ’’

মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল জেলা হাজি সমিতিরও সভাপতি৷ তিনি বলেন, ‘‘হজের নামে সেখানে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করা হাজিদের জন্য খুবই লজ্জার ও নিন্দার৷ এমন দু-একজনের অপকর্মের কারণে ভবিষ্যতে হজ ভিসা প্রাপ্তি জটিল হয়ে গেলে সেটাও দুঃখজনক হবে৷ তাই হাবকে এই বিষয়ে আরও সর্তক হতে হবে৷’’ 

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)   

নির্বাচিত প্রতিবেদন