হজের ভরতুকি বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত কতটা সংগত? | বিশ্ব | DW | 20.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

হজের ভরতুকি বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত কতটা সংগত?

হজের ভরতুকি তুলে দেবার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মোদী সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি৷ তোষণ নীতির বদলে সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন এবং মর্যাদা রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি৷

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে বার্ষিক হজ যাত্রার ভরতুকি ধাপে ধাপে তুলে দেবার কথা ঘোষণা করেছে মোদী সরকার৷ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০২২ সালের মধ্যে তা তুলে দিতে হবে৷ কিন্তু মোদী সরকার তার চার বছর আগেই তা তুলে দেবার কথা ঘোষণা করেন৷ সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, তোষণ না করে মর্যাদার সঙ্গে সংখ্যালঘু বিকাশই মোদী সরকারের লক্ষ্য৷ এই ভরতুকি তুলে নিলে যে টাকাটা বাঁচবে, তা খরচ করা হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে কন্যা সন্তানের শিক্ষা তথা কল্যাণ খাতে৷

মুসলিমদের কল্যাণে সরকারের দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে সরকার৷ হজ যাত্রার ভরতুকি বাবদ সরকারি তহবিল থেকে খরচ হয় বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা৷ এরমধ্যে আছে প্রতি হজযাত্রী পিছু রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ায় যাতায়াতের বিমান ভাড়া৷ হজ কমিটির ফি এবং মক্কা ও মদিনায় থাকার ঘরভাড়া মিলিয়ে দুই লাখ ২১ হাজার টাকা৷

২০১২ সালে কংগ্রেস জোট সরকারের আমলেই সুপ্রিম কোর্টের মুসলিম বিচারপতি আফতাব আলমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল ১০ বছরের মধ্যেই হজযাত্রার ভরতুকি ধাপে ধাপে তুলে নিতে হবে৷ সেটাই কার্যকর করতে সরকারের এই পদক্ষেপ৷ কিন্তু মোদী সরকার ভরতুকি তুলে নেবার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, এমটাই অভিযোগ বিরোধীদের৷ শুরু হয়েছে এর পক্ষে বিপক্ষে চাপান-উতোর৷

কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের অভিযোগ, ‘সংখ্যালঘুদের তোষণের রাজনীতি করি না' বলে মোদী সরকার যেভাবে ঢাক পেটাচ্ছে, তা সংগত নয়৷ হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য কি সরকার ভরতুকি দিচ্ছে? তাহলে সেটা কি হিন্দু তোষণ কিংবা ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতির পর্যায়ে পড়ে না? মুসলিমদের হজ যাত্রার জন্য ভরতুকি দেওয়াটা কোনদিক থেকে অসাংবিধানিক?

হায়দ্রাবাদের এআইএমআইএমের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েসি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নীতিগতভাবে তিনি হজ ভরতুকি তুলে দেবার পক্ষপাতি, কিন্তু সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সেটা প্রয়োজ্য হবে৷ হজ তীর্থযাত্রীদের ক্ষেত্রে তুলে দেওয়া হলে মানস সরোবরের ক্ষেত্রে তা নয় কেন তবে কোনো কোনো মুসলিম সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে৷ লক্ষ্নৌ-এর মওলানা খালিদ রসিদ ফারাঙ্গি মনে করেন, ভরতুকি তুলে দিয়ে বিমান ভাড়া ইত্যাদির জন্য টেন্ডার ডাকা উচিত৷ এতে সব বিমান সংস্থাই যোগ দিতে পারবে এবং ভাড়া কমতে সাহায্য হবে৷

অডিও শুনুন 01:56
এখন লাইভ
01:56 মিনিট

‘একটা ভয়ের বা আতঙ্কের পরিমন্ডল সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ এটার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি’

তামিলনাড়ু রাজ্যের এআইএডিএমকে সরকার কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, কেন্দ্রের উচিত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা৷ রাজ্যের অপর দল ডিএমকে দলের নেতা এম.কে স্টালিনের মতে, মোদী সরকার ধর্ম নিরপেক্ষতার সাংবিধানিক শর্ত থেকে বিচ্যুত হচ্ছে৷ দ্বিতীয়ত, সরকার তো গোটা দেশে বিভিন্ন অনুদান বা ভরতুকি দিয়ে থাকে৷ হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য ভরতুকি অন্যতম৷ যেমন, প্রতিবছর অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের পরিষেবার জন্য সরকার খরচ করে থাকে ১০ কোটি টাকা৷ কেরালা সরকার ত্রিভাঙ্কুর দেবস্থানমের জন্য রাজ্য সরকার সরকারী কোষাগার থেকে প্রতি বছর খরচ করে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা৷ গত বছর কর্নাটকে  চার্চের জন্য রাজ্য সরকার দিয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা৷ উত্তরপ্রদেশের আদিত্য নাথের বিজেপি সরকার কাশী, মথুরা ও অযোধ্যার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছে ৮০০ কোটি টাকা৷ তাহলে সেগুলো তুলে দেওয়া হচ্ছে না কেন, জানতে চান তিনি৷

এ বিষয়ে উত্তবঙ্গের নজরুল হাফেজ, যিনি ‘হাজি সাহেব' নামে পরিচিত, তাঁর কাছে মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‘হজ সাবসিডি উঠে যাবে বা তুলে দেওয়া হবে, এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়৷ কারণ, আমাদের কোরানেও আছে, যার টাকা আছে সে-ই হজে যাবে৷ আসলে একের পর এক টার্গেট করা হচ্ছে আমাদেরই৷ তা সে তিন তালাক হোক বা হজ ভরতুকি হোক৷ একটা নন-ইস্যুকে যে ইস্যু করা হচ্ছে, ভয়টা এখানেই৷ একটা ভয়ের বা আতঙ্কের পরিমন্ডল সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ এটার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি৷''  হাজি সাহেবের মতে, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, ১০ বছরের মধ্যে, কিন্তু মোদী সরকার চার বছর আগেই তা করতে চাইছেন৷ এত তাড়াহুড়ো করার দরকার কি ছিল? অহেতুক একটা ভীতি সৃষ্টি করা?

ভরতুকির টাকাটা খরচ করা হবে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষা খাতে৷ বেশ ভালো কথা৷ আমরা অপেক্ষা করবো৷ কিন্তু গলদটা রয়ে যাচ্ছে ভুল সিস্টেম বা পদ্ধতিতে৷ তোমাদের এটা দেব না, ওটা দেব না৷ কোথায় যেন মনে হচ্ছে একটা রাজনীতি কাজ করছে৷''

হিন্দুদের তীর্থযাত্রায় ভরতুকি প্রসঙ্গে হাজি সাহেব ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘মোদ্দা কথা, যাঁদের হজে যাবার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাঁরা হজে যাবেন না৷ সরকারী ভরতুকি নিয়ে হজে যেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই৷ হিন্দু তীর্থ অমরনাথ যাত্রায় ভরতুকি তুলে নেওয়া হোক, এমন কথা আমরা বলবো না৷ সেটা যাঁদের ভাবার কথা তাঁরা ভাববেন৷ আমরা দুই ধর্মের মানুষই মিলে মিশে থাকি আমাদের এখানে৷ ভালো লাগে থাকতে৷ গর্ববোধ করি৷ হিন্দুদের বিয়ে-শাদি এমন কি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও আমরা নিমত্রণ পাই৷ আমরা যাই৷ অনর্থক ভুল বোঝাবুঝি চাই না৷''

এ বিষয়ে আপনার কোন মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়