সড়কে নতুন আতঙ্ক মোটরসাইকেল | বাংলাদেশ | DW | 03.04.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সড়কে নতুন আতঙ্ক মোটরসাইকেল

বাংলাদেশে অনিরাপদ সড়ক আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে৷ আর এজন্য এখন দায়ী করা হচ্ছে মোটরসাইকেলকে৷ ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক ও সড়ক ব্যবস্থাপনার সংকট তো রয়েছেই৷ নিরাপদ সড়ক আইন কাগজে থাকলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন৷

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশে রীতিমতো গণআন্দোলনের নজির থাকলেও সেই আন্দোলনের কোনো সুফল পায়নি দেশের মানুষ৷ সড়ক মহাসড়কে এখনও মৃত্যুর মিছিল চলছে৷ গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আসেনি, অনুমোদনহীন যানবাহন রাস্তায় নামছে প্রতিদিনই৷

এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার শীর্ষ কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মোটরসাইকেল৷ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব বলছে মার্চে সারা দেশে ৫৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫৭৯ জন৷ এর মধ্যে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটানাতেই মারা গেছেন ২২১ জন৷ শতকরা হিসাবে মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৩৭.৫২ ভাগই মারা গেছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়৷

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, ‘‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এই মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে৷ মোটরসাইকেল যারা চালান তাদের বড় একটি অংশ কিশোর- তরুণ৷ এরা বেপরোয়া , ট্রাফিক আইন জানে না বা মানে না৷ অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই৷ যাদের আছে তারাও যোগ্য নয়৷ তারা নিজেরা যেমন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, তেমনি অন্যরা তাদের শিকারে পরিণত হচ্ছে৷ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যারা মারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই ১৪ ধেকে ৪০ বছর বয়সী৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘যানজটের কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে৷ গ্রামগঞ্জে এটা চালাতে লাইসেন্স লাগে না, হেলমেট লাগে না৷ অন্যান্য দেশে মোটরসাইকেল নিরুৎসাহিত করা হয়৷ আর আমাদের এখানে উৎসাহিত করা হয় ৷ কিস্তিতেও মোটরসাইকেল পাওয়া যায়৷ কিন্তু এটা অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ৷”

যানজটের কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে: সাইদুর রহমান

একই ধরনের কথা বলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন৷ তিনি বলেন, ‘‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মোটরসাইকেল আরোহী যে ছাত্রীটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মারা গেলেন, তার পরিবারও তাকে মোটরসাইকেল (স্কুটি) চালাতে নিষেধ করেছিল৷ কিন্তু গণপরিবহণের সংকট ও ট্রাফিক জ্যামের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল চালাতে বাধ্য হচ্ছে৷ বিআরটিএ'র উচিত যারা চালাতে পারে তাদের লাইসেন্স দেয়া৷”

বিআরটিএর কাছে দেশে কত মোটরসাইকেল চলে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই৷ তবে রেজিস্টার্ড মোটরসাইকেল হিসাব আছে বলে জানান বিআরটিএর রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী৷ তিনি বলেন, ‘‘মোটরসাইকেল মানুষ এখন বেশি ব্যবহার করছে, তাই দুর্ঘটনাও বেশি ঘটছে৷ মোটরসাইকেলে মুভমেন্ট বেড়ে গেছে৷”

তবে ভারি যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে এখনো তার অবস্থান বজায় রেখেছে৷ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘‘ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও আমরা ধারণা করি বাংলাদেশে যে যানবাহন চলাচল করে তার শতকরা ৫০ ভাগের কোনো নিবন্ধন ও ফিটনেস নাই৷ আর সমপরিমাণ চালকের হাতে লাইসেন্স নাই৷ যে ৫০ ভাগের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে তারা যে সবাই যোগ্য তা নয়৷ তারা নানা অবৈধ উপায়ে লাইসেন্স জোগাড় করেছে৷ ফলে দুই দিক দিয়েই সড়ক-মহাসড়ক মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে৷”

সাইদুর রহমান বলেন, ‘‘চালকদের অধিকাংশই শারীরিকভাবে গাড়ি চালানোর যোগ্য নয়৷ আর ফিটনেস পাওয়া যানবাহনের বড় একটি অংশের বাস্তবে ফিটনেস নাই৷ অনেক গণপরিবহণ, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান নকশার বাইরে গিয়ে বড় করা হয়েছে৷”

লাইসেন্সবিহীন চালক কত আছে তার হিসাব আমাদের কাছে নাই: শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘‘আসলে আমরা যতই বলি, কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না,মনিটরিং ব্যবস্থা নেই৷ ফলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না৷ সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই৷ কোনো একটা স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটলে তখন আমরা হইচই করি৷”

২০১৯ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকার গণপরিবহণ নিয়ে একটি জরিপ করা হয়৷ তাতে দেখা যায় ৩৩ ভাগ বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই৷

বিআরটিএর রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রাব্বানী ফিটনেস বিহীন যানবাহনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘‘অনেক গাড়ি আছে কাগজপত্র ছাড়া চলাচল করে৷ অনেক থ্রি-হুইলার আছে যার কোনো কাগজপত্র নাই৷ আর দেশে লাইসেন্সধারী চালক কত আছে তার হিসাব থাকলেও লাইসেন্সবিহীন কত আছে তার হিসাব আমাদের কাছে নাই৷ তবে তার সংখ্যা কম হবে না৷”

তিনি মনে করেন এখন মহাসড়কেও মটর সাইকেল চলছে বলেই ঝুঁকির মাত্রা আরো বেড়ে গেছে৷