সৎকারে নারাজ পরিবার, দায় পুরসভার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 01.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সৎকারে নারাজ পরিবার, দায় পুরসভার

প্রিয়জনের মৃতদেহ অচ্ছুৎ হয়ে উঠছে পরিবারের কাছেই৷ করোনায় মৃত্যু না হলেও দেহ হাসপাতালে রেখেই বিদায় নিচ্ছেন অনেকে৷ সৎকারের ঝামেলার পাশাপাশি তাড়া করে বেড়াচ্ছে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ও৷

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের৷ সবচেয়ে বেশি মৃত্যু উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতায়৷ করোনা ছাড়াও অন্যান্য কারণে অনেকে মারা যাচ্ছেন৷ কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে অনেক রোগী মহানগরের হাসপাতালে ভর্তি হন৷ সেখানে যাঁদের মৃত্যু হয়, তাঁদের দেহ পরিবারের সদস্যরা নিজ এলাকায় নিয়ে গিয়ে সৎকার করেন৷ করোনার আবহে এই চিরাচরিত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে৷ শুধু করোনা নয়, অন্য কোনো রোগে মৃত ব্যক্তির দেহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাচ্ছেন না৷ হয় মৃত্যুর পর নীরবে সরে পড়ছেন অথবা হাসপাতালের কাছে মুচলেকা দিয়ে যাচ্ছেন, এই দেহ সৎকারে সরকার বা পুরসভা উদ্যোগ নিলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই৷ এই প্রবণতার ফলে সমস্যায় পড়েছে কলকাতা পুরসভা৷ পুর এলাকার অধীন বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড ছাড়া অন্য রোগে যে রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে, তাঁদের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে পুরসভাকে৷ এর ফলে শবদাহ করার চাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে৷

কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নিজেই তথ্য দিয়েছেন, দেহ অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা রেখে চলে যাচ্ছেন বলে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি শব সৎকারের দায়িত্ব এসে পড়ছে পুরসভার ঘাড়ে৷ পুরসভার বর্তমান পরিকাঠামো অনুযায়ী এই সংখ্যাটা যথেষ্ট৷ অথচ সাধারণ রোগে মৃত ব্যক্তির দেহ নিয়ে যেতে পরিবারের সংক্রমণজনিত সমস্যা থাকার কথা নয়৷ দাহ করার সময় করোনায় মৃতের মতো বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করার দরকার নেই৷ তা সত্ত্বেও কেন প্রিয়জনের দেহ রেখে মুচলেকা দিয়ে চলে যাচ্ছেন অনেকে?

অডিও শুনুন 03:55

মানবিকতার এই পতন একদিনে হয়নি: সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

এই প্রশ্ন থেকেই উঠে আসছে আরো বড় সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিত৷ করোনা আবহে নানা সন্দেহ ও সংশয় ঘিরে রেখেছে মানুষকে৷ সব সময় একটা আতঙ্ক তাড়া করছে৷ এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে করোনায় মৃত্যু না হলেও পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে৷ সমস্যা তৈরি হয়েছে দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে৷ তাই অনেক পরিবার ইচ্ছার বিরুদ্ধেও প্রিয়জনের দেহ হাসপাতালে রেখে চলে যাচ্ছেন৷ সার্বিকভাবে এই পরিস্থিতির জন্য বাঙালির অধঃপতনকে দায়ী করছেন অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের হৃদয় শুকিয়ে গিয়েছে৷ ১৯০৬ সালে প্লেগে অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷ কিন্তু তখন বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ছিলেন৷ আর এখন আতঙ্ক যেন উল্লাসে পর্যবসিত হয়েছে৷’’ এই পরিস্থিতির জন্য সংবাদমাধ্যমকে অনেকটা দায়ী করে তিনি বলেন, ‘‘মানবিকতার এই পতন একদিনে হয়নি৷ ধীরে ধীরে একটা সুখী ও আত্মতৃপ্ত গোষ্ঠী পলায়নমুখ হয়েছে৷ বিদ্যাসাগরের জন্মের ২০০ বছরে বাঙালির এই পরিণতি নির্মম নিয়তির মতো৷’’

মানুষ সত্যি কতটা অসহায় আর কতটা পলায়নমুখ, তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে৷ তবে বর্তমান ঘটনাক্রমে এটা পরিষ্কার, করোনার দাপট শুরু হওয়ার পর চার মাস কেটে গেলেও জনসচেতনতা সেভাবে গড়ে ওঠেনি৷ সামাজিক দূরত্বের বার্তা প্রচার করা হয়েছে, কিন্তু আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সহমর্মিতায় ঘাটতি থেকে গিয়েছে৷ ইতিমধ্যে পুরসভা দেহ সৎকারের চাপ সামলাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে৷ নতুন পাঁচটি শববাহী গাড়ি কেনা হচ্ছে৷ বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কেনা হয়েছে ‘প্রণাম’ নামে একটি গাড়ি, যাতে সাতটি দেহ একসঙ্গে বহন করা যাবে৷ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় দেহ পরিবহণের সুবিধা রয়েছে এই গাড়িতে৷ এছাড়া মৃতদেহ বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে থাকলে এবার থেকে সরাসরি জানানো যাবে পুর প্রশাসককে৷ এজন্য ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি বার্তা পাঠানো যাবে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে৷ সম্প্রতি বেকবাগান, আমহার্স্ট স্ট্রিট, বেহালায় দীর্ঘক্ষণ দেহ পড়ে থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন৷ এই অভিযোগ আর উঠুক, এমনটা চাইছে না কলকাতা পুরসভা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন