স্মার্টফোনের পর আসছে অগমেন্টেড রিয়ালিটি? | অন্বেষণ | DW | 20.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

স্মার্টফোনের পর আসছে অগমেন্টেড রিয়ালিটি?

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, অগমেন্টেড রিয়ালিটির মতো প্রযুক্তি আজ আর কল্পবিজ্ঞান নেই৷ মোবাইল ফোন আর উপযুক্ত চশমার সাহায্যেই বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতে উঁকি মারা যায়৷ তবে এই প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনার এখনো সদ্ব্যবহার হচ্ছে না৷

গুগল ভার্চুয়াল রিয়ালিটির বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে৷ একাধিক টিম এ নিয়ে কাজ করছে৷ ভার্চুয়াল রিয়ালটি হেডসেট ও তার সঙ্গে মানানসই কন্ট্রোলারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিখ্যাত ‘গুগল আর্থ' মানচিত্রের ভিন্ন স্বাদ পেতে পারেন৷ গোটা বিশ্বের থ্রিডি রূপ হাতের নাগালে এসে পড়ে৷

সুইজারল্যান্ডের ডোমিনিক ক্যেসার এই প্রকল্পের কর্ণধার৷ কম্পিউটার গ্রাফিক্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগল আর্থ ভিআর ডেভেলপর টিমের প্রধান৷ উচ্চতা সম্পর্কে ভীতি না থাকলে আপনি ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগতে নিউ ইয়র্কে ব্যাটম্যানের মতো উঁচু বাড়ি থেকে লাফ মারতে পারবেন, নীচে উঁকি মেরে পথঘাট দেখতে পারবেন৷

কিন্তু এ সব করার প্রয়োজন কী? ডোমিনিক ক্যেসার বলেন, ‘‘আমাদের ধারণা, ভিআর বিশাল মাত্রা নিতে চলেছে৷ আজ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের যত প্রভাব, ভবিষ্যতে ভিআর তেমনই হবে৷ এর ফলে যে সব সুযোগ-সম্ভাবনা খুলে যাচ্ছে, আমরা তা খতিয়ে দেখবো৷ গুগল গোটা বিশ্বের ব্যবহারকারীদের কাছে তথ্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ব্রত নিয়েছে৷ এক্ষেত্রে ভিআর-এর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে৷'' 

অতীতে ক্যেসার হলিউডে পিক্সার স্টুডিওতে কাজ করতেন৷ অভিজ্ঞতার মর্ম কী, তা তিনি জানেন৷ ডোমিনিক বলেন, ‘‘আগে যখন ক্যালিফোর্নিয়ায় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য কাজ করতাম, তখন কাহিনি শোনাতে ও ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করতে আলো, রং, শব্দ ও অ্যানিমেশন কাজে লাগাতাম৷ মানুষ তাতে ডুবে যেতে পারতো৷''

ফেসবুকও ভিআর-এর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে৷ তারা ভিআর চশমা প্রস্তুতকারক কোম্পানি ওকুলাস কিনে নিয়েছে৷ ভিআর নতুন মাত্রা সৃষ্টি করছে এবং ভবিষ্যতে এটি কম্পিউটারের মনিটরের জায়গা দখল করতে পারে৷ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক সাকারবার্গ এ ক্ষেত্রে বড় পরিকল্পনা করছেন৷ ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর জন্য ভার্চুয়াল রিয়ালিটি৷

মানুষ ভার্চুয়াল জগতের এই প্রযুক্তি গ্রহণ করবে কিনা, ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত গবেষক ও থিংক ট্যাংক ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা স্টেফান সিগরিস্ট সে বিষয়ে নিশ্চিত নন৷ তবে প্রায় সব প্রধান কোম্পানি ভিআর নিতে মেতে ওঠায় কিছু পরিবর্তন হবে বলে তাঁর ধারণা৷ সিগরিস্ট বলেন, ‘‘এই সব কোম্পানি এই বাজারে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালছে৷ পরবর্তী বড় উদ্ভাবন বাজারে আনতে তারা প্রবল চাপের মুখে রয়েছে৷ সবাই অপেক্ষা করে রয়েছে৷ স্মার্টফোন দিয়ে আর কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটছে না৷ ভিআর-কে ঘিরে বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে৷ অনেক চাপ, অর্থ ও উদ্ভাবনী শক্তির ধাক্কায় এই প্রযুক্তি এগিয়ে যাবে, এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকা যায়৷ কিন্তু এই প্রযুক্তি মানুষের কতটা কাজে লাগবে, তারা সেটা গ্রহণ করবে কিনা, শেষ পর্যন্ত সেটাই আসল প্রশ্ন৷ ব্যবহারকারীরা প্রয়োগ করলে তবেই সেটাকে উদ্ভাবন বলা চলে৷''

পোকেমন গো-র মতো গেমে কিছুকাল ধরে তথাকথিত ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি' প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ অর্থাৎ মানুষ তার বাস্তব পরিবেশে থেকেই ভার্চুয়াল বস্তু নাড়াচাড়া করতে পারে৷ শুধু গেমসের ক্ষেত্রেই বিষয়টি আকর্ষণীয় নয়৷

সুইজারল্যান্ডের ব্যুলার কোম্পানি এর মধ্যেই ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি' নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে৷ কোম্পানির কর্মী বুয়র্কহার্ড ব্যোন্ডেল তথাকথিত ‘হলোলেন্স' চশমা পরে আছেন৷ তার মাধ্যমে বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব৷

ব্যুলার কোম্পানি যে রোল মেশিন তৈরি করে, তার ভার্চুয়াল মডেল তৈরি করা সম্ভব৷ চোখের সামনে তার ত্রিমাত্রিক প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে৷ সেই মডেল প্রায় হাতেনাতে পরীক্ষা করা সম্ভব৷ এমনকি কনট্রোলার ও আঙুলের ইঙ্গিতে ভার্চুয়াল বস্তুটি চালানো যায়৷ ফলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাচ্ছে৷ কোম্পানির প্রতিনিধি বুয়র্কহার্ড ব্যোন্ডেল বলেন, ‘‘যেমন প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়৷ বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের সমন্বয়ে আমরা শিক্ষানবিসদের একেবারে অন্যভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারি৷ শিক্ষাক্রম একেবারে অন্যভাবে তুলে ধরতে পারি৷ সব যন্ত্র নিয়ে বাণিজ্যমেলায় যাবার প্রয়োজন থাকবে না৷ ভালো করে ভেবেচিন্তে স্থির করতে পারি, কোন বস্তুটা বাস্তবে, কোনটা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেখাতে চাই৷ এই সম্ভাবনার সব দিক সবে বুঝতে শুরু করেছি৷''

এখনো সবকিছু পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে৷ ‘অগমেন্টেড রিয়ালিটি'-র মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে৷ হালের মোবাইল ফোনের মধ্যে এআর-কিট আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে, যা দিয়ে ভার্চুয়াল, ইন্টারঅ্যাক্টিভ জগতে প্রবেশ করা যায়৷

ক্রিস্টিয়ান বাখমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন