স্বয়ংক্রিয় গাড়ির হ্যাকিং রুখতে তৎপর বিজ্ঞানীরা | অন্বেষণ | DW | 02.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

স্বয়ংক্রিয় গাড়ির হ্যাকিং রুখতে তৎপর বিজ্ঞানীরা

ভবিষ্যতে অনেক যানবাহন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে৷ এখনই আংশিক স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ কিন্তু সিস্টেম হ্যাক করে সেই প্রণালীকে বিভ্রান্ত করলে মারাত্মক বিপদ দেখা দিতে পারে৷

 বিজ্ঞানীরা সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বংয়ক্রিয় গাড়ি পরিচালনা করছে৷ এর মধ্যে অনেক গাড়ি ‘অপটিক্যাল ফ্লো' নামের এক পদ্ধতিতে চালানো হচ্ছে৷ এর আওতায় কম্পিউটার নির্দিষ্ট গাড়ি এবং সেটির আশেপাশের যানবাহন ও পথচারীর গতি মেপে সেই হিসেব অনুযায়ী কাজ করে৷ কিন্তু এই প্রণালী কি সত্যি নিরাপদ?

ট্যুবিঙেন শহরের তিন গবেষক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি পরিচালিত অপটিক্যাল ফ্লো প্রক্রিয়া পরীক্ষা করছেন৷ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হাতের নড়াচড়ার মতো মুভমেন্ট বা সঞ্চালন নির্দিষ্ট রংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করে৷ সঞ্চালনের দিক অনুযায়ী রং বদলে যায়৷ কম্পিউটার বিজ্ঞানী অনুরাগ রঞ্জন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘গাড়ি ডান দিকে গেলে রংয়ের মানচিত্রে অপটিক্যাল ফ্লো সেই সঞ্চালনকে হলুদ হিসেবে তুলে ধরবে৷ গতি যত বাড়বে সেই হলুদ রং তত উজ্জ্বল হয়ে উঠবে৷ অর্থাৎ গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে চললে সেটিকে উজ্জ্বল হলুদ বস্তুর মতো দেখাবে৷ ধীরে চললে সেটা বদলে যাবে৷ এ ক্ষেত্রে রংয়ের মাধ্যমে নানা রকম গতি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে৷''

অনুরাগ রঞ্জন যখন বাম দিকে যান, কম্পিউটার তখন ‘অপটিক্যাল ফ্লো' অনুযায়ী তাঁকে হলুদ হিসেবে দেখে৷ ডান দিকে গেলে সেটা বেগুনি হয়ে যায়৷

অপটিক্যাল ফ্লো প্রক্রিয়ায় আরো অনেক কিছু ঘটে৷ কম্পিউটার আগেভাগেই বিভিন্ন বস্তুর মুভমেন্টের পূর্বাভাষ দিতে পারে৷ গাড়ি কি এখনই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, নাকি দাঁড়িয়ে থাকবে? ধাক্কা লাগার আশঙ্কা আছে কি? সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই হিসেব করতে পারে৷ কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে মিশায়েল ব্লাক জানান, ‘‘কম্পিউটারে সব ছবি সঙ্গে সঙ্গে চলে আসছে৷ এ যেন জগতকে সেকেন্ডের তিরিশ গুণ গতিতে দেখার মতো অভিজ্ঞতা৷ অপটিক্যাল ফ্লো বিভিন্ন বস্তুকে সময়ের ভিত্তিতে যুক্ত করে এবং কম্পিউটারকে ঠিক আমাদের মতো জগতকে দেখা, বোধ করার ক্ষমতা দেয়৷''

অপটিক্যাল ফ্লো পদ্ধতিতে কম্পিউটার কাজ করার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিঘ্ন ঘটানো যায় কিনা, বিজ্ঞানীরা তা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন৷ সেই লক্ষ্যে তাঁরা কিছু রঙিন প্যাটার্ন বা নমুনা তৈরি করেছিলেন৷ মানুষের দৃষ্টিতে তার কোনো অর্থ না হলেও এআই সেটিকে গুরুত্ব দেয় বটে৷

বিজ্ঞানীরা একাধিক প্যাটার্ন পেয়েছেন৷ সেগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবচেয়ে বেশি ধোঁকা দেয় ও বিঘ্ন ঘটায়৷ সেই প্যাটার্ন ঢেকে দিলে এআই নির্বিঘ্নে কাজ করে এবং কোনো ব্যক্তি, তার মুভমেন্ট ও চলার দিক শনাক্ত করে৷ কিন্তু প্যাটার্ন দৃশ্যমান হলে এআই অপটিক্যাল ফ্লো হিসেবের সময় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে৷ রংগুলি এলোমেলো হয়ে যায়৷ সিস্টেম কিছুই চিনতে পারে না৷ কম্পিউটার বিজ্ঞানী জোয়েল জানাই বলেন, ‘‘আমরা এই সমস্যার মাত্রা দেখে অবাক হয়েছিলাম৷ এ ক্ষেত্রে গবেষণার সময় অন্যান্য সমস্যাও ধরা পড়েছে বলে আমরা এই ধোঁকা সম্পর্কে অবগত ছিলাম৷ তবে এত ছোট একটা অংশ যে বড় এলাকার উপর এতটা প্রভাব রাখতে পারে, সেটা সত্যি দুশ্চিন্তার বিষয়৷''

রংয়ের ছোট্ট একটা অংশ সিস্টেমের দৃষ্টির ক্ষেত্রে মাত্র এক শতাংশ জায়গা নিলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টির প্রায় ৫০ শতাংশ পরিসর জুড়ে বিঘ্ন ঘটায়৷ অনুরাগ রঞ্জন বলেন, ‘‘বৃষ্টি, কুয়াশার মতো কঠিন পরিবেশে কম্পিউটারের অনেক কিছু শেখার আছে ঠিকই৷ কিন্তু রংয়ের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন যেভাবে বিঘ্ন ঘটায়, সেটা এই নতুন নেটওয়ার্কের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক৷''

স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সিস্টেম হ্যাক করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে গবেষকরা ভবিষ্যতে এমন প্রণালীর আরও উন্নতির আশা করছেন৷ ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি মানুষে চালানো গাড়ির তুলনায় আরও নিরাপদে চলবে বলে তাঁরা নিশ্চিত৷

ইয়ান ক্যার্কহফ/এসবি 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন