স্বেচ্ছামৃত্যুতে সাহায্য করা যাবে, কিন্তু বাণিজ্যিকীকরণে নয় | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 22.01.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

স্বেচ্ছামৃত্যুতে সাহায্য করা যাবে, কিন্তু বাণিজ্যিকীকরণে নয়

আত্মহননের অধিকার প্রত্যেক জার্মানের রয়েছে৷ তবে কোনো পরিস্থিতিতে বা কার সাহায্যে এটা করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে আবার বিতর্কের অবতারণা হয়েছে৷

নিজের জীবনাবসান ঘটাতে পারে যে কেউ৷ তা আইনত নিষিদ্ধ নয়৷ বিষয়টি অনেক বছর ধরেই রাজনীতিবিদদের মধ্য বিতর্ক চলছে৷ মরণাপন্ন রোগীদের স্বেচ্ছা মৃত্যুতে সাহায্য করছে কিছু সংগঠন একবারে বৈধভাবেই৷

সক্রিয়ভাবে আত্মহত্যায় সাহায্য করা নিষিদ্ধ

বর্তমান আইন অনুযায়ী সক্রিয়ভাবে কাউকে আত্মহত্যায় সাহায্য করা যাবে না৷ কিন্তু চাইলে তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়া যাবে৷ সমালোচকরা মনে করেন, এর ফলে আত্মহত্যায় সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকলাপ সহজ করা হয়৷

জার্মানির নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিডিইউ-এর হ্যার্মান গ্র্যহে ও সংসদের নিম্মকক্ষের ইউনিয়ন ফ্র্যাকশনের প্রধান ফলকার কাউডার স্বেচ্ছামৃত্যুকে নিয়ে বাণিজ্য করার বিরোধী৷ তাঁরা আইন করে বিষয়টি নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী৷ অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও এ ব্যাপারে সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে৷ এসপিডি-এর প্রাক্তন সংসদীয় ফ্র্যাকশন প্রধান ম্যুন্টেফেরিং প্রশ্ন করেন, মানুষকে এত সহজেই তাঁর জীবনের ইতি টানতে দেওয়াটা কী নৈতিক দিক দিয়ে সমর্থনযোগ্য?

সবুজ দলের সাংসদ ফল্কার বেক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৃদ্ধ ও কঠিন অসুখে আক্রান্তরা অন্যের বোঝা হওয়ার ভয়ে নিজেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটা চাপ অনুভব করতে পারেন৷ বেক বলেন, মরণাপন্নদের মানসিক দিক দিয়ে আরো সহায়তা দেওয়া উচিত৷

এথিক কাউন্সিল' মাথা ঘামাচ্ছে

সংসদের নিম্নকক্ষের উদ্যোগের গঠিত ‘এথিক কাউন্সিল' বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে৷ এতে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা৷ তাঁদের মতে এক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত৷ স্বেচ্ছামৃত্যুতে সক্রিয় সহায়তাদান সুইজারল্যান্ড দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, যদি তা ব্যবসার লক্ষ্যে না হয়৷ জার্মানি থেকেও কোনো কোনো রোগী সুইজারল্যান্ডে স্বেচ্ছামৃত্যুতে সাহায্য পাওয়ার জন্য যান৷

Sterbehilfezimmer in der Schweiz

জার্মানির নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিডিইউ-এর হ্যার্মান গ্র্যহেওস্বেচ্ছামৃত্যুকে নিয়ে বাণিজ্য করার বিরোধী

জার্মানিতে দেড় বছর আগেও স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা দানের ব্যাপারে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছিল৷ এতে বলা হয়েছিল, বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আত্মহত্যায় সাহায্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ আইন লঙ্ঘন করলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে৷ অবশ্য আত্মীয় স্বজনের বেলায় তা প্রযোজ্য হবে না৷ তবে তৎকালীন সরকারের কোয়োলিশন সহযোগী এফডিপি এই উদ্যোগে বাধা দেয়৷

প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে বেনেলুক্সের দেশগুলিতে স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা দান নিষিদ্ধ নয়৷ বরং বিষয়টি আরো বিস্তৃত হচ্ছে৷ রাজনীতিবিদরা সংসদে অনুমোদিত একটা আইনের অপেক্ষায় আছেন৷ প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷

চিকিৎসকরাও এ ব্যাপারে একমত নন

চিকিৎসকরাও এ ব্যাপারে একমত নন৷ বিশেষ করে পরিবারের বাঁধাধরা ডাক্তার বা হাউস ফিজিসিয়ানরা সমস্যায় পড়বেন এতে৷ তাঁরা রোগীদের কাছাকাছি থেকে চেনেন৷ মরণাপন্ন রোগীদের যন্ত্রণামুক্ত মৃত্যুর ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁদেরই করতে হয়৷

এ প্রসঙ্গে ইন্টারনিস্ট ড. মিশায়েল ডে রিডার বলেন, ‘‘একজন ডাক্তারের কর্তব্য রোগীদের মঙ্গল দেখাটা৷ লাইফ সাপোর্ট দিয়ে টিকিয়ে রাখা নয়৷'' বার্লিনের এক হাসপাতালে পালিয়াটিভ বা যন্ত্রণা উপশমক কেন্দ্র স্থাপন করেছেন তিনি৷ সেখানে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের শেষদিনগুলিতে পেশাগত সাহায্য দেওয়া হয়৷ দেওয়া হয় সেবা শুশ্রূষা৷ ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে একটা গভীর আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ চিকিৎসকরা পরিমাপ করতে পারেন রোগীদের মৃত্যুর ইচ্ছাটা কত গভীরে এবং এর কোনো বিকল্প রয়েছে কিনা৷

চিকিৎসকদের নিজেদের অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আত্মহত্যায় সহায়তা করা কতটা প্রয়োজনীয়৷ ‘‘এই ধরনের পরিস্থিতির যে উদ্ভব হয় সে ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে'', বলেন ড. রিডার৷ অন্যদিকে জার্মান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা দেওয়ার বিরোধী৷ পরোক্ষে সহায়তাদান যেমন রোগীর ইচ্ছানুযায়ী লাইফ সাপোর্টের যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া বা বাঁচিয়ে রাখার ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে৷ কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু করা হলে সমর্থন করবে না সংগঠনটি৷ বেশিরভাগ চিকিৎসকই স্বেচ্ছামৃত্যুতে সাহায্য করার বিরোধী বলে জানান জার্মান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রেসিডন্ট ফ্রাংক উলরিশ মোন্টগোমারি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন