1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
বারাণসী থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন নরেন্দ্র মোদী এ শহরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে ভারতের রাজনীতি
বারাণসী থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন নরেন্দ্র মোদী এ শহরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে ভারতের রাজনীতিছবি: PIB India

হিন্দুরাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নে সংখ্যালঘুরা ঘুমহীন

১৪ আগস্ট ২০২২

১৫ অগাস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস৷ ৭৫ বছরে কখনো বাবরি মসজিদ ইস্যু, কখনো গুজরাটের সহিংসতা, কখনো বা জ্ঞানবাপী বিতর্কে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ কেমন আছেন ভারতের সংখ্যালঘুরা?

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A7%AD%E0%A7%AB-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A8/a-62794372

বারাণসীর গঙ্গাতীরের এক হিন্দু পুরোহিত সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিনিধির সঙ্গে নরম স্বরে কথা বলেছিলেন৷ কিন্তু স্বাধীন ভারতের ৭৫ বছর পরেও তার কথায় কোথাও যেন একটি হুমকি ছিল৷ তার মত, ধর্মই ভারতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু হোক৷

জয়রাম মিশ্র নামের এই পুরোহিত বলেন, ‘‘সময়ের সঙ্গে অবশ্যই বদলাতে হবে৷ হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি হাতকে কেটে বাদ দেয়া উচিত আমাদের৷''

ভারতের এক দশমিক চার বিলিয়ন (এক বিলিয়ন অর্থাৎ ১০০ কোটি) জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠই হিন্দু৷ কিন্তু ১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীন হয়, তখন এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ, বহু-সাংস্কৃতিক রাষ্ট্র ছিল৷ কিন্তু এখন?

এখন ডানপন্থিরা দেশটিকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং হিন্দুদের আধিপত্য আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে৷ এর ফলে ২১০ মিলিয়ন মুসলমান তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন৷

এই দাবিগুলি হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার মূল কারণ৷ তার সরকার সারা দেশে এই নীতি ও প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করেছে৷ পবিত্র শহর বারাণসীতে একটি নতুন মন্দির করিডোর গড়ে তোলা হয়েছে, যা হিন্দুরাষ্ট্রের প্রবণতাকে আরো শক্তিশালী করছে৷

গান্ধী একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু ছিলেন৷ কিন্তু তিনি একটি লক্ষ্যে স্থির ছিলেন, সেটা হচ্ছে ভারতে ‘প্রত্যেক মানুষ সমমর্যাদা পাবে, তার ধর্ম যাই হোক না কেন'৷

তার কথায়, ‘‘রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ হতে বাধ্য৷''

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা এবং দেশভাগের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হয়৷ এক ধর্মান্ধ হিন্দুই বাপুজিকে হত্যা করেন৷ হত্যাকারী মনে করতেন, মুসলমানদের প্রতি গান্ধীজি খুব বেশিরকমের সহানুভূতিশীল৷

পুরোহিত মিশ্র বিশ্বাস করেন, গান্ধীজির সেই আদর্শ এখন অচল, পুরোনো৷

এএফপিকে তিনি বলেন, ‘‘গান্ধী বলতেন, কেউ যদি তোমার এক গালে চড় মারে, অন্য গালটি বাড়িয়ে দিতে হবে৷ অন্যান্য ধর্মের তুলনায় হিন্দুরা সাধারণত শান্তিপ্রিয় এবং ধীরস্থির৷ তারা একটি মশা মারতেও দ্বিধা করে৷ কিন্তু অন্য সম্প্রদায় এই মানসিকতার সুযোগ নিচ্ছে এবং আমরা এর পরিবর্তন না করলে তারা আমাদের উপর আধিপত্য করবে৷''

উত্তরপ্রদেশের ভোট: মোদীর নির্বাচনকেন্দ্র বারাণসীর অন্দরে

মন্দির ও মূর্তি

অনেকের কাছে এই পরিবর্তন শুরু হয়ে গিয়েছে৷ মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এ বিষয়ে জোর দিচ্ছে৷ আট বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন হিন্দুত্ব-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলিই এর প্রতীক৷

অযোধ্যায় একটি বিশাল মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে হিন্দু উগ্রবাদীরা তিন দশক আগে মোঘল আমলের একটি মসজিদ ধ্বংস করেছিল৷ সেইসময় ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় দেশজুড়ে হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়৷ ডানপন্থিদের অত্যাশ্চর্য উত্থানের জন্য সেটি ছিল রাজনীতির বড়সড় অনুঘটক৷

মুম্বই উপকূলে এমন এক হিন্দু যোদ্ধার মূর্তি তৈরি হচ্ছে যিনি সফলভাবে ইসলামিক মুঘল সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন৷ সেই রাজা ছত্রপতি শিবাজির ২১০ মিটার লম্বা মূর্তি নির্মাণে ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হওয়ার কথা৷ এতেও বিজেপির সমর্থন রয়েছে৷

নয় মাস আগে মোদী নিজের নির্বাচনি এলাকা বারাণসীতে মহাসমারোহে একটি বিশাল মন্দির করিডোরের উদ্বোধন করেন৷ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছিল, তিনি গঙ্গায় ডুব দিয়ে পুণ্যস্নান করছেন৷

তিনি ২০১৪ সাল থেকে এই শহরের প্রতিনিধিত্ব করছেন৷ এখান থেকে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করেন৷ ৪৪ বছর বয়সি সৈয়দ ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘‘পরিকাঠামো, রাস্তা, নদীর তীর প্রকল্প এবং পরিচ্ছন্নতা, সবকিছুই বেশ ভালো৷''

তবে মুসলিম হাসপাতালের কর্মী বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে ‘সত্যিই চিন্তিত' তিনি৷

তার কথায়, ‘‘ধর্মকে কেন্দ্র করে অত্যধিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা ও ঘৃণার অনুভূতি তৈরি হয়েছে৷''

কেন্দ্রীয় আখ্যান

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত বারাণসী৷ ঐ রাজ্যের জনসংখ্যা ব্রাজিলের চেয়েও বেশি৷ বিজেপির ‘হিন্দুত্ব' অ্যাজেন্ডার মূলে রয়েছে এই রাজ্য, এই শহর৷

মুঘল সম্রাট আকবর শহরের নাম পরিবর্তন করার ৪৫০ বছর পর বারাণসীর কাছে অবস্থিত এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ রাখা হয়েছে৷

কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর নির্বিচারে ধ্বংস করেছে কর্তৃপক্ষ৷ এদের অধিকাংশই মুসলিম৷ একে অনেকেই সংখ্যালঘুদের ভিন্নমত দমনের অসাংবিধানিক প্রচেষ্টা বলছেন৷

কর্ণাটকে গত বছর খ্রিস্টানদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ সেখানকার স্কুলে হিজাবের উপর নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে বিজেপি৷ সেইসময় মুসলিমরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন৷

উত্সাহিত হিন্দু গোষ্ঠীগুলি দাবি করেছে, ইসলামিক শাসনের সময় মন্দিরের উপরে মসজিদগুলি নির্মিত হয়েছিল৷ বারাণসী করিডোরের পাশে শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ নিয়ে অযোধ্যার মতো ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

২০০২ সালে ৫৯ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনে আগুন দেয়া হয়েছিল৷ সেইসময়ে গুজরাটে কমপক্ষে হাজার জনকে কুপিয়ে, গুলি করে এবং পুড়িয়ে মারা হয়েছিল৷ মোদী সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন৷ হত্যাকাণ্ড রুখতে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন না তিনি, এমন অভিযোগ উঠেছে বারবার৷

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্ত বলছেন, বিজেপির উত্থান হয়েছে গান্ধীর দল কংগ্রেস থেকেই৷ এই কংগ্রেস কয়েক দশক দেশ শাসন করেছে৷

নির্বাচনের সময় ধর্মনিরপেক্ষতা প্রচারের উদ্দেশে দুটি প্রধান ধর্মের চরমপন্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি৷

অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্ত বলেন, ১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙচুর করার পর হিন্দু অনুভূতিকে ব্যবহার করেছে বিজেপি যা এখন ‘ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু'৷

তার কথায়, ‘‘প্রত্যেকের নিজস্ব একটা বক্তব্য আছে এ নিয়ে৷ ভাবে, আর কেউ কিছু জানেন না৷ তারা দুই থেকে তিন দশক ধরে এখানে রয়েছে৷ বিভেদ বাড়ছে ক্রমশ৷''

যারা ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে চায়, যেমন ডানপন্থি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সংগঠন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন একটি আশীর্বাদ৷

এক নেতা সুরেন্দ্র জৈন এএফপিকে বলেন, ‘‘আমরা একটি হিন্দুরাষ্ট্র, কারণ ভারতের পরিচয় হিন্দুত্ব দিয়েই৷''

‘ধর্মনিরপেক্ষতার দ্বৈত মুখ' ভারতের ‘অস্তিত্বের জন্য একটি অভিশাপ এবং হুমকি হয়ে উঠেছে', বলেন তিনি৷

সুরেন্দ্র বলেন, ‘‘এর মানে এই নয় যে অন্য সবাইকে চলে যেতে হবে৷ তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারে কিন্তু ভারতের মূল চরিত্র সবসময় হিন্দুত্ব হতে হবে৷''

গুজরাটে তার শাসনামলে যে মেরুকরণের বক্তৃতা করেছিলেন মোদী, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তা মূলত এড়িয়ে যান তিনি৷ কিন্তু সমালোচকদের মতে তিনি প্রায়ই নিজের দলের উসকানিমূলক মন্তব্যগুলি উপেক্ষা করেন৷

তার ক্রিয়াকলাপে বোঝা যায়, তাদের স্পষ্টভাবে সমর্থন না করেই হিন্দুরাষ্ট্রের আহ্বানকে শক্তিশালী করছেন তিনি৷

এটি মুসলিমদের উদ্বেগের কারণ৷ বারাণসীর একটি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ৫২ বছরের নাসির জামাল খান বলেন, ‘‘আমার পূর্বপুরুষরা এখানে জন্মেছে, যদিও বিভেদের অনুভূতি বেড়ে চলেছে৷''

তিনি এমন একটি দিনের আশা করেন যখন ভারতের নির্বাচিত নেতারা ধর্ম নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন৷ তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে পরিবারের পিতা হিসেবে দেখি৷ সন্তানদের সঙ্গে একজন বাবার আলাদা আচরণ করা উচিত নয়৷''

আরকেসি/জেডএইচ (এএফপি)

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Bangladesch Aktivistinnen Protest Frauen Vergewaltigung

বিচার নেই বলে বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান