স্বস্তি পেতে ইউটিউবে এএসএমআর ভিডিও দেখা যায় | অন্বেষণ | DW | 14.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

স্বস্তি পেতে ইউটিউবে এএসএমআর ভিডিও দেখা যায়

ইউটিউব ঘাঁটলে কী না পাওয়া যায়! শুধু বিশেষ কণ্ঠস্বর বা শব্দের মাধ্যমে শরীর ও মনে স্বস্তি আনতে এক ধরনের ভিডিও তৈরি করে চলেছেন কিছু মানুষ৷ এএসএমআর নামের সংজ্ঞার ভিত্তিতে এমন প্রচেষ্টা চলছে৷

সান্ড্রা জার্মানির দক্ষিণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন৷ বহুকাল ধরেই এএসএমআর ভিডিও তাকে মুগ্ধ করছে৷ ফলে তিনি নিজেই এমন ক্রাফট ভিডিও নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন৷ কাউকে এমন হাতের কাজ করতে দেখলে নাকি মন হালকা হয়৷ সেটা কীভাবে সম্ভব?

সান্ড্রা বলেন, ‘‘পিংক পেপার এএসএমআর নামে আমার একটা ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে৷ সেখানে আমি এএসএমআর ভিডিও পোস্ট করি৷ প্রথমদিকে কাটাকুটি করে অনেক ভিডিও বানিয়েছিলাম, যেখানে শিল্প সম্পর্কে আমার জ্ঞান বিতরণ করেছি৷ তবে এখন আমি নিজেকে আরও বেশি তুলে ধরতে চাই৷''

আর এএসএমআর মানে কী? বিশেষ শব্দ শুনে শরীরে স্বস্তির অনুভূতিকে অটোনোমাস সেন্সরি মেরিডিয়ান রেসপন্স বা এএসএমআর বলা হয়৷ লুনা টালমান নিজের থিসিসে সেই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ তিনি বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘এই প্রতিক্রিয়া অনেকটা মাথা ঝিমঝিম করার মতো৷ সংগৃহিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে যে ফিসফিস করে বলা কথা, কর্কশ অথবা মর্মরধ্বনির মতো শব্দ শুনলে এমন প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে৷ বিশেষ করে যে পরিস্থিতিতে নিজস্ব মনোযোগ জোরালো থাকে, সে অবস্থায় এমনটা বেশি ঘটে৷''

ভিডিওর মাধ্যমে ঠিক সেই নৈকট্যই তুলে ধরা হচ্ছে৷

কী ধরনের এএসএমআর ভিডিও রয়েছে? গোটা বিশ্বের এএসএমআর প্রস্তুতকারীরা ক্যামেরার সামনে নানা ধরনের শব্দ করেন৷ খাবার খাওয়া, পরিষ্কার করা অথবা মাইক্রোফোনের উপর তুলি বোলানোর মতো শব্দও করা হয়৷ সান্ড্রা আঁকেন, জিনিসপত্র প্যাকিং করেন অথবা ফিসফিস করে কোনো বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন৷ তাঁর ভিডিওগুলিতে দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত উঠে আসে, যা তাঁকে হালকা, স্নায়ু শিথিল করার মতো অনুভূতি দেয়৷

এএসএমআর প্রডিউসার হিসেবে সান্ড্রা বলেন, ‘‘সম্প্রতি আমি পার্সেল পাঠাতে এক দোকানে গিয়েছিলাম৷ সেখানকার কর্মচারী যেভাবে পার্সেল নাড়াচাড়া করছিলেন, উপরে স্টিকার লাগাচ্ছিলেন, সেটা দেখে বুঝতে পারলাম আমি সেই মুহূর্ত সত্যি উপভোগ করছি৷ তারপর আমি সত্যি এমন প্যাকেজিং ভিডিও তৈরি করলাম, যাতে আমাকে স্ট্যাম্প লাগাতে দেখা যাচ্ছে৷ আমি চাই আমার দর্শকদেরও একই বিষয়ে আগ্রহ থাকুক৷ কারও যদি আগ্রহ না থাকে, বা এমন ভিডিও পছন্দ না হয়, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই৷''

অনেক মানুষ জিরিয়ে নিতে অথবা ঘুমিয়ে পড়তে এমন ভিডিও কাজে লাগান৷ অনেকের কাছে আবার এএসএমআর নির্ভেজাল স্বস্তির উৎস৷

এএসএমআর কী কাজে লাগে? এই প্রশ্নের উত্তরে লুনা টালমান বলেন, ‘‘অস্থিরতা, ভয়, মনোযোগের সমস্যা, ঘুমে ব্যাঘাতের মতো নানা রকম সমস্যা কাটাতে  এএসএমআর-এর কার্যকারিতার প্রমাণ রয়েছে৷ আমার মতে, বিষাদ ও মানসিক চাপের লক্ষণ দূর করে৷''

এমন সব ভিডিও দেখার পর স্বস্তির অনুভূতি হয়৷ সান্ড্রা এমনকি ভিডিও তৈরির সময়েও সেই অনুভূতি টের পান৷ তাঁর মতে, ‘‘স্বীকার করতেই হবে, যে এই এএসএমআর চর্চা আমার নিজস্ব বিকাশের জন্য জরুরি ছিল৷ আমি নিজেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চেয়েছিলাম৷ মানুষ আমার ভিডিও লাইক বা সে বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলে আমার খুব আনন্দ হয়৷''

এমন স্বস্তিদায়ক এএসএমআর ভিডিও প্রডিউসারের তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হলো৷

টেরেসা ক্রাম্ফল/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়