স্বরূপে ফিরছে কম্বোডিয়ার মুখোশ নৃত্য | বিশ্ব | DW | 13.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কম্বোডিয়া

স্বরূপে ফিরছে কম্বোডিয়ার মুখোশ নৃত্য

ভারতের ছৌ নাচের সঙ্গে আমরা কম-বেশি পরিচিত৷ বাহারি মুখোশ আর জমকালো পোশাকে দারুণ নাচের সম্মিলন৷ এমন ঐতিহ্য এশিয়ার আরো অনেক দেশে রয়েছে৷ কম্বোডিয়া তার মধ্যে অন্যতম৷

কম্বোডিয়ার লাখন খোল নামের এক নাচ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যর স্বীকৃতি পেয়েছে৷

খেমা রুজ শাসন আমলে হুমকির মুখে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী নাচ৷ তখন লাখন খোল টিকিয়ে রাখতে গোপনে কাজ করে গেছেন কম্বোডিয়ার একদল শিল্পী৷ তাঁরাই এখন কাজ করছেন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে৷

৪৮ বছর বয়সি সান রিথি মুখোশ নাচের দল চালান নমপেনে৷ তাঁর দাদা এবং বাবা এই নাচের শিল্পী ছিলেন৷ তবে খেমা রুজ শাসনামলে এই নাচ একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি৷ সেই সময় অসংখ্য মুখোশ নাচের শিল্পী ও মুখোশ নির্মাতাকেও হত্যা করা হয়৷

ইতোমধ্যে এই নাচের ২০টির বেশি পারফরম্যান্স করেছেন সান রিথি৷ নিজের নাচ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে নাচ ও মুখোশ তৈরি শেখে ছোট ছোট শিশুরা৷ তিনি জানান, তাঁর ছেলেবেলায় পলপটের আমলে এই নাচ শেখার স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ ফলে তাঁকে ১৪ বছর বয়সে খেমা রুজদের পতনের পরে প্রথম এই নাচ শিখতে হয়৷

রিথি আরো জানান, এই ধরনের নাচ এশিয়াতেও আছে৷ তবে সেটি মহাভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ আমাদের নাচের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা৷ এই নাচে পোশাক ও মুখোশের সঙ্গে  নাচের মুদ্রাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ৷

কম্বোডিয়ার জনগণ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ভীষণ আগ্রহী৷ ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের খোন নাচের সঙ্গে যৌথভাবে  বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃ্তি পায় লাখোন খোল৷ এই স্বীকৃতির পর দেশটির প্রশাসনও বেশ সরব হয়েছে এই নাচের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে৷ কম্বোডিয়ার সংস্কৃতি ও চিত্রশিল্প বিষয়ক মন্ত্রী ফ্যোরুং সাকোনা জানান, এই নাচটি টিকিয়ে রাখার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে তাঁর দেশে৷ বিশেষ এই নাচের বিশেষজ্ঞদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আনা হচ্ছে৷ অচিরেই থাইল্যান্ডের মতো স্কুল ও কলেজে পড়ানো শুরু করা হবে এই নাচ৷ তিনি মনে করেন, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এই ঐতিহ্য সংরক্ষণকে অনুপ্রেরণা জোগাবে৷

থাইল্যান্ডে খোন নাচ ভীষণ জনপ্রিয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হচ্ছে৷ থাইল্যান্ডের প্রাজ্ঞ খোন নাচ বিশেষজ্ঞ পোঙসাওয়াদ জানান, এই নাচের একেকটি মাস্ক তৈরি করতে ১ থেকে দুই মাসের মতো লাগে৷ তিনি ১০ বছর বয়স থেকে মাস্ক বানাচ্ছেন এবং নাচের তালিম দিচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই নাচ আমাদের অন্যতম ঐতিহ্য৷ আমাদের প্রজন্মকে বুঝতে হবে এর গুরুত্ব৷''

এফএ/এসিবি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন