স্পোর্ট এখন বিগ বিজনেস, ডোপিংও | খেলাধুলা | DW | 01.04.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

স্পোর্ট এখন বিগ বিজনেস, ডোপিংও

গ্লোবাল স্পোর্ট এখন চোখধাঁধাঁনো ‘গণ মনোরঞ্জনে’ পরিণত হয়েছে, নামি-দামি ক্রীড়াবিদরা কোটির অঙ্কে ইনাম পান৷ এই মাল্টি বিলিয়ন ডলার ইনডাস্ট্রির অন্ধকার দিকটার নাম হল ডোপিং৷

খেলাধুলার বিভিন্ন বিভাগে দক্ষতা, তীব্রতা ও শারীরিক ক্ষমতা যে বেড়েছে, তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না৷ স্পোর্ট আজ ‘মাস এন্টারটেইনমেন্ট'-এর অঙ্গ৷ ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক্সের উন্মাদনার কথা যাদের মনে আছে, তারা বুঝতে পারবেন কথাটা৷

কিন্তু ২০১৩ সালের গোড়া থেকেই অন্য এক ধরনের কাহিনি যেন কালো মেঘের মতো ক্রমেই বড় হচ্ছে, আরো ছড়াচ্ছে৷ গত জানুয়ারিতে মার্কিন সাইক্লিস্ট ল্যান্স আর্মস্ট্রং স্বীকার করেন যে, তিনি তাঁর সাতটি ট্যুর দ্য ফ্রঁস জয়ের প্রতিটির আগে ডোপিং করেছেন৷

এর পর পরই অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ গোয়েন্দা বিভাগ খেলাধুলায় ডোপিং-এর সঙ্গে কালো টাকা সাদা করা এবং ম্যাচ ফিক্সিং-এর যোগসূত্র ফাঁস করে দেয় – প্রায় এক বছর ব্যাপী তদন্তের পর৷

সবচেয়ে বড় কথা, স্পেনের এক ডাক্তার অয়ফেমিয়ানো ফুয়েন্তেস বিভিন্ন দেশের সাইক্লিস্টদের নিয়ে একটি ডোপিং রিং চালানো সংক্রান্ত মামলায় তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, তাঁর নাকি ফুটবল, টেনিস, অ্যাথলেটিক্স এবং বক্সিং-এর মতো স্পোর্টেও ‘মক্কেল' ছিল৷

Lance Armstrong

মার্কিন সাইক্লিস্ট ল্যান্স আর্মস্ট্রং স্বীকার করেন, সাতটি ট্যুর দ্য ফ্রঁস জয়ের প্রতিটির আগে ডোপিং করেছেন

আর যে যোগসূত্রটি বাকি ছিল, সেটির হদিশ দেন বিশ্ব ডোপিং প্রতিরেধী সংস্থা ওয়াডা-র মহাপরিচালক ডেভিড হাওম্যান, যখন তিনি বলেন: ‘‘যারা স্টেরয়েডস নিয়ে চোরা ব্যবসা করে এবং অ্যাথলিটদের ডোপিং-এর মাধ্যমে জোচ্চুরি করতে উৎসাহ দেয়, তারাই আবার খেলাধুলা নিয়ে বেআইনি ফাটকায় (অর্থাৎ বেআইনি বাজি ধরায়) সংশ্লিষ্ট৷''

গত ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনে ওয়াডা-র সিম্পোসিয়ামে হাওম্যান বলেছেন, আন্তর্জাতিক খেলাধুলার অন্তত ২৫ শতাংশ অপরাধীচক্রের নিয়ন্ত্রণে৷ নানা ধরনের ওষুধপত্র নাকি বাজারে আসার আগেই কালোবাজারের মাধ্যমে এদের হাতে পৌঁছে যায়৷ এবং তাদের কাছ থেকে অ্যাথলিটদের কাছে৷

আবার ওয়াডা-র তরফ থেকে লন্ডনে এ-ও শোনা গেছে যে, খেলাধুলায় ড্রাগস-এর সমস্যা আসলে গোটা সমাজের সমস্যার একটা প্রতিফলন৷ সকলেই তো যেভাবে পারে, ছলে-বলে-কৌশলে তাদের অর্জন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ তাহলে অ্যাথলিটরাই বা তা করবে না কেন?

সমাজের অবস্থাও তো তাই, বলেছেন ওয়াডা-র শিক্ষা ও কর্মসূচি বিকাশের পরিচালক রব কোয়েলার৷ জনগণের এক শতাংশ বিত্তশালী; মধ্যবিত্ত শ্রেণিটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে; তলার দিকের মানুষদের সংখ্যা বাড়ছে৷ খেলাধুলাতেও: ‘‘টপ অ্যাথলিটরা কোটি কোটি টাকা রোজগার করছে, কিছু অ্যাথলিট কাজ চালানোর মতো রোজগার করে, অধিকাংশই কোনোক্রমে দিন গুজরান করে৷''

সবচেয়ে চিন্তার কথা, ভাইরাসের মিউটেশনের মতো, খেলাধুলায় ডোপিং-এর সম্ভাব্য ক্ষেত্রও বাড়ছে৷ আজ আর তা শুধু ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড, ভারোত্তোলন কি সাইক্লিং-এ সীমাবদ্ধ নয়৷ সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তথাকথিত ‘বল স্পোর্ট'-গুলোতেও, যেমন বেসবল৷ এবং বেসবল তো অনেকটা ক্রিকেটের মতো, নয় কি? এমনকি টেনিস, গল্ফ এবং ফুটবলেও ‘দেয়ালে ও কার ছায়া?' দেখছেন – যারা দুঃস্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন, তারা৷

তবে কি ভবিষ্যতে ক্রীড়াবিদদের সত্যিই ‘ব্লাড পাসপোর্ট' রাখতে হবে?

এসি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন