স্পেনে শকুনিদের বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 16.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্পেনে শকুনিদের বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ

গোটা বিশ্বেই শকুনির সংখ্যা কমে চলেছে৷ ফলে পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷ স্পেনে শকুনিদের বাঁচাতে এক অভিনব প্রকল্প চলছে৷

স্পেনের পিরেনিস পর্বতের আকাশে এখনো এই শকুনিদের আধিপত্য৷ পশুপাখির মৃতদেহ দূর করে এককালে গোটা ইউরোপে ইকোসিস্টেম অক্ষত রাখায় এদের বড় ভূমিকা ছিল৷ বর্তমানে মানুষই তাদের খাদ্যের সন্ধানে সাহায্য করছে৷ যেমন আন্টোনি মার্গালিডা ও জর্ডি কানুট৷ প্রতি শনিবার জর্ডি কানুট পাহাড়ে উঠে শকুনিদের খাওয়ান৷

আন্টোনি মার্গালিডা ইকোলজি প্রফেসর৷ স্পেনের উত্তরে এই শকুনি সংরক্ষণ প্রকল্পে তিনি বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন৷ গোপন ডেরা থেকে তিনি তাদের উপর নজর রাখতে পারেন৷ জর্ডি কানুট বিশাল জায়গা জুড়ে মাংসের টুকরো ছড়িয়ে দেন, যাতে সব প্রজাতির শকুনি যথেষ্ট খাদ্য পায়৷ সংরক্ষিত এলাকায় এই খাদ্য বিতরণের উদ্যোগের ফলে প্রো. মার্গালিডা-র শকুনি গবেষণায় সুবিধা হয়েছে৷ প্রো. মার্গালিডা বলেন, ‘‘চার প্রজাতির শকুনি একসঙ্গে দেখতে হলে এটাই সম্ভবত ইউরোপের সেরা জায়গা৷’’

ইউরোপের শকুনি প্রজাতিগুলি পশুর মৃতদেহের নির্দিষ্ট কিছু অংশের বিশেষজ্ঞ৷ যেমন গ্রিফন ভালচার ও সিনেরেয়াস ভালচার কোনো মাংস অবশিষ্ট রাখে না৷ বেয়ার্ডেড ভালচার হাড়গোড় খায়৷ তুলনামূলকভাবে ছোট ইজিপ্সিয়ান ভালচার বাকিদের খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে৷ যা অবশিষ্ট থাকে, সেগুলি কুড়িয়ে খায়৷ এমনকি মাটি থেকে রক্তও শুষে নেয়৷

শকুনিরা প্রকৃতির কোলে পশুর মৃতদেহ দূর করে৷ অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ৷ কারণ সেই মৃতদেহ থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে, মাটি ও পানিতে অ্যানথ্র্যাক্সের মতো মারাত্মক জীবাণু ও বিষ মিশে যেতে পারে৷ অথচ তাতে শকুনির কিছু হয় না৷

শকুনিদের হজমের অসাধারণ প্রক্রিয়া এই ক্ষমতা সম্ভব করে তোলে৷ তাদের পাচকরস এতই টক, যে সব জীবাণু মরে যায়৷ অ্যাসিডের মধ্যে পড়ে যেমন সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, এ ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটে৷

তাছাড়া শকুনির আন্ত্রিক কাঠামোয় ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কম৷ মানুষের পেটে ১,০০০-এরও বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকে৷ শকুনির ক্ষেত্রে সংখ্যাটা মাত্র ৭৬৷ তবে তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যেমন ক্লসট্রিডিয়াম বোটুলিনাম৷ এই সব ব্যাকটেরিয়া পশুর মৃতদেহ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে৷

গোটা ইউরোপেই শকুনির খাদ্য কমে চলেছে৷ কারণ আইন অনুযায়ী মানুষকেই পশুর মৃতদেহ দূর করতে হয়৷ ‘ম্যাড কাউ ডিজিজ' দেখা দেবার পর স্পেনেও আইন কড়াকড়ি করা হয়েছিল৷ বর্তমানে অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে পশুর মৃতদেহ ফেলে রাখা সম্ভব৷

ভল্ফগাং স্যুন্ডেল/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন