স্ট্যালিনের মুভির উপর রুশ নিষেধাজ্ঞা | বিশ্ব | DW | 26.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

স্ট্যালিনের মুভির উপর রুশ নিষেধাজ্ঞা

জোসেফ স্ট্যালিনকে নিয়ে তৈরি ব্রিটিশ কমেডি দেখানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রুশ সরকার৷ এর ফলে অতীত নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাকে দমন করা হলো, বলে মনে করেন ডিডাব্লিউ-র মিওদ্রাগ সোরিচ৷

‘‘না, রাশিয়ার কোনো সেন্সরশিপ নেই!,'' বলেছেন রুশ সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি৷ ‘‘না, অতীত নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা নিয়ে ভীত নয় রাশিয়া,'' বলেন তিনি৷ অথচ রাশিয়ায় মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন আগে ব্রিটিশ কমেডি ‘দ্য ডেথ অফ স্ট্যালিন'-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

‘রাশিয়ার জনগণকে অবমাননার' লক্ষ্যে ছবিটি নির্মিত হয়েছে বলে মনে করেন রাশিয়ার একদল সরকারি কর্মকর্তা ও চলচ্চিত্র পরিচালক৷ এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার ইতিহাস নিয়ে হাসিতামাশা করা হয়েছে বলে মন্তব্য তাঁদের৷ তাই মঙ্গলবার ছবিটি মুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়৷ ১৯৫৩ সালে স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর ক্ষমতা দখল নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি হাস্যরসাত্মক উপায়ে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে৷ গত সেপ্টেম্বরে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়৷

রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলেছে, ছবিটির লাইসেন্স প্রত্যাহারের কারণ এতে ‘এমন তথ্য আছে যার প্রচারে রাশিয়ায় নিষেধাজ্ঞা আছে'৷ কিন্তু কী সেই তথ্য, তা একমাত্র মন্ত্রীই জানেন৷ তিনি এবং রুশ সংসদের কয়েকজন প্রতিনিধি হয়ত মনে করেছেন, স্ট্যালিনকে নিয়ে হাসিতামাশা করা ঠিক নয়৷

ইয়েলেনা ড্রাপেকো নামের এক সাংসদ বলেছেন, রুশ সমাজে যে একতা বিরাজ করছে, এই চলচ্চিত্র তা হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে৷

স্পষ্ট করে বললে, রাশিয়ার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রুশ নাগরিকরা কী ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখবে তা  তারা ঠিক করবে৷ সরকার মনে করছে, জর্জিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি কিংবা অ্যামেরিকার জনগণের জন্য যা ঠিক, রুশদের জন্য তা ঠিক নয়৷

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন? নাগরিকরা নিজেদের মতামত গড়ে তুলুক, ক্রেমলিন কি তা চায় না? এটি হাস্যকর৷ পশ্চিমা নাগরিকদের মতোই রাশিয়ার নাগরিকরাও প্রাপ্তবয়স্ক৷ ব্রিটেন সহ অন্যান্য দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে রাশিয়ার যে সাংবাদিকরা মুভিটি দেখার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরাও কমেডি দেখে নির্মল আনন্দ পেয়েছেন, হেসেছেন৷

নিষিদ্ধ ফলের মজা

Soric Miodrag Kommentarbild App

মিওদ্রাগ সোরিচ, ডয়চে ভেলে

অতীত নিয়ে খোলা আলোচনা ও বিতর্ককে ভয় পায় না কোনো সভ্য দেশ৷ কোনো মতের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা গণতন্ত্রেরই একটি অংশ – আসলে এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে৷ যে গণতন্ত্রে বিতর্কের সুযোগ নেই সেটি কোনো গণতন্ত্র নয়৷

যাঁরা ছবিটি দেখতে চান না, দেখবেন না৷ এটি খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার৷ কোনো মুভি নিষিদ্ধ করলে তরুণদের কাছে সেটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে৷ কারণ নিষিদ্ধ ফল খেতে সবসময় সুস্বাদু হয়৷ নিষিদ্ধ বইও সাধারণত বেশি মজার হয়ে থাকে - সাবেক সোভিয়েত আমল থেকেই রুশ নাগরিকরা এই বিষয়টি জানেন৷

তবে সাবেক ঐ আমলের চেয়ে এখনকার পার্থক্য হচ্ছে, ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষকে কোনো কিছু দেখা থেকে বিরত রাখা সহজ নয়৷ যাঁরা দেখতে আগ্রহী তাঁরা সহজেই কোনো তরুণ রুশ নাগরিকের কাছ থেকে ছবিটি দেখার উপায় জেনে নিতে পারবেন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

বিজ্ঞাপন