‘স্টুডেন্টস কেবিনেটের কারণে অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে শিখছি′ | আলাপ | DW | 16.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘স্টুডেন্টস কেবিনেটের কারণে অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে শিখছি'

বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে এখন ‘স্টুডেন্টস কেবিনেট' নির্বাচন হয়৷ এর মাধ্যমে আট সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, যারা স্কুলের উন্নয়নে কাজ করে থাকে৷ কেবিনেটের মেয়াদ থাকে এক বছর৷

স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ করিমউদ্দীন পাবলিক পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও কেবিনেটের প্রধান সামিউল আলীম সজীব৷

ডয়চে ভেলে: স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন যেটা হচ্ছে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?

সামিউল আলীম সজীব: এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ইত্যাদি শেখানো হয়৷

তুমি তো প্রধানমন্ত্রী, তোমাদের কাজ আসলে কী?

আমাদের কাজ আসলে ৮টি বিভাগে ভাগ করে দেওয়া আছে৷ এর মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্রীড়া, স্বাস্থ্য, আইসিটি আছে৷ এগুলো যাদের ভাগ করে দেওয়া আছে তারা সেগুলো নিয়ে কাজ করছে৷ যে আইসিটির দায়িত্ব আছে, তার লক্ষ্যটা হলো আমাদের স্কুলের স্টুডেন্টরা যেন আইসিটিতে ভালো হয়৷ আমাদের স্কুলে যে ল্যাব আছে সেটা যেন আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি৷ এখানে সবাই পরমতসহিষ্ণু হয়ে কাজ করার জন্য যোগ্যতা অর্জন করে৷

তোমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন? আর তোমাদের কি ভোটে দাঁড়াতে হয়?

আমি দুঃখিত যে, এবার আমরা নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারিনি৷ ওই সময় আমাদের স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা হয়৷ ফলে তখন আমরা নির্বাচনটা করতে পারিনি৷ পরে যখন স্কুলে ক্লাস শুরু হয়, তখন আমরা প্রত্যেক ক্লাস থেকে ভোটগ্রহণ করি৷ অর্থাৎ যেভাবে ভোটগ্রহণ করার কথা, সেভাবে করতে পারিনি৷ কিন্তু আমরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করেছি৷ আমাদের প্রথম সভায় আমাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়৷ ওইদিনই মন্ত্রিসভার সবাইকে তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে৷

ভবিষ্যতে তোমরা কী রাজনীতিতে আসবে?

যেহেতু এখান থেকে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা অর্জন করা যায়, তাই ভবিষ্যতে আমরা রাজনীতিতে আসতেও পারি৷ তখন আমরা হয়ত নেতৃত্বদানের ক্ষমতাটা প্রয়োগ করতে পারব৷

অডিও শুনুন 08:03

‘নেতৃত্বদানের ক্ষমতাটা কীভাবে উন্নত করা যায় সেটা আমরা শিখছি’

কীভাবে রাজনৈতিক চর্চা হয় তোমাদের মন্ত্রিসভায়?

আমরা যেহেতু স্টুডেন্ট তাই আমাদের এখানে তো রাজনীতি নিয়ে চর্চা হয় না৷ শুধু নেতৃত্বদানের ক্ষমতাটা কীভাবে উন্নত করা যায় সেটা আমরা শিখছি৷

জেতার পর নৈতিকতার বিষয়কে কতুটুক প্রাধান্য দেওয়া হয়?

অবশ্যই নৈতিকতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ কারণ একজন শিক্ষার্থীর কাছে নৈতিকতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ নৈতিকতা বলতে আমরা যেটা বুঝি, সত্য কথা বলা, অন্যকে সাহায্য করা ইত্যাদি, সেগুলো আমরা করি৷ পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা, বা অন্যের মতকে প্রাধান্য দেওয়া, সেই কাজও আমরা করি৷ নির্বাচনে জয়ী হলেও আমরা আমাদের মত অন্যের উপর চাপিয়ে দেই না৷ অন্যের মতকে গ্রহণ করে সবার মতামত নিয়ে একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব৷ এখান থেকে আমাদের অন্যের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষমতাটাও বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এভাবেই আমরা নৈতিকতার চর্চা করছি৷

তোমার সঙ্গে কি কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল?

হ্যাঁ ছিল৷

যে তোমার সঙ্গে ভোটে হেরে গেছে, তার মতকে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করছ?

ভোটে যখন আমি জিতেছি, আর সে হেরে গেছে, তখন হয়ত সে একটু মন খারাপ করেছে৷ কিন্তু সে আমার বন্ধু৷ তার মতকেও আমি অনেক গুরুত্ব দেই৷ আমরা সবার কথা শুনছি, সবার মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি৷ সেও আমাদের সঙ্গে আছে৷ আমাদের সহযোগিতা করছে৷ আমরা কাউকেই ছোট করে দেখছি না৷ সবাইকে গুরুত্ব দিচ্ছি৷ এই ফিলিংসটা আমাদের মধ্যে আছে৷

নেতৃত্বের সার্বিক গুনগুলো সৃষ্টিতে তোমাদের কোনো পদক্ষেপ আছে?

আমাদের কেবিনেটে তো সভা হয়৷ সেখানে আমরা সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করি৷ কীভাবে আমাদের দায়িত্ব আরো ভালোভাবে পালন করতে পারি তা নিয়েও আলোচনা হয়৷ নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হয়, ইমপ্রুভমেন্ট নিয়েও আলোচনা হয়৷ আমাদের প্রথম সভা হয়েছে৷ সেখানে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ ভবিষ্যতেও আলোচনা হবে৷

তুমি কবে নির্বাচিত হয়েছ?

একটু আগেই বলছিলাম, এবার আমাদের নির্বাচনটা দেরিতে হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার কারণে৷ কয়েকদিন আগেই নির্বাচনটা হয়েছে, এরপর আমরা প্রথম সভা করেছি৷

শিক্ষকরা তোমাদের কীভাবে সাহায্য করে?

শিক্ষকরা আমাদের সহযোগিতা করছে৷ তারা আমাদের কাজগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন৷ প্রথমে তো আমরা বুঝিনাই যে, কোন ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করব৷ প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তিনিই আমাদের সব বুঝিয়ে দিচ্ছেন৷ তিনি সবার কাজ বণ্টন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন৷

তোমরা যারা দায়িত্ব পালন করছ, তারা কি কোনো বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাও?

হয়ত বিশেষ সুযোগ সুবিধার বিধি আছে, থাকতে পারে৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি৷ ভবিষ্যতে পেতে পারি৷ বিষয়টি এখনও আমরা পরিষ্কার না৷

শিক্ষকরা কি তোমাদের সুযোগ সুবিধার কথা বলেছে?

এখনও শুনিনি বা শিক্ষকরাও আমাদের কিছু বলেননি৷

তোমাদের কাজে জবাবদিহিতা কেমন?

আমাদের তো সভা হয়, সেখানে প্রত্যেক প্রতিনিধি তাদের কাজের ফলাফল প্রকাশ করে৷ কে, কতটুকু করতে পেরেছে, কতটুকু পারেনি, সেটা বলে৷ শিক্ষকরা তখন আমাদের ঘাটতিগুলো দেখিয়ে দেন৷ কোনো কিছু না বুঝলে শিক্ষকরা বুঝিয়ে দেন৷ এভাবেই আমরা কাজ করে থাকি৷

মন্ত্রিসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে কি এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সংকটে পড়তে হয়েছে?

যেহেতু আমরা অল্পদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি, তাই এখনও কোনো সমস্যা হয়নি৷ যদি সমস্যা হয় তখন তো শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গেই আছেন৷ তখন তারাই হয়ত কোনো উপায় বলে দিবেন৷

বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পড়াশোনা কি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

পড়াশোনায় বাধা আমরা উপলব্ধি করছি না, আর হয়ত করবও না৷ এমনিতেই আমাদের দায়িত্বের মধ্যে এগুলো পড়ে৷ স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনটা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে তুমি তোমার দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন কর৷ এমনিতেই স্টুডেন্টদের এই দায়িত্বগুলো পালন করা উচিত

তোমাদের পরিবার এই বাড়তি দায়িত্বকে কীভাবে দেখছে?

আমি যখন নির্বাচনে দাঁড়াব, তখন আমার পরিবার আমাকে বলেছে, হ্যাঁ, তুমি এই পদে দাঁড়াতে পার৷ স্কুলে নেতৃত্ব দিলে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা তোমার এখনই তৈরি হবে৷ পরবর্তীতে তোমার অনেক ভালো হবে৷ আমার পরিবার অনেক সাপোর্ট করেছে৷ তাছাড়া স্কুলে আমরা একটা প্রোগ্রাম করেছিলাম, বিষয়টা ছিল- ‘আমিই আমার নেতা'৷ সেখানে আমরা শিখেছি, নিজের কাজ কীভাবে নিজে করতে হয়, কীভাবে অন্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হয় বা অন্যকে কীভাবে সহযোগিতা করতে হয়, সেটাও আমরা শিখেছি৷ ফলে এখানে আমরা সেই শিক্ষা প্রয়োগ করতে পারব৷

সাধারণ শিক্ষার্থীরা তোমাদের এই নেতৃত্বকে কীভাবে দেখছে?

তারা তো আমাদের নেতৃত্বকে গ্রহণ করেছে৷ কারণ তাদের মতের উপর ভিত্তি করেই তো আমরা নির্বাচিত হয়েছি৷ তারা অসন্তুষ্ট নয়, তারাও সন্তুষ্ট৷ তারা আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে৷ আমরাও কাজগুলো ভালোভাবে করার চেষ্টা করছি৷ তাদের সাপোর্ট ছাড়া শুধু নেতাদের দিয়ে কাজগুলো করা সম্ভব না৷

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তুমি কী বলবে?

আমরা তো আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখি৷ তিনি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের কীভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ আমাদের নাগরিকদের কীভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সেটা তিনি ভাবেন৷ আমি প্রধানমন্ত্রী ঠিক, আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব, কীভাবে তাদের পাশে থাকতে পারি সেগুলো চিন্তা করছি৷ তারাও আমাদের পাশে থাকবে, সেটা আমি প্রত্যাশা করি৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন