স্টুটগার্টে বায়ুদূষণ রোধে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 12.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্টুটগার্টে বায়ুদূষণ রোধে অভিনব উদ্যোগ

মার্সিডিজ, পোরশে – এমন সব গাড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত জার্মানির স্টুটগার্ট শহর৷ সেখানে মানুষপ্রতি গাড়ি ব্যবহারের অনুপাতও বেশি৷ ফলে সেখানকার বাতাসে ক্ষতিকারক উপাদান আছে অনেক৷ সেটি দূর করতে সম্প্রতি অভিনব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷

স্টুটগার্টকে জার্মানির ফাইনডাস্টের রাজধানী বলা হয়৷ গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর উপাদানে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে৷ সেখানে বাস করেন রায়কো শিগনার৷ বাড়ির চারপাশে ফাইনডাস্টের মাত্রা নিজেই পরিমাপ করেন তিনি৷

তথ্য সংগ্রহের পর সেগুলো লুফটডাটেন.ইনফোতে তুলে দেন৷ ঐ ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের এলাকার বাতাসে ক্ষতিকারক উপাদানের পরিমাণ জানতে পারেন ব্যবহারকারীরা৷ যখন মাত্রা বেড়ে যায়, তখন শিগনার তাঁর গাড়ি বাসায় রেখে যান৷

 

শিগনারকে পরিমাপ যন্ত্রটি দিয়েছে স্টুটগার্টের ‘ওকে ল্যাব'৷ কীভাবে তা তৈরি করতে হবে সে ব্যাপারে অনলাইনে পরামর্শও দিয়েছে৷ একটি প্রোসেসর ও তারহীন চিপ, একটি বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন ও দু'টি প্লাস্টিক পাইপ আছে তাতে৷ খরচ প্রায় ৩০ ইউরো৷

ওকে ল্যাবের প্রধান ইয়ান লুৎস বছর দুয়েক আগে লুফটডাটেন.ইনফো ওয়েবসাইটটি চালু করেন৷ একটি জরিপ বলছে, ফাইনডাস্টের পরিমাণ অনেক বেশি জানার পরও পাঁচ শতাংশেরও কম নগরবাসী বাসায় গাড়ি রেখে বের হন৷

এই তথ্য লুৎসকে উদ্বিগ্ন করেছে৷ তাই তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছেন, যা মানুষকে সহজে ও দৃশ্যমান তথ্য দেয়ার মাধ্যমে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সচেতন করবে৷ লুৎস বলেন, ‘‘এটি মানুষকে তাঁর আচরণ পরিবর্তনে সাহায্য করার একটি উপায়৷ জার্মানিতে অনেক বেশি গাড়ি৷ ফলে আমাদের এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য থমকে দিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করবে যে, ‘‘ওহ, আমরা এখানে কী করছি?''

স্টুটগার্টের স্থানীয় সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, ২০১৮ সালে যেদিন বাতাসে ফাইনডাস্টের মাত্রা বেশি থাকবে, সেদিন কয়েক ধরনের ডিজেলচালিত গাড়ির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে৷

শহর কর্তৃপক্ষের হয়ে ফাইনডাস্টের মাত্রা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন উলরিশ রয়টার৷ শিগনারের মতো যন্ত্র বিভিন্ন বাড়িতে বসানোর পক্ষে তিনি৷ যদিও এই বিষয়ে তাঁর কিছু শঙ্কা আছে৷ রয়টার বলেন, ‘‘যন্ত্রটা ঠিকমতো ব্যবহার করা গেলে, তা সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য নিশ্চয়ই একটি ভালো উদ্যোগ৷ কিন্তু একটা বিপদও আছে, কারণ, এতে তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ কারণ ধরুন, কেউ একজন হয়ত রাস্তায় যন্ত্রটি বসালো, আর আরেকজন বসালো বাড়ির বাগানে, তাহলে একজন বলবেন যে, তাঁর এলাকায় অনেক দূষণ, আর অন্যজন বলবেন, তিনি যেখানে থাকেন সেখানে দূষণ কম৷''

শুধু স্টুটগার্টেই নয়, জার্মানির অন্য কয়েকটি শহরেও এমন যন্ত্র বসানো হয়েছে৷

আলেক্সা মায়ার/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক