স্ক্যাল্পেলের বদলে সিটি আজ জীববিজ্ঞানীদের হাতিয়ার | অন্বেষণ | DW | 17.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

স্ক্যাল্পেলের বদলে সিটি আজ জীববিজ্ঞানীদের হাতিয়ার

ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিকরণবিদ্যার একটি অপরিহার্য উপকরণ হল ব্যবচ্ছেদ৷ কিন্তু নতুন একটি প্রযুক্তিতে কম্পিউটারের স্ক্রিনে প্রাণী বা জীবটির ভার্চুয়াল, ত্রিমাত্রিক ইমেজের উপর কাটাছেঁড়া করা চলে, বাস্তব নমুনাটি অক্ষতই থাকে৷

ক্রিট দ্বীপের পূর্ব উপকূলে মেরিন বায়োলজিস্টরা জলের নীচে নতুন জীবজন্তুর খোঁজ করছেন৷ পাথরের গায়ের শ্যাওলা থেকে তারা সেই সব অতি ক্ষুদ্র প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করছেন, যারা সমুদ্রবক্ষে বাস করে৷ জীববিজ্ঞানী সারা ফাউলভেটার বললেন, ‘‘বিশ্বের যে সব সাগর নিয়ে প্রভূত গবেষণা করা হয়েছে, ভূমধ্যসাগর তাদের মধ্যে অন্যতম, কেননা সমুদ্র নিয়ে ইউরোপীয় গবেষণার সূচনাই এখানে৷ তবুও আমরা আজও এখানে নতুন নতুন প্রজাতি খুঁজে পাই, যেমন গতবছর আমরা বর্ণনা করেছি৷ সাগরের অন্যান্য এলাকা নিয়ে এখনও অতোটা গবেষণা করা হয়নি, কাজেই সেখানে আরো লাখ লাখ নতুন প্রজাতি খুঁজে পাবার সম্ভাবনা রয়েছে৷’’

জোনাকিরা এক আশ্চর্য প্রজাতি৷ আলো ছড়ানো রোঁয়াওলা এই পোকাগুলোর পরিবেশ দূষণ সহ্য করার ক্ষমতা অসাধারণ – এরা হেভি মেটাল গোত্রীয় পদার্থে বিশেষভাবে দূষিত পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে৷ ভূমধ্যসাগরের পানির তলার জোনাকিরা জিনগতভাবে ক্যারিবিয়ানের জোনাকিদের সঙ্গে এক হলেও, তাদের মর্ফোলজি বা অঙ্গসংস্থান আলাদা৷ এর ফলে এই দুই ধরনের জোনাকি একই প্রজাতির কিনা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 03:56
এখন লাইভ
03:56 মিনিট

জীববিজ্ঞানীদের হাতে নতুন হাতিয়ার

লিনেয়ুসের পদ্ধতি

বিজ্ঞানের যে শাস্ত্রটি বিভিন্ন প্রজাতিকে শনাক্ত ও বর্ণনা করে থাকে, তার নাম হল ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিকরণবিদ্যা৷ সুইডিশ জীববিজ্ঞানী কার্ল লিনেয়ুস প্রায় ৩০০ বছর আগে এই শ্রেণিকরণের গোড়াপত্তন করেন এবং ট্যাক্সোনমিস্টরা আজও মাইক্রোস্কোপ দিয়ে কীটপতঙ্গ পরীক্ষা করার সময় সেই সব নমুনার ছাপা ছবি ও ডায়াগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন৷ ফলে প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়৷

সারা ফাউলভেটার বললেন, ‘‘বস্তুত আমরা আজও তাই করে চলেছি: আমরা জন্তু-জানোয়ার দেখি, তাদের লাশ কাটি, তাদের ছবি আঁকি, তাদের বর্ণনা করি ও এ-সব নিয়ে লেখা ছাপাই৷ কাজেই ৩০০ বছর আগে যা করা হতো, ব্যাপারটা আজও তাই রয়েছে৷’’

ইউরোপীয় অর্থানুকুল্যে সংঘটিত একটি প্রকল্পে একটি নতুন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা শ্রেণিকরণবিদ্যাকে প্রযুক্তির এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে৷ সাগরে সংগৃহীত জোনাকিগুলির একটি নমুনাকে সিটি স্ক্যানারে দেওয়া হয়৷ যন্ত্রটি সেই নমুনার এক পর্যায় এক্স-রে ছবি তোলে, যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নমুনাটির একটি বিশদ ভার্চুয়াল ত্রিমাত্রিক ইমেজ সৃষ্টি করা হয়৷

জীববিজ্ঞানী ক্রিস্টস আর্ভানিটিডিস বললেন, ‘‘তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রের সঙ্গম ঘটেছে এখানে৷ একটি হল প্রথাগত শ্রেণিকরণবিদ্যা, দ্বিতীয়ত তথ্য প্রযুক্তি, আর তৃতীয় হল বায়ো-ইমেজিং, যা বস্তুত চিকিৎসাবিদ্যার অঙ্গ৷ আমরা তিনটি শাস্ত্রকে এই পদ্ধতিতে একত্রিত করেছি৷’’

এক্স-রে স্ক্যান থেকে থ্রিডি মডেল তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগে৷ কিন্তু একবার তৈরি হয়ে গেলে মডেলটিকে স্ক্রিনে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়, এমনকি আদত বাস্তব নমুনাটির কোনোরকম ক্ষতি না করে তা ভার্চুয়ালি ব্যবচ্ছেদও করা চলে৷ সারা ফাউলভেটার জানালেন, ‘‘এই প্রযুক্তির ফলে বিজ্ঞানীরা জীবটিকে কাটাছেঁড়া না করে, কম্পিউটারের স্ক্রিনে ত্রিমাত্রিকভাবে পরীক্ষা করার অনন্য সুযোগ পান৷ অপরদিকে প্রথাগত ট্যাক্সোনমিতে আমাদের নমুনাটিকে মাইক্রোস্কোপের তলায় ব্যবচ্ছেদ করতে হত, যার ফলে মূল নমুনাটি বিনষ্ট হয়ে যেত৷’’

নতুন প্রযুক্তিটির গতিবেগ ও দক্ষতা সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের অনাবিষ্কৃত জীব ও প্রাণীদের সন্ধানে সাহায্য করবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও