1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখোমুখি ম্যার্কেল

৩ এপ্রিল ২০১৯

জার্মান চ্যান্সেলর একটি হাইস্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রেক্সিট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’৷ কিন্তু আলোচিত প্রশ্ন ছিল কপিরাইট আইনের আর্টিকেল ১৩ নিয়ে৷

https://p.dw.com/p/3G9Xd
ছবি: picture-alliance/dpa/M. Kappeler

বার্লিনের টোমাস মান হাইস্কুলে মঙ্গলবার সকালটা ছিল উত্তেজনায় ভরপুর৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের স্কুল পরিদর্শন নিয়ে এত উত্তেজনা৷ এই একটি দিনের জন্য স্কুল থেকে মোবাইল ফোনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল, যাতে শিক্ষার্থীরা ম্যার্কেলের সাথে সেলফি তুলতে পারে৷ 

জলবায়ু সংক্রান্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন-উত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল আধাঘণ্টা সময়৷ কিন্তু এই স্বল্প সময়ে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ, সামাজিক বৈষম্য, স্কুলের ডিজিটাইজেশনসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করে৷ তবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ম্যার্কেল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার' এর অংশ হিসেবে জার্মানির হাজারো তরুণ-তরুণীর ধর্মঘটের কথা মাথায় রেখে এ বিষয়ক প্রশ্নের জন্য তৈরি হয়েই এসেছিলেন ম্যার্কেল৷ বাস্তুসংস্থানের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ফাঁকে ম্যার্কেল জানতে চান, ঐ বিক্ষোভে কারা অংশ নিয়েছিল৷ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত ২০০'র ও বেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাত তুলেছিল ১০ জনেরও কম৷ এ সময় ম্যার্কেল বলেন, ‘‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি মনে করি এই আন্দোলন খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ ভালো কিছু করার জন্য আমাদের মধ্যে যে সচেতনতা এটা তারই প্রতীক৷''

কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি

কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে কীভাবে তা সামলে দিতে হয়, তা ম্যার্কেল ভালোই জানেন৷ ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর যেমন দিয়েছেন, তেমনি পরিবেশ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘একদিকে আমরা দেখছি মানুষের চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে, আবার এমন মানুষ আছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত৷ আমাদের তাই সবার কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে৷''

ব্যবসায় যেসব শিক্ষার্থীর আগ্রহ রয়েছে, তাদের জামার্নির একমাত্র অবশিষ্ট বাদামি কয়লা খনির এলাকা লাওজিৎস সফরের পরামর্শ দিলেন ম্যার্কেল৷ এই খনিটি ২০৩৮ সালে বন্ধ করা হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘ঐ এলাকার প্রতিটি মানুষ চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছে৷ আমাদের তাদের কথাও মাথায় রাখতে হবে৷''

তবে ব্রেক্সিট নিয়ে বেশি মাথা ঘামাননি তিনি৷ ব্রেক্সিটের কারণে একজন শিক্ষার্থী তার স্কুল শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন৷ এ বিষয়ে ম্যার্কেল বলেন, ‘‘আমরা দেখতে পাচ্ছি ব্রিটেনে ব্রেক্সিট খুব সহজ ব্যাপার নয়৷ আশা করবো খুব দ্রুত এর সমাধান হবে৷ তবে কিছু অনিশ্চয়তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে৷ যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আমরা নিশ্চয়ই কোনো সমাধান বের করতে সক্ষম হব৷'' 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর সেন্সরশিপ

এক রোমানীয়-সিরীয় কিশোরী জানতে চেয়েছিল, নতুন শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় জার্মানি কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে? আর এক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ছিল, দরিদ্র প্রবীণদের ব্যাপারে ম্যার্কেলের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

তবে এসব প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্নকে প্রতিটি শিক্ষার্থী করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানায়, সেটা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কপিরাইট আইনের আর্টিকেল ১৩ নিয়ে৷ তবে ম্যার্কেল বেশ ভারসাম্য রেখেই এ প্রশ্নের উত্তর দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, আর নতুন আইন মানে এই নয় যে পুরো ইন্টারনেটের উপর সেন্সরশিপ৷''

ম্যার্কেলের এই সফরকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই ছিলো শিক্ষার্থীদের মাঝে৷ ১৬ বছর বয়সি করিম জানালো, ‘‘তিনি ভীষণ ‘কুল', ভীষণ ধীর-স্থির, তাঁর মজা করে কথা বলা বেশ ভালো লেগেছে৷ প্রশ্ন উত্তর পর্বের সবশেষ প্রশ্ন ছিলো আর্টিকেল ১৩ নিয়ে, যেটার বিষয়ে আমি খুব একটা জানতাম না৷ তিনি কিছুটা ব্যাখ্যা করেছেন, ফলে আমার এতে আগ্রহ জন্মেছে৷''

১৫ বছরের আর এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘‘তিনি আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছেন, সেটা সত্যিই মজার ছিলো৷ আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিলো, তাই আমরা চেয়েছি ইন্টারনেটেও আমরা যাতে স্বাধীনভাবে আমাদের মতামতগুলো তুলে ধরতে পারি৷ কারণ আমার মনে হয় আর্টিকেল ১৩ এখানে একটা সীমারেখা টেনে দিচ্ছে৷''

প্রশ্ন-উত্তর পর্বের পর শিক্ষার্থীরা চ্যান্সেলরের সঙ্গে সেলফি তোলে৷ এরপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার আগে তাঁকে বিশেষ কিছু উপহার দেয়া হয়৷

বেন নাইট/এপিবি