স্কুল কেবিনেটকে ‘রাজনীতিমু্ক্ত′ রাখুন | বিশ্ব | DW | 15.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

স্কুল কেবিনেটকে ‘রাজনীতিমু্ক্ত' রাখুন

শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু রাজনীতি শিখুক৷ শিখুক সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা৷ স্কুল কেবিনেট তার জন্য একটা চমৎকার প্লাটফর্ম৷ এই রাজনৈতিক প্লাটফর্মটিকে মূল ধারার রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে৷

ছাত্র রাজনীতিকে বরাবরই আমি ইতিবাচকভাবে দেখি৷ অনেকেই ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন আছে কী নেই, তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলেন৷ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাজ শুধু পড়াশোনো করা৷ কিন্তু আমি বলি, শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষণীয় সব কিছুই করতে পারে৷ যা তার ভালো লাগে সবই সে করবে৷ তাতেই সে অনেক কিছু শিখে যাবে, যা তার জীবনে কাজে লাগবে৷ খেলাধুলা বা সংস্কৃতি বা রাজনীতি চর্চা সবকিছু থেকেই শেখার আছে৷

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি৷ তা হলো, স্কুল-মাদ্রাসার কেবিনেট নির্বাচন৷ এই আইডিয়াটি আমার কাছে অনেক চমৎকার লেগেছে৷ ২০১৫ সাল থেকে এটি চলছে৷ মার্চ মাসে ১৬ হাজার ২শ' ৪৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও ৬ হাজার ৭শ' ১৬টি দাখিল মাদ্রাসায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯শ' ৬০টি পদের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ১শ' ২৬ জন ও মাদরাসা পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৭শ' ২৮টি পদের জন্য ৯৩ হাজার ৭শ' ১০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়৷

শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ ভোটে প্রত্যেক স্কুলে ৮ সদস্যের স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন করে৷ ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির যে-কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে৷ বিষয়টি অনেক সুন্দর৷ উৎসবমুখর পরিবেশে তারা ভোট দিচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে এবং মন্ত্রিসভা নির্বাচিত হচ্ছে৷

Bdnews-Deutsche Welle Talkshow (bdnews24.com)

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

ছোটবেলায় যখন বিতর্ক করতাম, তখন কয়েকটি ফরম্যাট খুব আকর্ষণীয় লাগত৷ সংসদীয় বিতর্ক, আদালত বিতর্ক ইত্যাদি৷ আমার সংসদীয় বিতর্ক খুব ভালো লাগত৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, বিরোধী দলের নেতা থাকতেন, সংসদীয় নেতা থাকতেন৷ আমরা এক্সিবিশন শোগুলোতে বিষয়টিকে জনগণের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য সংসদে ওয়াক আউট করতাম৷ ঝগড়া করতাম৷ এক পক্ষ আরেক পক্ষকে টিজ করতাম৷ বিষয়টি দর্শকরা খুব মজা পেতেন৷ কিন্তু যে বিষয়টি তখন কখনো চিন্তাতেও আসেনি তা হলো, আমরা জনগণের কাছে আকর্ষণীয় করবার জন্যসারাবিশ্বের সংসদগুলোতে যেসব ঘটনা ঘটে তেমন ঘটনা ঘটাবার চেষ্টা করতাম৷ যেমন, ফাইল ছোড়া, ঝগড়া করা, টিজ করা ইত্যাদি৷ কিন্তু একটি আদর্শ সংসদ কেমন হওয়া উচিত, তা কখনো তুলে ধরার চেষ্টা করতাম না, পাবলিক মজা পাবে না বলে৷

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে৷ সেগুলো হলো, সহিংসতা, ভোট কারচুপি, ভীতি ও পেশিশক্তি প্রদর্শনসহ আরো বেশ কিছু বিষয়৷ শিক্ষার্থীদের কেবিনেট নির্বাচনে এগুলোর মাত্রা তেমন না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে হবার শঙ্কা রয়েছে এবং আগে ঘটেছে৷ কিন্তু সুখের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের নির্বাচনে তেমন কিছু ঘটেনি৷ এজন্য স্কুল-মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসন সাধুবাদ পেতে পারে৷ কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, এই নির্বাচনগুলোতে যেন জাতীয় বা স্থানীয় রাজনীতির ছায়া না পড়ে৷ তাহলে আদর্শ নির্বাচন কী হওয়া উচিত, আদর্শ গণতন্ত্র কী হওয়া উচিত, তা হাতে কলমে শেখার যে বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হবে শিক্ষার্থীরা৷ এই খেয়াল রাখার দায়িত্বটা সরকার বা শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের৷ এরা ভবিষ্যতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে যে ভূমিকা রাখবে, তাতে আজকের এই শিক্ষার অনেক প্রভাব থাকবে, যেটা আজ হয়তো বুঝবে না এই শিক্ষার্থীরা, যেটা আমরাও ছোটবেলায় বুঝিনি৷ 

ব্লগপোস্টটি কেমন লাগলো? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন