সৌরঝড়ের পূর্বাভাষ দিতে নতুন উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 12.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সৌরঝড়ের পূর্বাভাষ দিতে নতুন উদ্যোগ

সূর্যের বুকে ব্যাপক আলোড়নের ধাক্কা পৃথিবীতেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাতে পারে৷ তাই সৌরঝড় সম্পর্কে আরও জানতে ও সময়মতো তার পূর্বাভাষ দিতে বিজ্ঞানীরা উদ্যোগ নিচ্ছেন জার্মানির বিজ্ঞানীরা৷

সূর্যই আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র৷ মহাজাগতিক এই বস্তুর মধ্যে তুমুল আলোড়ন চলে৷ গোটা মানবজাতি সারা বছর যত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সূর্যের মধ্যে একই পরিমাণ জ্বালানি সৃষ্টি হয়৷ আকার-আয়তনের তুলনায় সূর্যের কাছে পৃথিবী অত্যন্ত ক্ষুদ্র৷

সূর্য থেকে বৈদ্যুতিক কণায় ভরা মেঘ বার বার মহাকাশে বেরিয়ে আসে৷ তার থাবা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছতে পারে৷ এমন সৌর ঝড়ের ফলে স্যাটেলাইটের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে৷ এমনকি ১৯৮৯ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷ সৌর পদার্থবিজ্ঞানী ড. আলেক্সান্ডার ভারমুট সেই ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘‘সে সময়ে ক্যানাডার কুইবেক প্রদেশে ট্রান্সফর্মার গলে যাওয়ায় গোটা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে পড়েছিল৷ ফলে শীতকালের চরম আবহাওয়ার মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ আচমকা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন৷''

জার্মানির পটসডাম শহরের পদার্থবিদরা সংবেদনশীল প্রযুক্তির সুরক্ষার লক্ষ্যে সৌর ঝড় সম্পর্কে পূর্বাভাষ দিতে চান৷ সেই লক্ষ্যে তাঁদের আরও ভালোভাবে সূর্য পরীক্ষা করতে হবে৷ একাধিক স্যাটেলাইট এর মধ্যেই সূর্য ও তার ঝোড়ো বায়ুমণ্ডলের অতি সূক্ষ্ম ছবি সরবরাহ করেছে৷ লাইবনিৎস ইনস্টিটিউটের সৌর পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান প্রো. ড. গটফ্রিড মান বলেন, ‘‘এমন ছবি সত্যি খুব বিস্ময়কর৷ এটাই সৌর পদার্থবিদ্যার বৈশিষ্ট্য৷ যে সহকর্মীরা নক্ষত্র বা ছায়াপথের পদার্থবিদ্যা নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরা এত কাছ থেকে প্রক্রিয়াগুলি দেখতে পারেন না, যেমনটা সূর্যের ক্ষেত্রে সম্ভব৷ তাছাড়া তাঁদের কাছে সময়ের মানদণ্ডও অন্য রকম৷''

সোলার অর্বিটার মহাকাশযানের মাধ্যমে গবেষকরা এই প্রথম সৌর ঝড়ের উৎপত্তি পর্যবেক্ষণ করতে চান৷ তার জন্য এই স্যাটেলাইটকে সূর্যের কাছে গিয়ে ১০ দিন ধরে একই অংশের দিকে নজর রাখতে হবে৷

এই স্যাটেলাইটের জন্য পটসডাম শহরের পদার্থবিদরা গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র সৃষ্টির কাজে অংশ নিয়েছেন এবং আইনস্টাইন টাওয়ারে তা পরীক্ষাও করেছেন৷ ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সৌর গবেষণার কাজ চলছে৷ এই ঐতিহাসিক ভবনে তাঁরা এখন বিশেষ ধরনের টেলিস্কোপের জন্য জটিল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছেন৷

জোরালো রশ্মি থেকে সোলার অর্বিটার যান রক্ষা করতে বিশেষ এক তাপ নিরোধক বর্ম রয়েছে৷ যানের মধ্যে একটি টেলিস্কোপ ভালো করে সূর্য পর্যবেক্ষণ করবে এবং তার বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উত্তপ্ত অংশগুলি পরীক্ষা করবে৷ সেই সব জায়গায়ই সৌর ঝড় সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা বেশি৷

সূর্যের মধ্যে বিশাল মাত্রায় যে তোলপাড় কাণ্ড চলে, বিজ্ঞানীরা প্রতিদিন তা লক্ষ্য করেন৷ এই জ্ঞান কি পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা বদলে দেবে? প্রো. ড. গটফ্রিড মান মনে করেন, ‘‘এমন উপলব্ধি হলে নিজেকে অতি তুচ্ছ মনে হয়৷ বোঝা যায় বিশ্মব্রহ্মাণ্ডে আমরা কতটা গুরুত্বহীন৷ মানুষ হিসেবে প্রায়ই আমরা প্রত্যেকেই নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি৷ কিন্তু বাস্তবে আমরা ধুলিকণার মতো৷ প্রাকৃতিক নিয়মের সামনে সম্পূর্ণ অসহায়৷''

২০২০ সালে নতুন এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে৷ গবেষকরা এখন থেকেই এই অভিযান থেকে প্রাপ্য তথ্যের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন৷ কারণ তা থেকে সূর্যের কর্মপ্রণালী সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে৷

কর্নেলিয়া বরমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন