সৌদ আরবের তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সৌদি আরব

সৌদ আরবের তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা

করোনা ভাইরাসের সময়ে বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা৷ আর তা ভাবনায় ফেলেছে তেল-অর্থনীতির উপর টিকে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে৷

 তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ভাবনায় এ বিষয়টি নাড়া দিয়েছে যে, তেলের বিশ্ববাজার জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ছে৷ আর তাই কমে যেতে পারে খনিজ তেলের চাহিদা৷ 

অপরিশোধিত তেলের বাজার একেবারে ফুরিয়ে যাওয়ার আগে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত সৌদি আরব৷দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল উৎপাদনকারী সংস্থা আরামকো অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে৷ জানা গেছে, তেলের দৈনিক উৎপাদন ১২ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে ১৩ মিলিয়নে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে দেশটি৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব তেলের চাহিদা বাড়ার আগেই নিজেদের তেল রপ্তানি বাড়িয়ে মুনাফা হাতিয়ে নিতে চাইছে তারা৷

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা কমলে নতুন বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার পরিকল্পনাও করছে দেশটি৷ এজন্য ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে তারা৷

তবে এখনো খনিজ তেলের বিশ্ব বাজার নিয়ে আশাবাদী আরামকো৷ ‘‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের চাহিদা বাড়বে৷ খুব দ্রুতই এ বাজারের পতন ঘটার আশঙ্কা নেই,'' বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন আরামকোর এক কর্মকর্তা৷

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহামেদ বিন সালমানের নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ প্রয়োজন৷ প্রিন্স সালমান ২০৩০ সালের মধ্যে তেল রপ্তানির উপর দেশটির নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চান৷ আর এ জন্য তার প্রয়োজন অর্থ৷ সে অর্থের অন্যতম উৎস তেল রপ্তানি৷

আর তাই অধিক পরিমানে তেল রপ্তানি করে উপার্জিত টাকা অন্য খাতে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন সালমান, বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স৷ 

এদিকে বাজারে পরিবেশবান্ধব তেলের চাহিদা বাড়ার কারণে, আরামকোকেও সে বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে৷ আরামকোর তেল তার প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব৷ আরামকোর প্রতি ব্যারেল তেলে কার্বন ডাই অক্সাইডের তীব্রতা দশ দশমিক এক কেজি যা তার প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক কম৷

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব তেল উৎপাদনে মনোযোগী হওয়া আর উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা৷ পাশাপাশি তেল উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও আমাদের নজর রয়েছে যেন প্রতিযোগীদের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা টিকে থাকতে পারি৷''

তেল গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অমৃতা সেন মনে করেন, যে দেশগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে তেল উৎপাদন করতে পারবে তারা বাজারে টিকে থাকবে৷ আর এক্ষেত্রে সৌদি প্রতিষ্ঠান আরামকো ভালো অবস্থানে থাকবে৷

আরআর/এসিবি (রয়টার্স)