সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করল অ্যামনেস্টি | বিশ্ব | DW | 23.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অস্ত্র ব্যবসা

সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করায় পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করল অ্যামনেস্টি

পশ্চিমা দেশগুলি যে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে, তার দাম দিচ্ছেন ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকরা – বলেছে অ্যামনেস্টি৷ অপরদিকে জার্মানি ঘোষণা করেছে যে, সৌদি আরবকে টহলদারি বোট বিক্রয়ের পরিকল্পনা বজায় থাকবে৷

শুক্রবার মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সমালোচনা করে, কেননা, এই দু'টি দেশ পূর্বাপর সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রয় করে চলেছে, যদিও দেশটি প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনের তিন বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধে সামরিকভাবে সংশ্লিষ্ট৷

অ্যামনেস্টি বলে যে, অস্ত্র বিক্রির ফলে ‘‘ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকদের বিপুল ক্ষতি’’ হয়েছে৷ ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরাসহ ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে বলে অ্যামনেস্টি অভিযোগ করে৷

হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছে৷ সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেই সরকারের মিত্র৷ হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পরপরই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিদ্রোহী বাহিনীর উপর বিমান থেকে বোমাবর্ষণের অভিযান শুরু করে৷

‘‘তিন বছর পরেও সংঘাতের প্রশমন ঘটার কোনো লক্ষণ নেই এবং সব পক্ষ নির্দ্বিধায় বেসামরিক জনসাধারণের দুঃখকষ্ট বাড়িয়ে চলেছে,’’ বলেছেন অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা পরিচালক লিন মালুফ৷ ‘‘স্কুল, হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুহারা ও মানবিক সাহায্যের মুখাপেক্ষী৷’’

‘‘কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন, এবং ফ্রান্স, স্পেন বা ইটালির মতো অপরাপর দেশ কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করে চলেছে,’’ বলে মালুফ যোগ করেন৷ ‘‘বেসামরিক জনসাধারণের জীবন বিপর্যস্ত করা ছাড়াও, এর ফলে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি একটি প্রহসন হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷’’

মার্কিন এফ-১৫ জঙ্গিজেট আর ব্রিটিশ টর্নেডো জঙ্গিজেট সৌদি অস্ত্রসম্ভারে বিশেষভাবে কার্যকরি অস্ত্র৷

জার্মানির মনোভাব

অ্যামনেস্টির রিপোর্ট প্রকাশিত হবার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জার্মান সরকার সৌদি আরবকে আটটি টহলদারি বোট বিক্রির চুক্তি অনুমোদন করেছে, যদিও ইতিপূর্বে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সংশ্লেষের কারণে রপ্তানি নিষেধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল৷

জার্মানির নতুন জোট সরকারের অংশীদাররা সরকারগঠন সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনার সময় এ বিষয়ে একমত হন যে, ইয়েমেন যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে অস্ত্র বিক্রয় করা হবে না৷ তবে তার সাথে অপর একটি শর্ত ছিল, যে শর্ত অনুযায়ী ইতিপূর্বে অনুমোদিত অস্ত্র বিক্রয়ের অনুমোদনগুলি বজায় থাকবে – টহলদারি বোটগুলির ক্ষেত্রে যা ঘটেছে৷

কোনো পক্ষই নির্দোষ নয়

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হুতি ও অপরাপর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিরও সমালোচনা করেছে, কেননা, তারাও নির্বিচারে আবাসিক এলাকার উপর বোমা ফেলেছে৷ মালুফ স্বয়ং হুতিদের তরফে খামখেয়ালি গ্রেপ্তার, গুম, খুন, শারীরিক নিপীড়ন ও অপরাপর যুদ্ধাপরাধ তুল্য অপরাধের কথা বলেছেন৷

অপরদিকে ২০১৫ সালের পর থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অন্তত ৩৬টি বিমানহানা চালিয়েছে, যেগুলি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী, ক্ষেত্রবিশেষে যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য করা যেতে পারে – বলেছে অ্যামনেস্টি৷ সংস্থাটির কাছে এই সব বিমানহানার খুঁটিনাটি আছে৷ ঐ সব বিমানহানায় ১৫৭ জন শিশুসহ ৫০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে৷

এসি/এসিবি (এপি, রয়টার্স, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন