সৌদিতে কাফালা পদ্ধতির পরিবর্তনের লাভক্ষতি | বিশ্ব | DW | 15.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সৌদিতে কাফালা পদ্ধতির পরিবর্তনের লাভক্ষতি

সৌদি আরবে রোববার থেকে পরিবর্তিত শ্রম আইন কার্যকর হয়েছে৷ তাতে কাফালা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন এসেছে৷ তার মধ্যে অন্যতম হলো সেখানে কর্মরত প্রবাসীরা নিয়োগ কর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন৷

এছাড়া তারা সৌদি আরবের বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন৷ নিয়োগকর্তাকে লিখিতভাবে সরাসরি বা ইমেইলে জানালেই চলবে৷ নিয়োকারীর কোনো পূর্বানুমতি লাগবেনা৷ আর চাকরির মেয়াদ শেষ হলেই তারা চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারবেন৷ শুধু মাত্র অনলাইনে জানালেই হবে৷ কোনো অনুমতি নিতে হবে না৷

সৌদি জনশক্তি উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের সংস্কার প্রক্রিয়ার শুরুতে গত নভেম্বরে বলেছিলেন, ‘‘এর মাধ্যমে আমরা একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার গড়ে তুলতে চাই, এখানে কাজের পরিবেশকে উন্নত করতে চাই৷’’

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা সোমবার জানান, ‘‘আগে প্রবাসী কর্মীরা কাজ পরিবর্তন করতে পারতেন না৷ আর মেয়াদ শেষে তারা চাইলেও দেশে ফিরতে পারতেন না৷ নিয়োগকারীর অনুমতি লাগত৷ তবে এখন আর অনুমতি লাগবে না৷ তবে কোনো প্রতেষ্ঠানে কমপক্ষে এক বছর কাজ করতে হবে৷ তারপর পরিবর্তন করা যাবে৷ আর তারা ছুটিতে নিজেদের ইচ্ছায় অন্য দেশে বা নিজের দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন৷’’

এইসব সুবিধা পেতে বৈধ নিয়োগপত্র লাগবে বলে জানান তিনি৷ বৈধ নিয়োগপত্র না থাকলে তাদের জটিলতার কোনো অবসান এই আইনে ঘটবে না৷

এই ব্যবস্থার সুবিধা বাংলাদেশের গৃহকর্মী বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে যারা গেছেন তারা পাবেন কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন বৈধ নিয়োগ পত্র থাকলে সবাই পাবেন৷

অডিও শুনুন 03:28

গৃহকর্মীরা সরাসরি এই সুযোগ পাবেন না: হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ

কিন্তু জনশক্তি রপ্তানিকারক ও বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘‘গৃহকর্মীরা সরাসরি এই সুযোগ পাবেন না৷ কারণ তারা কোনো একটি এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মে নিযুক্ত হন৷ ওই এজেন্সি যদি মনে করে কোনো কারণে তার চাকরি পরিবর্তন করিয়ে দেবে তাহলে তারা করে দিতে পারবে৷’’

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসানও একই কথা বলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘যারা কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়োগপত্র নিয়ে সরাসরি কাজ করতে গেছেন তারা নতুন আইনের সুবিধা নিয়ে চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন৷’’

কিন্তু বাংলাদেশের যারা সৌদি আরবে কাজ করছেন তাদের বড় অংশ বিশেষ করে নারীরা গৃহকর্মী হিসেবেই সেখানে গেছেন৷ গাড়ি চালকদের একটি অংশ যারা ব্যক্তিগত গাড়ি চালান তারাও এই সুবিধা পাবেন না বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন৷ তবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, আইনটি মাত্র প্রয়োগ শুরু হয়েছে ৷ ধীরে ধীরে সব বিষয় পরিষ্কার হবে৷ আর এখন থেকে ভিসা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে৷ সিঙ্গেল এন্ট্রির পরিবর্তে প্রবাসী কর্মীদের মাল্টিপল ভিসা দেয়া হবে৷

সৌদি আরবে এখন বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি প্রবাসী কর্মী রয়েছেন৷ তার মধ্যে ২০ লাখ বৈধ বাংলাদেশি আছেন৷ আর বাংলাদেশিদের মধ্যে তিন লাখ নারী কর্মী যারা গৃহকর্মী হিসেবে সেখানে কাজ করেন৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৪০ হাজার কর্মী যান সৌদি আরবে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারের মত বাংলাদেশি নাগরিক ডিপোর্টেশন সেন্টারে আছেন৷ তার অধিকাংশই সৌদি আরবে৷২০১৪ সালে আট লাখ বাংলাদেশি সেখানে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন৷  

অডিও শুনুন 03:01

আমাদের দেশের প্রতারক চক্ররা এই আইনের সুযোগ নিতে পারে: শরিফুল হাসান

গৃহকর্মী হিসেবে যারা সৌদি আরবে কাজ করেন তারা নয় ধরনের কাজ করেন মালিকের বাড়িতে৷ ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের হিসাব মতে, গত চার বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৪৭৩ জন বাংলাদেশী প্রবাসী নারী কর্মী মারা গেছেন৷ এরমধ্যে সৌদি আরবে মারা গেছেন ১৭৫ জন৷ ৮১ জন নারী কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আত্মহত্যা করেছেন৷ তার মধ্যে সৌদি আরবে ৫১ জন৷ গত দুই বছরে সৌদি আরব থেকে  ফিরে আসা ৬৩ জনকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ৫৮ জনই নারী৷

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সৌদি আরব নিজেদের স্বার্থেই শ্রম আইনে পরিবর্তন এনেছে৷ কোভিড-এর কারণে শ্রমিকের স্বল্পতা এবং বাইরে ধেকে শ্রমিক যাওয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে৷ তবে সেখানে অবস্থানরত কর্মী বিশেষ করে বাংলাদেশিরা এখন চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন৷ বেশি বেতনে আরেক জায়গায় কাজ নিতে পারবেন৷ আগে যেটা হতো তাদের পাসপোর্ট আটকে রাখা হতো৷ তারা চাকরি পরিবর্তন তো দূরের কথা চাইলে দেশেও ফিরতে পারতেন না৷ এমনকি কেউ মারা গেলেও অনুমতি না মিললে লাশ  দেশে পাঠানো যেত না৷

শরিফুল হাসান বলেন, ‘‘আরেকটি আশঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে৷ আমাদের দেশের প্রতারক চক্ররা এই আইনের সুযোগ নিতে পারে৷ তার ফ্রি ভিসার কথা বলে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর প্রতারণা শুরু করতে পারে৷ এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে৷’’

এই চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হয়েছে অঞ্চল ভিত্তিক৷ আর অঞ্চলও ভাগ করে দেয়া হয়েছে৷ সেই অঞ্চলের বাইরে আবার চাকরি পরিবর্তন করে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না বলে জানা গেছে৷

গতবছরের সেপ্টেম্বরের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়