সৌদিতে ‘কাফালা আইনে’ পরিবর্তনই কি যথেষ্ট? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

সৌদিতে ‘কাফালা আইনে’ পরিবর্তনই কি যথেষ্ট?

প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যাপারে কাফালা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সৌদি আরব৷ ফলে শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে কাজ পরিবর্তন করতে পারবেন৷

চাইলে দেশেও ফিরে যেতে পারবেন৷ এতে সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীরা কতটা উপকৃত হবেন?

কাফালা শব্দটি আরবি ‘কফিল' শব্দ থেকে এসেছে৷ কফিল মানে মালিক৷ কাফালা আইন অনুযায়ী, প্রবাসী কর্মীরা সেখানে একজন মালিকের অধীনে কাজ করতে যান৷ তার অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো জায়গায় কাজ নেয়া বা দেশে ফেরা বেআইনি৷ এমনকি নির্যাতনের শিকার হলেও না৷ নির্যাতনের শিকার হয়ে কেউ পালিয়ে গেলে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়৷ কেউ মারা গেলে মালিকের অনুমতি ছাড়া দেশে লাশও পাঠানো যায়না৷

এই আইনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনসহ নানা মহল থেকে অনেক দিন ধরেই কথা হচ্ছিল৷ অবশেষে সৌদি আরবের জনশক্তি উপমন্ত্রী  আব্দুল্লাহ বিন নাসের আবুথুনাইন বুধবার রিয়াদে কাফালা নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন৷ আগামী মার্চ মাস থেকে তা কার্যকর হবে৷

সেটা হলে সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীরা মালিকের অনুমতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে তাদের কাজ বা চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন৷ মালিক কোনো বাধা দিতে পারবেন না৷ আর কেউ চাইলে দেশেও ফিরে যেতে পারবেন৷ সৌদি মন্ত্রী বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে আমরা একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার গড়ে তুলতে চাই, এখানে কাজের পরিবেশকে উন্নত করতে চাই৷''

আরো জানানো হয়েছে, প্রবাসী কর্মীরা মালিকের অনুমতি ছাড়াই সেখানকার সরকারি সেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন৷ তারা স্বাধীনভাবে সৌদি আরবের ভিতরে ও বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন৷ তাদের নিয়োগের চুক্তি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে৷

অডিও শুনুন 11:46

‘বাংলাদেশের কর্মীরাও সুবিধা পাবেন’

নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে বাংলাদেশের কর্মীরাও সেখানে সুবিধা পাবেন বলে মনে করেন ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান৷ তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে আসলে বলা সম্ভব নয় যে কতটা সুবিধা প্রবাসী কর্মীরা পাবেন৷

সৌদি আরবে এখন বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি প্রবাসী কর্মী রয়েছেন৷ তার মধ্যে ২০ লাখ বৈধ বাংলাদেশি আছেন৷ আর বাংলাদেশিদের মধ্যে তিন লাখ নারী কর্মী, যারা গৃহকর্মী হিসেবে সেখানে কাজ করেন৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৪০ হাজার কর্মী যান সৌদি আরবে৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারের মতো বাংলাদেশি নাগরিক ডিপোর্টেশন সেন্টারে আছেন৷ তার অধিকাংশই সৌদি আরবে৷ ২০১৪ সালে আট লাখ বাংলাদেশি সেখানে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন৷

শরিফুল হাসান বলেন, ‘‘গৃহকর্মী হিসেবে যারা সৌদি আরবে কাজ করেন তারা ৯ ধরনের কাজ করেন মালিকের বাড়িতে৷ কাফালা পদ্ধতির পরিবর্তন হলে যে রাতারাতি তাদের অবস্থার উন্নতি হবে তা বলা যায়না৷ আগে তাদের পালিয়ে আসতে হতো৷ আর পালিয়ে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা হতো৷ এখন হয়তো কেউ কাজ না করলে চলে আসতে পারবেন৷ কিন্তু নির্যাতন পরিস্থিতি বন্ধ করতে হলে আইনে আরো পরিবর্তন আনতে হবে৷ বাংলাদেশ সরকারকেও দায়িত্ব নিতে হবে৷ কারণ সেখানে থেকে মামলা করে ক্ষতিপূরণ আদায় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়৷''

ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের হিসাব মতে, গত চার বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৪৭৩ জন বাংলাদেশী প্রবাসী নারী কর্মী মারা গেছেন৷ এরমধ্যে সৌদি আরবে মারা গেছেন ১৭৫ জন৷ ৮১ জন নারী কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আত্মহত্যা করেছেন৷ তার মধ্যে সৌদি আরবে ৫১ জন৷ গত দুই বছরে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা ৬৩ জনকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ৫৮ জনই নারী৷

অডিও শুনুন 03:39

‘সেখানে শ্রম আইন চালু হওয়া দরকার’

শরিফুল হাসান বলেন, ‘‘কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে এরইমধ্যে তাদের কাফালা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে৷ তারও প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে৷ সৌদি আরব ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশ এই পবির্তনে এগিয়ে আসছে৷ তবে একটি সংকটও সামনে আসতে পারে৷ কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশে প্রবাসীদের জন্য শ্রমবাজার সংকুচিত হতে পারে৷ বিশ্বের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে ওই দেশগুলো তাদের নিজেদের দেশের কর্মী বাড়াতে চাইছে৷’’

পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হলেও কাফালা বহাল থাকছে৷ কিন্তু অভিবাসন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, নির্যাতন বন্ধ করতে হলে পুরো কাফালা পদ্ধতিই বাতিল করা প্রয়োজন৷ তা না হলে কর্মীদের একজন মালিকের অধীনেই যেতে হবে সেখানে৷ আর এই আইন পরিবর্তন হলে গৃহকর্মীরা সুযোগ পাবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়৷

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাধারণ সম্পাদক নূর খান বলেন, ‘‘স্বাধীনভাবে কাজ পরিবর্তন বা দেশে ফিরে আসার সুযোগ দেয়া একটা অগ্রগতি৷ কিন্তু সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের শ্রমঘণ্টা ও বেতনের কোনো আইন নেই৷ ফলে কফিল বা নিয়োগকারী তাকে তার ইচ্ছে মতো কাজ করায়, মজুরি দেয়, নির্যাতন করে৷ এটার জন্য শ্রম আইন সেখানে চালু হওয়া দরকার৷''

তিনি বলেন, ‘‘নির্যাতন হলে তার প্রতিকার, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন৷ এজন্য বাংলাদেশ সরকারেরও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা শুরু করা উচিত৷''

তার মতে, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির অধীনে নিয়োগ হতে পারে, তবে তা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে করার বিধান করতে হবে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়