সোলার জিও ইঞ্জিনিয়ারিং | অন্বেষণ | DW | 21.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

সোলার জিও ইঞ্জিনিয়ারিং

সোলার জিও ইঞ্জিনিয়ারিং বা সৌর ভূ-প্রকৌশল একটি নতুন ধারণা৷ গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এই নতুন ধরনের গবেষণা নিয়ে কাজ করছেন৷ এটি যেমন বিপুল সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র, তেমনি এর ঝুঁকিও রয়েছে৷

কল্পনা করুন আপনি সাগর থেকে পানি তুলে নিচ্ছেন৷ অনেক পানি-  ধরুন কয়েক শত বিলিয়ন টন৷ এবার পুরো পানিটুকু জমে কয়েক ট্রিলিয়ন টন তুষার হয়ে গেল৷ এভাবে অ্যান্টার্কটিকের একটি অংশকে আপনি তুষারে পরিণত করলেন৷ বরফের ওপর আরেকটি বরফের চাদর৷

একটি গবেষক দলের হিসেবে এভাবে অ্যান্টার্কটিকের বরফ গলা ঠেকানো যাবে৷ আর বাঁচানো যাবে সাংহাইয়ের মতো শহর অথবা ডুবে যাওয়া থেকে বেঁচে যাবে নিউইয়র্ক৷ কারণ এই গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টার্কটিকের বরফ গলে গেলে পানির উচ্চতা বাড়বে তিন মিটারের বেশি৷

তাদের একজন বায়ুমণ্ডল বিজ্ঞানী মার্ক লরেন্স৷ তিনি বলেন, ‘‘পিআইকের গবেষকরা সেটাই করছেন যেটা গবেষকরা বরাবরই করে থাকেন- গেডাঙ্কেনএক্সপেরিমেন্টে বা চিন্তার পরীক্ষা৷''

তাই এখানে সবকিছুই এখনো তাত্ত্বিক৷ বিষয়টা হলো, পৃথিবীর জলবায়ু সিস্টেমের ভেতর কেমন করে ঢোকা যায়৷ একে বলা হয় ভূ-প্রকৌশল৷

এর দুই প্রধান ধারা আছে:

প্রথমত, কার্বন ডাই-অক্সাইডকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে দেয়া এবং দ্বিতীয়ত, সৌরশক্তি প্রতিফলনের ব্যবস্থা রাখা, যেন পৃথিবী দ্বিতীয়বার উত্তপ্ত না হয়৷

পদার্থবিদ জেসিকা স্ট্রেফলার বলেন, ‘‘নানা রকমের উদ্যোগ নিয়ে আমরা ভাবছি৷ একদিকে গাছ লাগিয়ে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড কমানোর চেষ্টা করছি, অন্যদিকে, কারিগরি উদ্যোগ নিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে বের করে নিয়ে আসা, যেমন, কৃত্রিম গাছ লাগানো৷ তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডেরও প্রয়োজন রয়েছে৷ একেও ভূ-তাত্ত্বিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে৷''

ভিডিও দেখুন 04:23

কী করতে পারে সৌর ভূ-প্রকৌশল

সমস্যা হলো কোথায় রাখা হবে কার্বন ডাই-অক্সাইড? একটা উপায় হলো একে মাটির নীচে সংরক্ষণ করা যেতে পারে৷ পাইলট আকারে কিছু প্লান্টও করা হয়েছে৷ কিন্তু ভাবনার বিষয়ও আছে৷

‘‘যে ঝুঁকির কথা সবাই ভাবছে, তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড আবার বেরিয়ে আসতে পারে৷ যদি বেরিয়ে আসেও তার পরিমাণ হবে অনেক কম, যা খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বায়ুমণ্ডলের ওপর,'' বলেন জেসিকা৷

সৌর জিও-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নানা ধারণা নিয়ে কাজ করা হয়৷ সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়টি হলো, বাতাসে এমন কিছু কণা ছড়িয়ে দেয়া যা সূর্যরশ্মিকে প্রতিফলিত করে আবার মহাকাশে পাঠিয়ে দেবে৷ যেমন, সালফারের কণা৷

মার্ক লরেন্স বলেন, ‘‘স্ট্রাটোস্ফিয়ারে যদি পর্যাপ্ত কণা ছাড়া যায় যে এগুলো এর তাপমাত্রাও পর্যাপ্ত পরিমাণে বদলে দিতে পারে, ধরুন ২ ডিগ্রি, তাহলে বায়ুমণ্ডলের রঙই বদলে যাবে৷ আমরা এমনটা দেখেছি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের পর, খুবই অদ্ভুত রঙ যেমন ম্যাজেন্টা বা কমলা রঙয়ের সূর্যাস্ত৷ এমনকি আকাশ আরো সাদা হয়ে উঠতে পারে, নীল কমে যেতে পারে৷ এমন পরিবর্তনগুলো হয়তো তখন চোখে ধরা পড়বে৷ তবে মনে রাখতে হবে, এর প্রভাব শুধু আমাদের ওপর নয় আরো অনেক জীবের ওপর পড়তে পারে, বিশেষ করে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সঙ্গে জীবনপ্রক্রিয়া জড়িত যেসব পোকামাকড় আছে সেগুলোর৷''

সোলার জিও-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে৷ তবে একই সময়ে কোনো কোনো এলাকা আরো অনেক শুষ্ক হয়ে যাবে৷ আর এটা বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না৷ তবে এই গবেষকদের কাছে এখনো সবকিছু চিন্তায় সীমাবদ্ধ৷ এখনো কোনো পরীক্ষা করা হয়নি৷

তাহলে জিওইঞ্জিনিয়ারিং ভূমিকা কী? এত সব ঝুঁকি নিয়ে তা কি আমাদের জলবায়ুকে বাঁচাতে পারবে?

জিওইঞ্জিনিয়ারিং আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে তা বুঝতে এখনো অনেক গবেষণা দরকার৷ কিন্তু এরপর তা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে৷

লেয়া আলব্রেশট/জেডএ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন