সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষ-পীড়িত এলাকায় আল শাবাব গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য | বিশ্ব | DW | 02.08.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষ-পীড়িত এলাকায় আল শাবাব গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য

ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে পূর্ব আফ্রিকার এক বিস্তীর্ণ এলাকা৷ কিন্তু সোমালিয়ায় উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আল শাবাব ত্রাণ তৎপরতায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে৷

FILE - This Dec. 8, 2008 file photo shows armed fighters from Somalia's al-Shabab jihadist movement traveling on the back of pickup trucks outside Mogadishu. Training camps in the lawless nation of Somalia are attracting hundreds of foreigners, including Americans, and Somalis recruited by a local insurgent group linked to al-Qaida, according to local and U.S. officials. American officials and private analysts say the camps pose a security threat far beyond the borders of Somalia, including to the U.S. homeland. (AP Photo/Farah Abdi Warsameh, File)

ফাইল ছবি

সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠী আল কায়েদার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত৷ দেশে প্রায় তালেবান ধাঁচের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে সংগ্রামের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা৷ গত প্রায় দুই দশকের অরাজকতার সুযোগ নিয়ে তারা দেশের একটা বড় অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে৷ সোমালিয়ার স্বীকৃত সরকার ও আফ্রিকান ইউনিয়ন বাহিনী তাদের পরাস্ত করতে পারছে না৷ কিন্তু সমাজের মধ্যে আল শাবাবের প্রতি সমর্থন কতটা রয়েছে? নাকি ভয়-ভীতি ও হুমকির মুখে তাদের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া ছাড়া মানুষের সামনে কোনো উপায় থাকছে না?

১৬ বছরের কিশোর আসাদ আব্দি'র কথাই ধরা যাক৷ তার এক কট্টরপন্থী আত্মীয় তাকে জোর করে আল শাবাবের সন্ত্রাসবাদীদের ক্যাম্পে ভর্তি করে দিয়েছিল৷ সে জানালো, ‘‘প্রতিদিন খুব ভোরে আমাদের ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হতো৷ তারপর দৌড়াতে হত৷ আরও শেখানো হত, কীভাবে বেড়া টপকাতে হয়৷ অস্ত্র চালানো, অস্ত্রে গুলি ভরা, তা রক্ষণাবেক্ষণ করা – এসবও শিখেছি৷ রাতে আমাদের জোর করে জিহাদ নিয়ে তৈরি কিছু চলচ্চিত্র দেখানো হতো৷''

কয়েক সপ্তাহ পর আসাদ আর এই মগজ-ধোলাই মেনে নিতে পারছিল না৷ সে কোনোরকমে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ায় আশ্রয় নিলো৷ কিন্তু ক্যাম্পে হাজার হাজার কিশোর ও তরুণের আত্মঘাতী হামলাকারী হবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়৷ ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গোষ্ঠীর নামই আল শাবাব – অর্থাৎ ‘তারুণ্য'৷ প্রথম দিকে তারা শুধু সোমালিয়ায় মোতায়েন করা ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতো৷ কিন্তু তারপর এই গোষ্ঠী আরও ব়্যাডিকাল ভাবধারা আঁকড়ে ধরলো৷ কট্টরপন্থীরা নেতৃত্বের দায়িত্ব নিলো৷ আল কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও তাদের গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়ালো৷ নিজেদের এলাকার মানুষকে জিহাদে অংশ নিতে বাধ্য করতে লাগলো তারা৷ গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা শেখ আলি মহম্মদ হুসেন কয়েক মাস আগে বলেছিলেন, ‘‘নারীদেরও জিহাদে তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে৷ যে নারীদের বয়স হয়েছে, যাদের কাছে কিছুই নেই, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলি – নিজেরা জিহাদে অংশ নিতে না পারলে নিজেদের সন্তানদের পাঠাও৷ সন্তানদের জন্য অস্ত্র-শস্ত্র, গোলা-বারুদ কিনে দাও৷ কারণ কোরআনেই লেখা আছে, কাউকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত করা মানে নিজেই সেই জিহাদে অংশ নেওয়া৷''

আল শাবাব সোমালিয়ায় একের পর এক অঞ্চল দখল করে নিচ্ছে৷ দুর্বল সরকার আফ্রিকান ইউনিয়ন বাহিনীর সাহায্যে শুধু রাজধানী মোগাদিশুর কয়েকটি এলাকার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে৷ কিন্তু বর্তমান দুর্ভিক্ষের ফলে আল শাবাব গোষ্ঠীর মধ্যে ফাটল দেখা দিচ্ছে৷ কয়েকজন নেতা সরাসরি আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংগঠনগুলির উদ্দেশ্যে ত্রাণ সাহায্যের অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও বাকিরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছে৷ এমনকি দেশে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, জাতিসংঘের এই ঘোষণাকে নিছক প্রচারণা হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছে কট্টরপন্থীরা৷

এই পরিস্থিতিতে দেশের দক্ষিণে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের কাছে ত্রাণ সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না৷ বিদেশি সাহায্যকারীরা নিজেদের প্রাণ সংশয় না করে স্থানীয় মানুষের সাহায্যে সেই সব এলাকায় সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করছে৷ তাদের আশা, ত্রাণ সাহায্য পেয়ে সাধারণ মানুষের উপকার হলে আল শাবাবের অপেক্ষাকৃত নরমপন্থী নেতাদের হাত শক্ত হবে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই

বিজ্ঞাপন