সেয়াটেলের ল্যাবে ম্যালেরিয়ার টিকা নিয়ে গবেষণা | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 21.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

সেয়াটেলের ল্যাবে ম্যালেরিয়ার টিকা নিয়ে গবেষণা

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এক প্রাণী হল মশা৷ কেননা মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়ায় প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী মারা যায় প্রায় ৮ লাখ মানুষ৷ অ্যামেরিকার সেয়াটেল শহরে গবেষকরা এরোগের টিকা নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছেন৷

প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি শিশু মারা যায় ম্যালেরিয়ায়

প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি শিশু মারা যায় ম্যালেরিয়ায়

স্টেফান কাপে এই গবেষকদেরই একজন৷ ল্যাবরেটরির সুরক্ষিত ঈষদুষ্ণ আধারে তিনি মশা ধরে রেখেছেন৷ মানুষের রক্ত তারা খেতে পাচ্ছে৷ মাঝে মাঝে চিনি মেশানো পানি৷ এই অতি ক্ষুদ্র প্রাণীগুলোর নিধন ক্ষমতার কথা ভেবে অবাক হন গবেষক কাপে৷ তিনি মনে করেন, মশা হলো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী৷ এই খুদে প্রাণীগুলো কীভাবে মানুষের মাঝে এত ব্যাপকভাবে ব্যাধি ছড়িয়ে দেয়, এত মানুষের প্রাণহানির কারণ ঘটায় বিজ্ঞানী কাপে তাঁর কর্মজীবনের অনেকটাই অতিবাহিত করেছেন তার হদিশ বের করার চেষ্টায়৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, আফ্রিকা মহাদেশে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি শিশু মারা যায় ম্যালেরিয়ায়৷ এবং এই রোগের প্রকোপে ঐ মহাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার৷

স্টোফান কাপেন হলেন মোলিকিউলার বায়োলজিস্ট৷ প্যারাসাইটোলজিরও একজন বিশেষজ্ঞ তিনি৷ বৈজ্ঞানিক শিক্ষা তাঁর জার্মানিতে এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে৷ তিনি অবশ্য এই মর্মে নিঃসন্দেহ যে একদিন এই প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়া রোগ সারা দুনিয়া থেকে মুছে ফেলা যাবে৷ তবে এই লড়াইটা খুবই কঠিন৷

Flash-Galerie Malariaerreger in einer Anopheles-Mücke NEU

ম্যালেরিয়া বহনকারী অ্যানোফিলিস মশা...

ম্যালেরিয়া নির্মূল করার ফলপ্রসূ কোন ভ্যাকসিন বা টিকা বের করতে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীরাও এতদিন ব্যর্থ হয়েছেন৷ অথচ টিকা ছাড়া এ রোগ নির্মূল করা কখনও সম্ভব হবেনা বলে মনে করেন গবেষক কাপে৷ তবে সুসংবাদটি এল গত মঙ্গলবার৷ ম্যালেরিয়া রোগের প্রথম কার্যকর টিকা হিসেবে স্বীকৃত হল আরটিএস,এস৷ বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণা লব্ধ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করতে গিয়ে জানালেন, আফ্রিকায় ব্যাপক পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে এই ভ্যাক্সিন শিশুদের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে৷

আরটিএস,এস ভ্যাকসিনতৈরি করেছে ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন এবং ম্যালেরিয়া ভ্যাক্সিন উদ্যোগ ‘পাথ'৷ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জোর দিয়ে বলছেন যে এই ভ্যাক্সিন এখনও পুরোপুরি ম্যালেরিয়া নির্মূলে সক্ষম হবেনা৷ তার এরোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা ৫০ শতাংশের মত৷ বিজ্ঞানী কাপে বলেন, ‘‘আরটিএস,এস ভ্যাক্সিন প্রথম সত্যিকারের সফল ভ্যাক্সিন বলে বিবেচিত হবে সব সময়৷ কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হল এই রোগ একেবারে নির্মূল করা৷ ফলে প্রয়োজন এমন এক টিকা যা ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ করবে৷ এই আরটিএস,এস'এর ক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে৷''

সেয়াটেলের যে গবেষণা ইনস্টিটিউট, কাপে ও তাঁর সহযোগী গবেষকরা কাজ করছেন তার নাম বায়োমেড৷ অলাভজনক একটি গবেষণা সংস্থা যার অর্থ সংস্থান করছে মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং আরো প্রায় ৫০০'র মত দাতা৷

প্রতিবেদন: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন