সেনেগালে পরিবর্তন আনছে দিমিত্রা ক্লাব | অন্বেষণ | DW | 22.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সেনেগালে পরিবর্তন আনছে দিমিত্রা ক্লাব

সেনেগালের এক প্রাচীনপন্থি, কৃষিপ্রধান গ্রামে পরিবর্তন আনছে দিমিত্রা ক্লাব৷ দিমিত্রা ক্লাব বলতে বোঝায় গ্রামের নানান সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে নবীন-প্রবীণ, স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে আলোচনার একটা সুযোগ, বা সভা, কিংবা সমিতি৷

সারে বুবু গ্রামের তরুণ বাসিন্দাদের জন্য এটা একটা বিশেষ দিন৷ আজ তারা কুসানারের কমিউনিটি রেডিও স্টেশনে প্রথমবারের মতো মাইক্রোফোনের সামনে বসবে একটি আলোচনা চক্রে অংশ নিতে৷ পূর্ব সেনেগালের এই অঞ্চলের ভাষা হল ‘পুলার’, যা সকলেই বলে ও বোঝে৷

রু গি বা ও তার সতীর্থরা তাদের গ্রামের আলোচনা গোষ্ঠীর নেতা – এই আলোচনা গোষ্ঠী বা ‘ক্লাব’ ‘দিমিত্রা’ ক্লাব নেটওয়ার্কের অঙ্গ৷ রু গি বা শোনালেন কীভাবে বর্ষার জলের সঙ্গে জঞ্জাল ঢুকে গ্রামের বাড়িঘর নোংরা করেছিল, কি কষ্টে তা সাফ করা হয়েছে৷

রু গি বা-র সারে বুবু গ্রামে চারটি দিমিত্রা ক্লাব আছে৷ গোটা আফ্রিকায় দিমিত্রা ক্লাবের সংখ্যা দু'হাজার – জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠন এফএও ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ও অর্থানুকুল্যে এই সব ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে৷

গ্রামের মহিলাদের মুখ খুলে কথা বলার সাহস দেন রু গি বা, যা এখানে সাধারণ বিষয় নয়৷ গাঁয়ের তরুণরা জমির ক্ষয় রোধের জন্য যে পাথরের বাঁধ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, তাই নিয়ে আজ আলোচনা চলছে৷

বাচ্চাকাচ্চারা সবসময়েই এসে ভিড় করে – ভালোই তো, আখেরে কাজে লাগবে৷

ভিডিও দেখুন 05:28
এখন লাইভ
05:28 মিনিট

সেনেগালে পরিবর্তন আনছে যারা

পরিবর্তনের হাওয়া

রু গি বা বললেন, ‘‘আমরা যেমন তরুণ, তেমন প্রবীণ পুরুষদের সঙ্গে গ্রাম সংক্রান্ত সব কিছু নিয়ে কথা বলি৷ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্যান্য দিমিত্রা ক্লাবগুলোর মতো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করি৷ গ্রামের ভালোমন্দ নিয়ে বিচার করার সময় আমাদের মতামতগুলোও বিবেচনা করা হয়৷ সেটাই হল সবচেয়ে বড় পরিবর্তন৷ আগে আমাদের গাঁয়ের বিষয়-আশয় সম্পর্কে কোনো কিছু বলার সুযোগ ছিল না৷’’

সারে বুবু-তে প্রায় ১৬০ জন মানুষের বাস৷ কাছাকাছি কোনো বড় শহর নেই৷

শস্য প্রায় পেকে উঠেছে৷ কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফসল খুব ভালো হবে না৷ বৃষ্টি হলেও, অনুর্বর জমির উপর দিয়ে সেই পানি বয়ে যায়৷ বন কাটার ফলে মাটি আলগা হয়ে গেছে, বর্ষায় পানিতে তা সহজেই ভেসে যায়৷ আজ ঠিক সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হচ্ছে৷ আলোচনা শুরু করেছেন গ্রামের প্রধান৷

গ্রামের চারটি দিমিত্রা ক্লাব পর পর তাদের মতামত ও সুপারিশ পেশ করলো৷

নতুন-পুরাতন

এলাকার সব গ্রাম যে এই প্রকল্পে সামিল, এমন নয়৷ কিছু গ্রামের মোড়ল নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে চিন্তিত – তারা চান অতীতের প্রথাগত কাঠামো, যেখানে শুধু প্রবীণদেরই কিছু বলার থাকত৷

সারে বুবু গ্রামের প্রধান বুবু দিয়ালো বললেন, ‘‘ক্লাবগুলো কাজ শুরু করা যাবৎ পরিবেশ একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বাড়ির ভিতরে বা চারপাশে সব কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, কেননা পরিচ্ছন্নতা ছাড়া স্বাস্থ্য ভালো থাকে না৷ সমাজ হিসেবে আমাদের গ্রামের কুয়োগুলোর আরো ভালোভাবে দেখাশোনা করতে হবে, নয়তো খরার সময় কোনো পানি থাকবে না – না আমাদের জন্য, না বারোয়ারি বাগানগুলোর জন্য৷ দেখুন, আমরা ইতিমধ্যেই এ সব সমস্যার সমাধান বার করে ফেলেছি৷’’

বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য ছোট ছোট পাথরের বাঁধ তৈরি করা হয়েছে৷ লক্ষ্য হল, গ্রামের মাটিকে আবার উর্বর, আরো ফলদায়ী করা৷

তা বলে সব গ্রাম যে তাদের বারোয়ারি জমি থেকে মুনাফা করতে পারে, তা নয়৷ সবচেয়ে বড় দু'টি সমস্যা হল, মালমশলা ও সাজসরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সংগঠনগুলির সাহায্য পাওয়া৷

এফএও সেনেগাল-এর মাখফুস সার বললেন, ‘‘দীর্ঘমেয়াদি সূত্রে গ্রামসমাজ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরাসরি তথ্যের আদানপ্রদান হওয়া চাই, যাতে কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন, অকুস্থলে কী ঘটছে৷ আমাদের মতো সমন্বয়কর্তা ছাড়াই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেদের ধ্যানধারণা ও পরিকল্পনাগুলির জন্য তাগিদ দেওয়া – দিমিত্রা ক্লাবগুলির সেটাই শিখতে হবে৷’’

ব়্যাপ গানের গায়ক নেগার দু তাম্বা-র বাস কাছের প্রাদেশিক রাজধানী তাম্বাকুন্দায়৷ তিনিও চান সেনেগালের সাবেক গ্রাম সংস্কৃতিকে আধুনিক জগতের সঙ্গে যুক্ত করতে৷ তাঁর একটি ব়্যাপ গানটির উপজীব্য হল, দিমিত্রা ক্লাবগুলি থেকে যে ধরনের নতুন ধ্যানধারণা জন্ম নিচ্ছে ও গোটা গ্রামসমাজের কাজে লাগছে৷

সারা বুবু গ্রামের তরুণ-তরুণীদের পক্ষে এই ক্লাব বা আলোচনা চক্রগুলি হলো স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতার পথে প্রথম পদক্ষেপ৷

টোমাস মান্ডলমায়ার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন