সেক্স কোনো নিষিদ্ধ ফল নয় | আলাপ | DW | 15.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

সেক্স কোনো নিষিদ্ধ ফল নয়

যৌন বিষয়ে বাবা-মায়েরা এখনো সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করেন না৷ সমস্যার উৎস সেখানেই৷

ভারতে ধর্ষণের প্রতিবাদ (ফাইল ছবি)

ভারতে ধর্ষণের প্রতিবাদ (ফাইল ছবি)

দুইটি কাহিনি দিয়ে শুরু করা যাক৷ একেবারে সত্য কাহিনি৷

প্রথম কাহিনি৷ মেয়ের প্রশ্ন শুনে প্রথমে অবাক হয়ে তারপর হাসিতে ভেঙে পড়েছিলেন আমার এক বন্ধু৷ মেয়ে বড় হয়েছে৷ বিয়েও ঠিক হয়েছে৷ পাত্র নিজের পছন্দ করা৷ বছর দশেক ধরে প্রেম চলছে৷ তারপর একদিন হঠাৎ মেয়েটি তার বাবাকে বলে, হবু বর ফ্ল্যাট চেস্টেড, এটা তার আদৌ পছন্দ নয়৷ বিবাহিত জীবন সুখের হবে তো? প্রথমে হাসলেও তারপর বন্ধু তাঁর মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে৷ জানিয়েছে, সকলেই যে বলিউড নায়কের মতো সিক্স প্যাকের শরীর নিয়ে ঘুরবে, এটা মনে করা বাতুলতা৷ সিক্স প্যাক নেই বলে কেউ বিয়েতে অসুখি হয়েছে বলে খুব একটা শোনা যায়নি৷ তাহলে তো পালোয়ানরাই সেক্সের ক্ষেত্রে সব চেয়ে পটু হতো৷ সেক্স প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা হয়েছিল বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের৷ মেয়ে বুঝেছিল৷ বিয়ের পর মেয়ে সুখে আছে৷

দ্বিতীয় কাহিনি৷ আমার আরেক বন্ধুর স্ত্রীকে তাঁর ছেলে প্রশ্ন করেছিল, লিভ ইন রিলেশনে অসুবিধা কোথায়? সে তো প্রথমে লিভ ইনে থাকতে চায়৷ দেখে নিতে চায়, প্রেমিকাকে বিয়ে করে একসঙ্গে থাকতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো! ছেলের বাবা ও মা দুজনেরই লিভ ইনে প্রবল আপত্তি ছিল৷ কিন্তু খোলা মনে আলোচনা করার পর ছেলের যুক্তি মেনে নিতে হয়েছিল তাঁদের৷

এই দুইটি ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সুখের হয়েছিল, কারণ, বাবা-মা তাঁদের গোঁ ধরে বসে থাকেননি৷ ছেলে-মেয়ের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন৷ সেক্স বা লিভ ইন নিয়ে নিজেদের ধারণা জোর করে চাপিয়ে দিতে চাননি৷ নিজেদের মধ্যবিত্ত মানসিকতা থেকে বাইরে আসতে পেরেছেন৷ নিজেদের ধ্যান-ধারণার বদল ঘটাতে পেরেছেন৷

মধ্যবিত্ত জীবনে সেক্স বললেই সকলে ছ্যাঁকা খান৷ জীবনযাপনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে সবসময় কার্পেটের তলায় গোপনে রেখে দিতে চান৷ বাচ্চাদের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনার তো প্রশ্নই ওঠে না৷ শিক্ষক, বাবা, মা, আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কেউই বাচ্চাদের সঙ্গে আলোচনা দূরস্থান, সেই প্রসঙ্গের ধারেকাছে থাকতে চান না৷ হয়ত বাবা-মা থাকেন কলকাতা বা শিলিগুড়িতে, ছেলে বা মেয়ে দিল্লি বা মুম্বই৷ সেখানে তাঁরা হয়তো লিভ ইনে আছে কারো সঙ্গে৷ কিন্তু শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে তারা সেই কথা বাবা-মায়ের কাছে গোপন করে যায়৷ আর বাবা-মা জানলেও তা সন্তর্পনে গোপন করতে চান৷ যেন বাচ্চারা কোনো পাপ করছে৷

সেক্সের প্রসঙ্গ মানুষ এড়িয়ে যান৷ যত তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন, এড়িয়ে যেতে থাকেন, ততই বাচ্চাদের কাছে তা নিষিদ্ধ ফলের মতো হাতছানি দেয়৷ অথচ, বিষয়টি একেবারে স্বাভাবিক৷ সেই স্বাভাবিক বিষয়টি এভাবে অস্বাভাবিক করার জন্য ছেলে-মেয়েদের সামনে সবসময় হাতছানি থাকে৷ তারা ভুলের ফাঁদে জড়িয়ে পড়তে থাকে অনেকসময়৷

চ্যারিটির মতো এই আলোচনা, শিক্ষা বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া উচিত৷ আর সেখানেই মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনের দায়িত্ব এসে পড়ে৷ এসে পড়ে যৌন শিক্ষা দেয়ার কথা৷ সবকিছু গোপন করতে যাবেন না৷ তাতে বিকৃতিরই জন্ম হয়৷ তার বেশি নয়৷ তাই পাঠক্রমে যৌন শিক্ষা রাখা খুবই জরুরি৷ আর কতদিন স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে নিষিদ্ধ মোড়কে অযথা মুড়ে রাখবেন৷ বাচ্চারা ভুলভাল জানবে৷ তার চেয়ে স্বাভাবিক বিষয়, স্বাভাবিকভাবে জানুক৷ বাবা-মা, স্বজনেরা তাতে উৎসাহ দিন৷

তবে মানসিকতার বদল তো শুধু একটি বিষয়ে হলে হবে না৷ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরো প্রচুর বিষয়৷ ভারতে প্রতি পদেই তো মানসিকতার বদল দরকার৷ ২০১৬ সালে ভারতে সাত হাজার একশটি পণ সংক্রান্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, শুধু বেঙ্গালুরুতে ২০১৯ সালে ৭৩৯টি পণ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে৷ ধর্ষণের ঘটনার কথা দেখলে তো লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায়৷ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর হিসাব, ২০১৯ সালে ভারতে প্রতিদিন ৮৮টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ তার সঙ্গে আছে অনার কিলিং৷ ভিন্ন জাতে বিয়ে, ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিয়ে, একই গোত্রে বিয়ে করতে গেলে নিজের মেয়ে বা ছেলেকে মেরে ফেলার নাম হলো অনার কিলিং৷ কার মর্যাদা? নিজের পরিবারের, জাতের, গ্রামের? মাঝখানে তো খাপ পঞ্চায়েত প্রকাশ্যে রায় দিত, কোন বিয়ে বৈধ, কোনটা অবৈধ৷ ভোট হারাবার ভয়ে সরকার তাদের ছুঁতে ভয় পেত৷

সকলের নিজের জীবন নিজের ইচ্ছেমতো কাটাবার স্বাধীনতা আছে৷ সেখানে মর্যাদার নামে, ধর্মের নামে, পরিবারের নামে অথবা নিজেদের ধ্যান-ধারণার দোহাই দিয়ে অন্যের জীবন নষ্ট করার কোনো অধিকার বাবা, মা, পাড়া, প্রতিবেশীদের নেই৷

বাচ্চাদের জন্য তো সবকিছুতেই শুধু না৷ সেই না-রাজ্য থেকে বেরিয়ে না এলে ভুগতে হবেই৷ আর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সব চেয়ে বেশি দরকার বাচ্চাদের সঙ্গে বন্ধুদের মতো মেশা৷ কোনো বাবাগিরি নয়৷ নির্দেশ নয়৷ একেবারে বন্ধু হয়ে যাওয়া৷ আমার সন্তানরা আমার সঙ্গে যে কোনো বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে৷ করা উচিত৷ আমরা নিজেরা ছেলেবেলায় হয়ত কখনো করিনি৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কখনোই করব না৷ সেই বন্ধুত্বের আলোচনা ও পরামর্শ দিয়ে দেখুন৷ কখনো লোকসান হবে না৷ সেখানে সেক্স থেকে শুরু করে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত যে কোনো বিষয় আসতে পারে৷ তবে তার আগে নিজের চিন্তাভাবনাতেও কিঞ্চিত পরিবর্তন করতে হবে৷ বেরিয়ে আসতে হবে সংকীর্ণ সামাজিক ভাবনার পরিসর থেকে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়