‘‘সেই দিনটির কথা ভাবলে এখনো গর্ব হয়’’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.12.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

‘‘সেই দিনটির কথা ভাবলে এখনো গর্ব হয়’’

হতে পারতেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার৷ বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ রকিবুল হাসানকে সে সুযোগ দেয়নি৷ তাতে আফসোস নেই৷ বরং একাত্তরে যে ব্যাট হাতে দেশের হয়ে কথা বলেছিলেন সে কারণেই গর্বিত তিনি৷

কোনো কোনো দিন এ পৃথিবীর জন্য কিংবা কোনো জাতির জন্য হয়তো অনুল্লেখ্য, কিন্তু ব্যক্তি বিশেষের কাছে সেটাই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন৷ ১৯৭১ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি রকিবুল হাসানের কাছে ঠিক সেরকম৷ বাংলাদেশই বা কী করে অস্বীকার করে সেই দিনটির মহিমা! একজন ক্রিকেটার স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করা একটা জাতির পক্ষে ব্যাট দিয়ে কথা বলেছে - এ কি এত তুচ্ছ ঘটনা? ৪১ বছর আগের সেই দিনটির কথা ভাবলে এখনো গর্বে ফুলে ওঠে রকিবুল হাসানের বুক৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সে কথাই বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক৷

এ কথা আগেও বহুবার বলতে হয়েছে তাঁকে৷ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের একটি পাতায় ছোট করে হলেও লিখে রাখতেই হবে যে ঘটনা তার কথা কতবার কতজন কতভাবে জানতে চেয়েছে তার হিসেব আছে! ক্রিকেটার রকিবুলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খুব উল্লেখযোগ্য কিছু নেই৷ হতে পারতেন পাকিস্তান দলের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলা প্রথম বাঙালি ক্রিকেটার৷ বাঙালি স্বাধিকারের আন্দোলনে নামার আগ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা উজ্জ্বল রেখেই হাসছিল রকিবুলের ব্যাট৷ ১৯৭১ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি সুযোগও পেয়েছিলেন পাকিস্তান দলের হয়ে খেলার৷

অডিও শুনুন 04:00

সাক্ষাৎকারটি শুনতে ক্লিক করুন এখানে

সেটা অবশ্য কোনো টেস্ট ম্যাচ ছিল না, পাকিস্তান বোর্ড ক্রিকেট একাদশ ও আন্তর্জাতিক একাদশের একটা চারদিনের ম্যাচ৷ তো ওপেনার রকিবুল সেই ম্যাচে নেমেছিলেন ‘জয় বাংলা' নিয়ে৷ তখনতো স্বাধীনতা বিরোধী কিছু মানুষ ছাড়া সব বাঙালির মুখেই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন জড়ানো ‘জয় বাংলা'৷ রকিবুল ব্যাট করেছিলেন ‘জয় বাংলা' লেখা স্টিকার লাগানো ব্যাট নিয়ে!

একটা ব্যাটের ছোট্ট একটা স্টিকার - এ আর এমন কী! পাকিস্তান সরকার এমন ভাবতে পারলে হয়তো অনেক ইতিহাসই অন্যরকম হতো৷ পারতো না বলেই একটা চারদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক তরুণের ব্যাটে লাগানো স্টিকারই শাসকদের বুকে জ্বেলে দেয় প্রতিশোধের আগুন৷ আত্মগোপন করতে হয় রকিবুলকে৷ মুক্তিযুদ্ধের সময়টা ওভাবে কাটিয়ে দেননি, গড়েছিলেন স্বাধীন বাংলা ক্রিকেট দল৷ তবে সেই দল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থনে ম্যাচ খেলতে নামার আগেই হার মেনে নেয় পাক সেনাবাহিনী, স্বাধীন জন্মভূমি পেয়ে যায় বাঙালি৷

সেই একটি দিন রকিবুলের স্মৃতির ডায়েরিতে সোনার আখরে লেখা৷ বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে অনেক পরে৷ তার অনেক আগেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানতে হয় রকিবুলকে৷ তাই ক্রিকেটে কী পাননি তার হিসেব মেলাতে একেবারেই রাজি নন গর্বিত এই বাঙালি৷ তাঁর এগিয়ে দেয়া ব্যাটন হাতে নিয়েই আজ যে সাকিব, তামিম, মুশফিকরা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিচ্ছেন এতেই তাঁর আনন্দ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন