সৃষ্টির পরেই পেটে চলে যায় যে শিল্পকীর্তি | অন্বেষণ | DW | 14.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

সৃষ্টির পরেই পেটে চলে যায় যে শিল্পকীর্তি

শিল্পের উপাদান যদি খাদ্য হয়, তাহলে সেই শিল্প কি আর স্থায়ী হতে পারে? বেলজিয়ামের এক ‘ফুড আর্ট' শিল্পীর অভিনব সৃষ্টিও সেভাবে শুধু সোশাল মিডিয়ায় অমর থেকে যায়৷ তিনি বিখ্যাত মানুষ থেকে পশুপাখির মতো অনেক বিষয় ফুটিয়ে তোলেন৷

আলু দিয়ে তৈরি ওরাং ওটাং, সুশির মধ্যে ধনেশ পাখি, কেকের মধ্যে টিনটিন ও তার বাহনের প্রতিকৃতি অথবা ফুলকপি দিয়ে তৈরি মার্কিন পপ তারকা বিলি আইলিশ৷ ইয়োলান্ডা স্টকারমান্স এমন সব ভোজ্য শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন৷ কিছু সহজ উপাদান দিয়ে বাভেরিয়ার এক পরিচারিকার মূর্তি তৈরি করছেন তিনি৷ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে ইয়োলান্ডা বলেন, ‘‘প্রথমে আলুর খোসা ছাড়াতে হবে৷ কারণ এটি দিয়ে কাজ করা খুব সহজ৷ অনেকটা কাদামাটির মতো৷ যেমন খুশি আকার সৃষ্টি করা যায়৷ উপরে রং করা যায়৷ সেটির উপর তরিতরকারি ও চিজ বসানো যায়৷’’

আলু সিদ্ধ হবার সময় কাজে লাগিয়ে তিনি শাকসবজি দিয়ে পরিচারিকার পোশাক তৈরি করেন৷ বেলজিয়ামের উত্তর-পূর্বে কুয়ের্সেল শহরে নিজের বাসায় ইয়োলান্ডা রান্না করতে ভালবাসেন৷ ফুড ডিজাইনার হিসেবে নিজের দুটি পছন্দের বিষয়ের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি নিজেই বিস্মিত৷ প্রথমদিকে তিনি ‘মিল প্রেপার' হিসেবে সারা সপ্তাহের রান্নার জোগাড় করতেন৷ ইন্টারনেটে আরও নজর আকর্ষণ করতে তিনি নিজের পদগুলি আরও সাজিয়ে-গুছিয়ে পরিবেশন করেন৷ ইয়োলান্ডা বলেন, ‘‘সবাই আরও এমন সৃষ্টি দেখতে চেয়েছে৷ কেউ মিল প্রেপ চায় নি৷ সবাই ফুড আর্ট চাওয়ায় আমি গোটা ওয়েবসাইটই বদলে দিলাম৷’’

ভিডিও দেখুন 03:47

খাদ্য দিয়ে শিল্পকর্ম

ইতোমধ্যে তিনি ওয়ার্কশপ আয়োজন ও অর্ডার নেওয়া শুরু করেছেন৷ মাখা আলু দিয়ে আপাতত তিনি মূর্তির ভিত্তি নিয়ে ব্যস্ত৷ ফুড কালার দিয়ে তিনি আলুর উপর রং করেন৷ ক্রিম চিজ দিয়ে বিয়ারের ফেনা তৈরি হয়৷ ক্যাপসিকাম ও সুকিনি দিয়ে পরিচারিকার পোশাকও প্রস্তুত৷ ইয়োলান্ডার মাথায় আইডিয়ার অভাব নেই৷ চলচ্চিত্রের চরিত্র থেকে শুরু করে বিখ্যাত মানুষ, এমনকি জীবজন্তুও তাঁর সৃষ্টির বিষয় হতে পারে৷ জার্মানির মতো ভিন দেশের সংস্কৃতি থেকেও তিনি প্রেরণা পান৷ ইয়োলান্ডা  বলেন, ‘‘যখনই কিছু সৃষ্টি করি, তখনই আমার মনে নিজেকে গুটিয়ে নেবার নতুন কোনো আইডিয়া আসে৷ কারণ সারাদিন আমি এই কাজ করতে পারি না৷''

চার ঘণ্টা পর কাজ শেষ৷ বাভেরিয়ার পরিচারিকা বিয়ার পরিবেশন করতে প্রস্তুত৷ অবশ্যই খাদ্য হয়ে ওঠা পর্যন্ত সেটির অস্তিত্ব নিশ্চিত থাকে৷ অতএব সোশাল মিডিয়ার জন্য চট করে ছবি তুলে নিতে হয়৷ শেষে সেই সৃষ্টির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়৷ কয়েক ঘণ্টার পরিশ্রমের ফসল হলেও বাভেরিয়ার পরিচারিকা নিমেষের মধ্যে দিব্যি মুখে মিলিয়ে যায়৷

ক্রিস্টোফারো/ভার্ডার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন