সূর্য ও নক্ষত্রজগতের রহস্য উন্মোচনের প্রচেষ্টা | অন্বেষণ | DW | 03.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ

সূর্য ও নক্ষত্রজগতের রহস্য উন্মোচনের প্রচেষ্টা

সূর্য আমাদের কাছে নিরীহ মনে হলেও তার মধ্যে চলছে তোলপাড় কাণ্ড৷ বিজ্ঞানীরা কাছের ও দূরের নক্ষত্রগুলি পর্যবেক্ষণ করে আরও জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ নক্ষত্রজগত সম্পর্কে তাঁরা অনেক মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করছেন৷

নক্ষত্র কাকে বলে? খালি চোখে আমরা প্রায় ৬,০০০ তারা দেখতে পারি৷ বিশাল দূরত্বের কারণে সেগুলি দেখতে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো৷ বাস্তবে নক্ষত্রগুলি গরম ও বৈদ্যুতিক চার্জে ভরা গ্যাস দিয়ে তৈরি বিশাল আকারের মহাজাগতিক বস্তু৷ তার ভেতরের উত্তাপ ও চাপের মাত্রা এত বেশি, যে হাইড্রোজেনের মতো হালকা পারমাণবিক নিউক্লিয়াস হিলিয়ামের মতো ভারি পদার্থে রূপান্তরিত হয়৷

এই পারমাণবিক ফিউশনের কারণেই তারা জ্বলজ্বল করে৷ তার মধ্যে একটি নক্ষত্র কার্যত আমাদের দুয়ারেই রয়েছে৷ তা হলো সূর্য৷ এটিই একমাত্র নক্ষত্র, যার চরিত্র বুঝতে বিজ্ঞানীরা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা চালাতে পারেন৷ পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের আয়তন বিশাল হলেও নক্ষত্রজগতে তার আয়তন বামনের মতো৷

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ঔজ্জ্বল্য ও রং অনুযায়ী নক্ষত্রগুলিকে কয়েকটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেন৷ একটি কাল্পনিক রেখা বরাবর বেশিরভাগ নক্ষত্রের দেখা মেলে৷ তার মাঝামাঝি জায়গায় আমাদের সূর্যের অবস্থান৷ খুবই সাধারণ নক্ষত্র এটি৷

সবচেয়ে ছোট নক্ষত্রগুলির নাম লাল বামন৷ সেগুলির হাইড্রোজেন ধীর গতিতে জ্বলে বলে সেগুলির অনেক বয়স হতে পারে৷ কয়েক হাজার কোটি বছর আয়ু বিরল ঘটনা নয়৷ সেই তুলনায় আমাদের সূর্য প্রায় ১,২০০ কোটি বছর ধরে উজ্জ্বল থাকতে পারে৷

এই কুয়াশার মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জানা মতে সবচেয়ে ভারি নক্ষত্র বাসা বেঁধেছে৷ কী করে সেটির এত পরিমাণ ভর হলো, গবেষকদের কাছে তা এক বড় রহস্য৷ সূর্যের তুলনায় তার আয়তন প্রায় ২৬০ গুণ বড় ও তার ঔজ্জ্বল্য ১ কোটি গুণ বেশি! 

এমন নক্ষত্রের জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে সেটি সুপারনোভা হয়ে উঠবে৷ তার মৃতদেহের আয়তনও সঙ্কুচিত হবে৷ এমনকি কৃষ্ণ গহ্বরও হয়ে উঠতে পারে৷ সেই প্রক্রিয়ার আওতায় সেটি তার মধ্যে জমা রাসায়নিক পদার্থ মহাকাশে নিক্ষেপ করবে৷

এমন পদার্থ গ্রহ ও জীবজগতের কাঁচামাল৷ আমাদের শরীরের সব উপকরণ, এমনকি রক্তের আয়রনও নক্ষত্রের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছিল৷ সূর্যের আলো ও উত্তাপ ছাড়া পৃথিবী মৃত এক গ্রহ থেকে যেত৷ সেটি আমাদের প্রাণের উৎস৷ আমাদের চোখে সূর্য অত্যন্ত শান্ত এক মহাজাগতিক বস্তু৷ কিন্তু স্যাটেলাইটের কল্যাণে আমরা সূর্যের মধ্যে তীব্র আলোড়নের কথা জানি৷ বৈদ্যুতিক চার্জে ভরা কণা বার বার মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে৷ এমন সৌর ঝড় পৃথিবীও ছুঁয়ে যায়৷

তারই এক নিরীহ রূপ হলো মেরু অঞ্চলের আলোর ছটা৷ তবে সৌর কণা নাজুক প্রযুক্তি ও জীবজগতের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে৷

বিশালাকার টেলিস্কোপের মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরের নক্ষত্রের উপর নজর রাখছেন৷ শুধু সেগুলির আলোর ভিত্তিতেই তাঁরা এই কাজ করছেন৷ চৌম্বক ক্ষেত্র সংক্রান্ত তথ্যের সাহায্যে এই সব নক্ষত্রের পরিবেশ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা করা সম্ভব৷ সেখানে পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য গ্রহ আছে কিনা, সে বিষয়েও কিছু ধারণা পাওয়া যায়৷

কর্নেলিয়া বরমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন