সূর্যের রহস্য সমাধান করতে মহাকাশ অভিযান | অন্বেষণ | DW | 10.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

সূর্যের রহস্য সমাধান করতে মহাকাশ অভিযান

সূর্য ছাড়া পৃথিবী ও সৌরজগতের অস্তিত্ব অসম্ভব৷ সেই নক্ষত্র সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত৷ এবার এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র ও অন্যান্য রহস্যের উপর আলোকপাতের চেষ্টা শুরু হয়েছে৷

সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র থেকেই সৌর ঝড়ের মতো সবরকম অস্থিরতা, আলোড়ন সৃষ্টি হয়৷ অবশ্যই ছোট আকারে৷ কীভাবে ও ঠিক কখন এমন ঝড় সৃষ্টি হয়, তা জানতে গবেষকরা যত নিখুঁতভাবে সম্ভব চৌম্বক ক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করতে চান৷ সেই লক্ষ্যে একাধিক টেলিস্কোপ-বোঝাই স্যাটেলাইট সূর্যের একেবারে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে চলেছে৷ মাক্স-প্লাংক ইনস্টিটিউটের প্রধান প্রোফেসর সামি সোলাংকি বলেন, ‘‘এক সোলার অরবিটার যানের মাধ্যমে আমরা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠামো পর্যবেক্ষণ করতে পারি৷ এতটা জায়গা মাইক্রোস্কোপের যোগ্য মনে না হলেও এ ক্ষেত্রে সূর্যের ব্যাসের কথা মনে রাখতে হবে, যা প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার৷ সেই অর্থে এই এলাকা অত্যন্ত ক্ষুদ্র৷''

সূর্যের দিকে এগিয়ে গেলে প্রতিবার সোলার অরবিটার পৃথিবীর তুলনায় দশ গুণেরও বেশি বিকিরণের মুখে পড়ে৷ এমন চড়া আলোর সামনে টেলিস্কোপের চোখ অন্ধ হয়ে যাবার কথা৷ সে কারণে প্রতিটি টেলিস্কোপের সুরক্ষার জন্য বিশেষ জানালা তৈরি করা হয়েছে৷ ফলে গবেষণার খাতিরে যেটুকু প্রয়োজন, শুধু ততটাই সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে৷ এই জানালাটি স্যাটেলাইটের অন্যতম জরুরি যন্ত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছে৷ গ্যোটিঙেন শহরের সৌর গবেষকরা এমনটা সম্ভব করেছেন৷

ভিডিও দেখুন 04:34

সূর্যের কাছে যাচ্ছে স্যাটেলাইট

সেটি সূর্যের উপরিভাগের অংশ, অর্থাৎ ফটোস্ফিয়ার বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে৷ সেখানকার চৌম্বক ক্ষেত্রের মানচিত্র তৈরি করাও সেটির কাজ৷ চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি ও দিকও নির্ণয় করা হবে৷ এমনকি সূর্যের ভিতরের অংশেও উঁকি মারতে পারবে সেই যন্ত্র৷ প্রোফেসর সোলাংকি বলেন, ‘‘সূর্য শব্দ তরঙ্গে ভরপূর, যা একেবারে উপরের অংশ পর্যন্ত চলে আসে৷ গতির তারতম্য পরিমাপ করে আমরা সেগুলির অস্তিত্ব টের পাই৷ ভিতরের অংশ পর্যন্ত আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি৷''

সূর্যের গভীরে উঁকি মারা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ সেখানেই সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়৷ সেখান থেকেই বিপজ্জনক সৌর ঝড় বেরিয়ে আসে৷ 

সোলার অরবিটার সূর্যের বহুস্তরীয় বায়ুমণ্ডলও পরীক্ষা করবে৷ সেই লক্ষ্যে টেলিস্কোপগুলি আলোর বিভিন্ন স্পেকট্রাল স্তরের ছবি তুলবে৷ সূর্যের এক্সরে ও অতি বেগুনি রশ্মির বিকিরণও রেকর্ড করা হবে৷ গবেষকরা সেই সব রেকর্ডিং-এর সমন্বয়ে সূর্যের মধ্যে আলোড়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জ্ঞান অর্জন করতে চান৷ পদার্থবিদ হিসেবে ড. আখিম গানডর্ফার বলেন, ‘‘যত বেশি সম্ভব স্তর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার লক্ষ্যে সোলার অরবিটার তৈরি করা হয়েছে৷ আমরা সংযোজনের চরিত্র বুঝতে চাই৷ কোন ভৌত শক্তি বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করছে, তা জানতে চাই৷''

সোলার অরবিটার এক মার্কিন যানের সঙ্গে সহযোগিতা করবে৷ সেটি সূর্যের আরও কাছে পৌঁছে যাবে৷ দুটি স্যাটেলাইট মিলে সৌর বাতাস পরীক্ষা করবে৷ সূর্যের সঙ্গে দূরত্ব অনুযায়ী সেই সব বৈদ্যুতিক চার্জভরা কণার রূপান্তরও নথিভুক্ত করা হবে৷

সোলার অরবিটারের কল্যাণে সূর্য ও তার চৌম্বক ক্ষেত্র সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জনের আশা করছেন গবেষকরা৷ সূর্যের মধ্যে আলোড়ন আরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করাও সম্ভব হবে৷ কারণ এই স্যাটেলাইট সূর্যের আবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ এক কক্ষপথে অবস্থান নেবে৷

সাত বছর পর সেটি সূর্যের দুই মেরু অঞ্চলের দিকেও নজর দেবে৷ চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই অংশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে৷ এখনো এ বিষয়ে আদৌ কোনো গবেষণা হয় নি৷

কর্নেলিয়া বরমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন