সুশীল সমাজের দুরবস্থার জন্য সুশীলরাও দায়ী | আলাপ | DW | 22.12.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আলাপ

সুশীল সমাজের দুরবস্থার জন্য সুশীলরাও দায়ী

বাংলাদেশে আজ সুশীল সমাজের সদস্যরা নিস্ক্রিয়৷ কোনো কিছুর প্রতিবাদ করার ক্ষমতা তাঁদের নেই৷ সরকারই সেটা করতে দিচ্ছে না৷ তবে এর জন্য দায়ী সুশীলরাও৷

একটা সময় ছিল যখন স্বাধীনতার আগে ও পরে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সুশীল সমাজের সদস্যরা৷ নব্বইয়ের দশকে স্বৈরশাসন হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়েও রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের ভূমিকা ছিল৷ বিভিন্ন সময়ে দেয়া তাঁদের বুদ্ধি ও পরামর্শ আন্দোলনকে সফল করেছিল৷

কিন্তু আজ সেই সুশীলদের বেহাল দশা৷ একদিকে যেমন তাঁরা সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন না৷ অন্যদিকে কোনো সুশীল কিছু বললে আজকাল অনেকেই তাঁদের কথায় কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না৷ কারণ জনগণ বুঝে গেছে কিংবা চিনে গেছে, কোন সুশীল কী বলতে পারেন৷ সুশীলদের এই অবস্থার জন্য তাঁরা নিজেরাই দায়ী৷

বিভিন্ন সুবিধা পেতে তাঁরা নিজেরাই দেশের প্রধান দু'টি রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মতবাদের সঙ্গে মিশে গেছেন৷ ফলে মত প্রকাশ করতে গিয়ে তাদের দলীয় মনোভাব প্রকাশ পেয়ে যায়৷ তাছাড়া সরকার সুশীল সমাজের উপর হামলে পড়লে অন্যপক্ষের সুশীলরা তার প্রতিবাদ করেন না৷ উলটো সুশীলরা তাঁদের প্রতিপক্ষের সুশীলদের ঘায়েল করতে সরকারি ব্যবস্থার দ্বারস্থ হন৷

সুশীলদের এই দুই অংশের বাইরেও একটি অংশ আছে, যার সদস্য সংখ্যা খুবই নগণ্য৷ বর্তমান সরকার এই অংশকে বিভিন্ন উপায়ে চাপে রেখেছে৷ তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে৷ কেউ আবার দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিজে থেকেই স্বনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছেন৷ তাঁরা ভাবছেন, মত প্রকাশ করতে গিয়ে যদি জীবনটাই চলে যায় তাহলে চুপ থাকাই ভালো৷

পরিণতি যা হতে পারে

বিরোধী রাজনৈতিক মতবাদকে সরকার আগেই দমন করেছে৷ এরপর সুশীলদেরও মুখ বন্ধ করে দিয়েছে৷ ফলে এখন আর সমালোচনা করার কেউ নেই৷ সব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সরকার এখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বেশি কিছু ভাবছে না৷ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদেরও এমন অবস্থা হয়েছিল৷ তাই তো পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়ে তারা ছিল উদাসীন৷ সেসময়কার আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের সমর্থনকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা গুরুত্ব দিতে চায়নি৷ বরং দমন-পীড়ন করে পূর্ব পাকিস্তানকে শাসন করতে চেয়েছিল৷ কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি৷ জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের৷ দুঃখের বিষয়, যে আওয়ামী লীগ সেসময় দমনের শিকার হয়েছিল সেই আওয়ামী লীগ এবার দমনকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে৷ বিরোধী কোনো রাজনৈতিক দলকে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে চাইছে না তারা৷

DW Bengali Mohammad Zahidul Haque

জাহিদুল হক

স্বাধীনতার কিছু দিন পর বঙ্গবন্ধুও একই কাজ করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের মতো দেশ পরিচালনার পরিণতি কখনও ভালো হতে পারে না৷ এরকম সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না৷ মানুষ একসময় প্রতিবাদী হয়ে উঠে৷ দমন-পীড়ন দিয়েও তখন কাজ হয় না৷ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ইতিহাস তা-ই বলে৷

এছাড়া দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে৷ ব্লগার হত্যা থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা তারই প্রমাণ৷ বিদেশিদের উপরও হামলা হচ্ছে৷ ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচারে মনে রাখার মতো অগ্রগতি হচ্ছে না৷ ফলে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার মতো একটি বিশ্বাস অপরাধীদের মনে গেঁড়ে বসছে৷ এই সুযোগে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটতে পারে৷ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোও সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠতে পারে৷

নিজেদের আসন শক্ত করতে সরকার সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়েছে৷ ব্যবসায়িকভাবে তাদের লাভবান হওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে৷ কিন্তু মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠলে একসময় যে সামরিক বাহিনী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না৷

লেখকের সঙ্গে কি আপনি একমত? জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন