সুরিনামের স্লথ বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 13.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সুরিনামের স্লথ বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ

দক্ষিণ অ্যামেরিকা মহাদেশের উত্তরের দেশ সুরিনাম৷ সেখানে বানরের মতো দেখতে অলস প্রকৃতির শান্তিপ্রিয় প্রাণী স্লথ-দের বসবাস৷ দ্রুত নগরায়নের ফলে সংরক্ষিত এই প্রাণীদের বসতি হুমকির মুখে৷ তাদের বাঁচাতে এক অভিনব উদ্যোগ চলছে৷

ভিডিও দেখুন 04:14
এখন লাইভ
04:14 মিনিট

শান্তিপ্রিয় স্লথদের বাঁচাবে যে উদ্যোগ

গোটা দেশে স্লথ-দের একমাত্র উদ্ধারকেন্দ্র৷ পরিবেশ সংরক্ষণকারীদের এক দল ইসা ও অন্যান্য স্লথ-দের দেখাশোনা করে৷ সবচেয়ে কমবয়সি প্রাণীটি মাত্র দেড় মাসের শাবক৷ মোনিক পুল এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷

আবার সাহায্যের ডাক এসেছে৷ চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে ৩ বার এমন ডাক এলো৷ এবার শহরের এক বাসিন্দার বাগানে স্লথ দেখা গেছে৷ দ্রুত সাহায্যের প্রয়োজন৷ মোনিক পুল বলেন, ‘‘মানুষ জানে, তারা কোথাও ফোন করতে পারে৷ আগে তাদের সাধারণত চিড়িয়াখানায় ফোন করতে হতো৷ কিন্তু চিড়িয়াখানা বা পশু কল্যাণ সমিতি প্রাণীদের নিতে চাইতো না৷ আমরা কিন্তু প্রাণীদের নিয়ে আসি৷'' 

রাজধানী পারামারিবো যেতে গাড়িতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে৷ গোটা দেশে এটাই একমাত্র শহর৷ মোনিক পুল-এর কাছে স্লথ-দের কল্যাণ এতই জরুরি, যে তিনি অনুবাদক হিসেবে নিজের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন৷

প্রতিটি যাত্রাই ভিন্ন স্বাদের, অনিশ্চয়তায় ভরা৷ ১২ বছর ধরে তিনি এই প্রাণীগুলির দেখাশোনা করছেন৷ সেই কাজে তাঁর অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ লোকটির ধারণা, প্রতিবেশীরা এই স্লথটিকে গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে ধরে রেখেছিলো৷ কারণ সাধারণত এই প্রাণী খুবই শান্তিপ্রিয়৷ তবে ভয় পেলেই পা চালায় অথবা আঁচড় কাটে৷ আবার এক প্রাণীকে উদ্ধার করতে হবে৷ এই স্লথটি অবশ্য অনেক বেশি শান্ত রয়েছে৷

প্রতিবার মোনিক স্থানীয় মানুষকে এই প্রাণী সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন৷ তার ফলও পাওয়া যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষ এখন জানে, যে এগুলি সংরক্ষিত প্রাণী৷ তাই তাদের সংরক্ষণে সাহায্য করতে চায়৷ উৎসাহের ঠেলায় কখনো তারা রাস্তা থেকে তাদের তুলে আমাদের কাছে নিয়ে আসে৷ পাশের জঙ্গলেও তাদের ছেড়ে দেওয়া যেত৷''

মোনিক-কে প্রায়ই শহর থেকে বিভ্রান্ত অথবা আহত প্রাণীদের তুলে আনতে হয়৷ আগে সেখানে রেন ফরেস্ট ছিল৷ এখন কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বসতি তৈরি হচ্ছে৷ এমন অনেক আবাসন প্রকল্প শুরু হয়েছে৷ রাজধানীর পরিধি বেড়ে চলেছে৷ ফলে জঙ্গল কোণঠাসা হয়ে পড়ছে, প্রাণীদের চারণভুমি কমছে৷

মোনিক পুলের হাতে বিশ্রাম নেবার বেশি সময় নেই৷ সুস্থ প্রাণীগুলিকে যত দ্রুত সম্ভব জঙ্গলে ফিরিয়ে দিতে হবে৷ উদ্ধার কেন্দ্রের ঠিক পেছনেই সংরক্ষিত রেন ফরেস্টের সীমানা৷ সেখানে প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা আছে

প্রাণীগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেবার মুহূর্তে মোনিক-এর বিশেষ অনুভূতি হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘গোটা প্রক্রিয়ায় এটাই সবচেয়ে সুন্দর অংশ৷ এক বাগান থেকে তাদের তুলে নিয়ে এসে তাদের মুক্তি দেবার মুহূর্ত এক কথায় অসাধারণ৷ এটাই তাদের বসতভূমি৷ দেখছেন, প্রাণীটি কেমন গাছ বেয়ে উঠছে, চারিদিক দেখছে৷''

প্রাণী সংরক্ষণকারী হিসেবে মোনিক-এর উদ্যোগ সফল হয়েছে৷ গাছের মাথায় সে নতুন করে বাসা বাঁধবে৷ তাদের আয়ু ২০ বছরেরও বেশি হতে পারে৷

প্রতিবেদন: বেটিনা টোমা/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন