সুপার ওভারের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড | বিশ্ব | DW | 14.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

সুপার ওভারের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড

একেই বলে পয়সা উসুল ম্যাচ৷ সুপার ওভারেও নয়, বাউন্ডারির হিসেবে নির্ধারিত হলো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন৷

ম্যাচসেরা হন বেন স্টোকস

ম্যাচসেরা হন বেন স্টোকস

এর চেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আর কী হতে পারে বিশ্বকাপের ফাইনালে! 

মূল ৫০ ওভারের ম্যাচ টাই৷ এরপর সুপারওভারও টাই! ক্রিকেটের নিয়মানুযায়ী, ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতল বাউন্ডারির হিসেবে! তারা ২২টি চার ও ২টি ছয় মেরেছে নির্ধারিত ৫০ ওভারে৷ আর নিউজিল্যান্ড মেরেছে ১৪টি চার ও ২টি ছয়৷ 

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি৷ কখনো আবার হওয়ার সম্ভাবনাও খুব ক্ষীণ!

এর মধ্য দিয়ে ক্রিকেটের নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখল বিশ্ব৷ আগামী চার বছরের জন্য চ্যাম্পিয়নের তকমা এঁটে থাকবে ইংলিশদের গায়ে৷ কিন্তু এই পথ পাড়ি দিতে তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি দিতে হয়েছে ফাইনালেই, যেটা বিশ্বকাপ মঞ্চে খুব কমই দেখা গেছে৷ 

পরতে পরতে উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরপুর এক ম্যাচে উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড৷ ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসের মাঠে রচিত হয়েছে ইতিহাস৷

যেমন শেষ ওভারটা৷ তখন ৬ বলে প্রয়োজন ১৫ রান৷ উইকেটে বেন স্টোকস৷ অপরপ্রান্তে বল হাতে ট্রেন্ট বোল্ট৷ প্রথম বল ডট৷ পরেরটিও৷ তারপরের বলে ছয় হাঁকালেন স্টোকস৷ তারপরের বলে দু’রান নিতে গিয়ে গাপটিলের থ্রো তাঁর ব্যাটে লেগে রানআউট থেকেই শুধু বাঁচেননি, বল চলে গেছে বাউন্ডারির ওপারে৷ ফল দুই আর চার মিলে আরো ছয় রান৷ এবার প্রয়োজন ২ বলে ৩ রান৷ তারপরের বলে লংঅফে ঠেলে দিয়ে আবার দু’রান নিতে গিয়ে এবার আদিল রশিদ হন রানআউট৷ শেষ বলে তাই দরকার ১ বলে ২ রান৷ এবার লংঅনে ঠেলে দিয়ে ২ রানের জন্য তাড়া করে ১ রান নিয়ে আবারো রানাআউটের শিকার শেষ ব্যাটসম্যান মার্ক উড৷ ফলে ম্যাচ টাই৷ ফলে সুপারওভার!

ICC Cricket World Cup Finale 2019 Neuseeland - England Martin Guptil

শেষ ওভারে গাপটিলের থ্রো থেকে চার হয়, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়

সুপারওভারটিও ছিল উত্তেজনাপূর্ণ৷ মরগ্যান তাঁর দুই বাজির ঘোড়া স্টোকস-বাটলার জুটিকেই পাঠান মাঠে৷ ৬ বলে ১৫ রান তোলেন তারা৷ জবাবে ৬ বলে সেই ১৫ই তুলে নেন গাপটিল-নিশামরা৷ ফলে সুপারওভারও হয় টাই৷ 

এর আগে ম্যাচ কখনো পেসারদের আগুনঝরা বলের নিয়ন্ত্রণে, কখনো দাপটে বেড়াচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা৷ কখনো ঝুঁকে পড়েছে কিউইদের দিকে, কখনো ইংলিশরা টেনে ধরছেন৷ কখনো বিশ্বকাপ না জেতা দুই দলের এ যেন সবটুকু নিংড়ে দেয়া পারফরম্যান্স৷ 

রোমাঞ্চের শুরুটা টস দিয়েই৷ সেটি জিতে নিয়ে একধাপ এগিয়ে যায় সেমিফাইনালের দল হিসেবে খ্যাত নিউজিল্যান্ড৷ কিন্তু অধিনায়ক উইলিয়ামসন  পুরোপুরি এগিয়ে রাখেননি নিজেকে৷ বলেন, মাথার ওপরে আকাশে যেমন মেঘের ছড়াছড়ি, তা যে কাউকেই এগিয়ে রাখবে৷ ইংলিশ অধিনায়ক মরগ্যানও তাতে সায় দেন৷ শুরু হয় মাঠের লড়াই৷ 

উইলিয়ামসনের শঙ্কা শুরুতেই সঠিক প্রমাণ করলেন ইংলিশ পেসার ওকস-আর্চাররা৷ প্রথমে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন পূরণ করার পথে চীনের প্রাচীর হয়ে গেলেন৷ ফলাফল, যাদের ব্যাটে ভর করে এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবার কথা, সেই গাপটিল, উইলিয়ামসন, রস টেলররা উইকেটে থিতু হবার আগেই পথ দেখেছেন৷ 

সপ্তম ওভারে গাপটিলকে দিয়েই শুরু৷ ক্রিস ওকসের ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত গাপটিল আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন৷ কিন্তু রিভিউ টেকেনি৷ ১৮ বলে ১৯ রানে ফেরেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান৷ 

সেখান থেকে আরেক ওপেনার নিকোলসকে সঙ্গে করে অধিনায়ক উইলিয়ামসন দলের স্কোরবোর্ড দীর্ঘ করছিলেন ধীর গতিতে৷ কিন্তু দলীয় শতরান পার হতেই বাধে বিপত্তি৷ 

বদলি বোলার লিয়াম প্লাঙ্কেট এসে সাঁকো নাড়া দেন৷ ঝরে পড়েন উইলিয়ামসন ও নিকোলস দু’জনই৷ ৩০ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কিউই অধিনায়ক৷ আর ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে নিকোলসের উইকেট ভেঙ্গে দেয় প্লাঙ্কেটের আরেক ইনসুইঙ্গার৷ 

ICC Cricket World Cup 2019 | Finale England vs. Neuseeland

৪২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন প্লাঙ্কেট

রস টেলর ক্রিজে এসে দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করছিলেন৷ কিন্তু দলীয় সংগ্রহ দেড়শ হবার আগেই তাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ইংলিশ গতিদানব মার্ক উড৷ 

প্লাঙ্কেট তাঁর তৃতীয় শিকার বানান নিশামকে৷ ৪৪তম ওভারে ২০০ রানের কোটা পেরোয় কিউইরা৷ বাকি ৬ ওভারে ৪১ রানই কেবল তুলতে সমর্থ হয় তারা৷ 

উইকেটকীপার ব্যাটসম্যান লাথাম ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখান৷ তবে তাঁর প্রচেষ্টা থামে ব্যক্তিগত ৪৭ রানে৷ ওকসের স্লোয়ারের শিকার হন তিনি, ক্যাচ দেন শর্ট লংঅনে৷ সব মিলিয়ে আট উইকেটে ২৪১ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে নিউজিল্যান্ড৷ শেষ দিকে অবশ্য উইকেট কিছুটা স্লো হয়ে পড়ে৷ 

প্লাঙ্কেট ও ওকস ৩টি করে উইকেট নেন৷ আর আর্চার ও উড নেন ১টি করে৷ 

২৪১ রান তাড়া করতে নেমে প্রতিপক্ষের পেসারদের তোপের মুখে পড়েন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরাও৷ শুরু থেকেই রয়-বেযারস্টোদের উইকেটে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না বোল্ট-হেনরিরা৷ খুব দ্রুত সাফল্যও পান কিউই বোলাররা৷ 

হেনরির বলে ১৭ রানে জেসন রয় এবং গ্র্যান্ডহমের বলে ৭ রানে জো রুট উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন৷ আর লোকি ফার্গুসনের বলে ইনার এজে লেগে ৩৬ রানে উইকেট ভাঙ্গে বেয়ারস্টোর৷ 

সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক এউইন মরগ্যানও৷ পেসার নিশামের বলে এরপর মিডউইকেটে ক্যাচ দেন৷ দুর্দান্তভাবে সামনে ঝাপিয়ে পড়ে ক্যাচটি লুফে নেন ফার্গুসন৷ স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে ৮৬ রান৷ এরপর শুরু হয় স্টোকস-বাটলার জুটির দ্বৈরথ৷ ২৮তম ওভারে এসে শতরান পূর্ণ করে ইংল্যান্ড৷ 

ICC Cricket World Cup Finale 2019 Neuseeland - England Kane Williamson

টুর্নামেন্ট সেরা কেন উইলিয়ামসন

ইংলিশ শিবিরে চেপে বসা পাহাড় সমান চাপ চমৎকার বোঝাপড়ায় সামলাতে শুরু করে স্টোকস-বাটলার জুটি৷ ৩৮তম ওভারে দলের সংগ্রহ দেড়শ’ অতিক্রম করে৷ এই জুটি ১০৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ইংল্যান্ডকে খাদ থেকে টেনে তোলে৷ মনে হচ্ছিল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণেই এসে পড়ছে ইংলিশদের৷ 

জুটি ভাঙ্গেন ফার্গুসন৷ ৬০ বলে ৫৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন বাটলার৷ তখনো ইংল্যান্ড বেরিয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল৷ নিশাম পরপর প্লাঙ্কেট ও আর্চারকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য আবারো কঠিন করে তোলেন ম্যাচ৷ কিন্তু ৯৮ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা স্টোকসের ব্যাট বলেছে ভিন্ন কথা৷ 

তাঁর অনবদ্য ইনিংসের জন্য স্টোকসই জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার৷ আর টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার ওঠে কিউইদের ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে আসা এবং টুর্নামেন্টে ৫৭৮ রান করা কেন উইলিয়ামসন৷ 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন