সুন্দরবন নিয়ে আপোশ কেন? | বিশ্ব | DW | 07.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সুন্দরবন নিয়ে আপোশ কেন?

সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অনুমোদিত ১৯০টি ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর৷ এর মধ্যে ২৪টি প্রকল্প মারাত্মক দূষণকারী ‘লাল' শ্রেণিভুক্ত৷ 

লাল শ্রেণিভুক্তির অর্থ এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে সুন্দরবনের মাটি, পানি ও বাতাসের মারাত্মক দূষণ ও ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে৷

পরিবেশের অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে৷ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ৯ মে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন৷

সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৪টির কার্যক্রম চালু আছে৷ বন্ধ রয়েছে ৩৬টি৷ ২৪টি লাল চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে ১০৩টি ‘কমলা-খ' এবং ৬৩টি ‘কমলা-ক' শ্রেণিভুক্ত৷

সুন্দরবনের মূল এলাকার আশেপাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এর বাফার জোন৷ সেখানে কোনো প্রকল্প অনুমোদিত না হবারই কথা৷ কিন্তু তা তো করা হয়েছেই, বরং অনুমোদিত কয়েকটি প্রকল্প পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত দূরত্বের চেয়ে পরিবেশের জন্য ঝুঁকির বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিলেন৷

‘‘কত কিলোমিটারের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান এগুলো আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ কোন প্রতিষ্ঠানের দ্বারা কতটা ক্ষতি হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ৷ ৩০ কিলোমিটার দূরের কোনো কারখানাও মারাত্মক দূষণকারী হতে পারে৷'' ডয়চে ভেলেকে বলছিলেন তিনি৷

অডিও শুনুন 03:58
এখন লাইভ
03:58 মিনিট

‘৩০ কিলোমিটার দূরের কারখানাও মারাত্মক দূষণকারী হতে পারে’

অধ্যাপক নিশাত আরো বলেন, ‘‘এসব প্রকল্পের দূষণ দেখভালের জন্য আমাদের যারা দায়িত্বে আছেন তারা কি করছেন, বা তাদের দক্ষতা কতটা সেটা দেখতে হবে৷ ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ রক্ষায় যে পদক্ষেপগুলো কাজ করার কথা তারা সেগুলো মেনে করছে কি-না সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷''

হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারদিকে প্রথম পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকার মধ্যেই বিচ্ছিন্ন লোকালয়, ছোট আকারের স্থানীয় বাজার রয়েছে৷ কিন্তু  কোনো ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই৷

আর ইসিএ এলাকায় যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার অধিকাংশই মংলা ইপিজেড ও মংলা বন্দর শিল্প এলাকায় অবস্থিত৷ অন্যান্য কলকারখানা ও প্রকল্প বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার নয়টি উপজেলায় অবস্থিত৷ এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি সিমেন্ট কারখানা, সাতটি এলপিজি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতিকারী প্রতিষ্ঠান, তিনটি তেল পরিশোধন, আটটি সুপারি প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান, তিনটি ইটভাটা, দুটি জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, একটি সিগারেট কারখানা, সাতটি লবণ পানি শোধনাগার, ৭৩টি রাইস মিল ও ১৫টি স' মিল রয়েছে৷ লাল ও কমলা শ্রেণিভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো বায়বীয়, তরল ও শব্দ দূষণ করে৷

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সুন্দরবন ইসিএ এলাকা ঘোষণার পূর্বেই ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে মংলা ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ ইপিজেডের বাইরে মংলা সমুদ্র বন্দর এবং মংলাকেন্দ্রিক শিল্প অঞ্চলের বিস্তুতি ঘটে৷

সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তের পর ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হতে সরকার কর্তৃক সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারদিকে দশ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করে৷ পরিবেশ দূষণ যাতে ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে এবং এই অঞ্চলের জীব বৈচিত্র্যে যাতে কোনো প্রকার নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে লক্ষ্যে এই ঘোষণা দেয় সরকার৷

সুন্দরবন রক্ষায় দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সুন্দরবন এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ যেটা ধ্বংস হলে আর আমরা তৈরী করতে পারব না৷ কিন্তু কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে সরকার এটাকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে৷ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণার পর থেকেই সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ে নেতারা সেখানে বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে তুলেছে৷ আমরা এ ব্যাপারে সরকারকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘সুন্দরবন রক্ষায় ভারত নিজের দেশে যে নীতি মেনে চলে এখানে তারা সেটা মানছে না৷ তাদের ওখানে ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোন কারখানা করতে

অডিও শুনুন 03:56
এখন লাইভ
03:56 মিনিট

‘সরকার এটাকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে’

দেয় না৷ অথচ তারা এখানে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে৷ এখন বাংলাদেশ ও ভারতের জনগনের উচিৎ সুন্দরবন বিনাশী এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া৷''

সুন্দরবনের আশেপাশে ১০ কিলোমিটারের (ইসিএ) মধ্যে থাকা শিল্প-কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিলেন৷ ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের এপ্রিল মাসে হাইকোর্ট এক আদেশে সুন্দরবনের আশপাশে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন শিল্প-কারখানার অনুমোদন দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷

পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে বর্তমানে কতগুলো শিল্প-কারখানা রয়েছে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়৷ আদালতের এই নির্দেশ মোতাবেক সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন৷

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসিএ এলাকার মধ্যে মংলা ইপিজেড এলাকায় ২১টি, মংলা বন্দর শিল্প এলাকায় ২০টি, মংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় চারটি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরার অন্যান্য এলাকায় ১৪৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ এর মধ্যে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিবেশগত এবং নয়টির অনুকূলে অবস্থানগত ছাড়পত্র রয়েছে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল বিভাগীয় সুন্দরবন ইসিএ এলাকাধীন পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় লাল শ্রেণিভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নেই৷ এই দুই উপজেলায় ২৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ইটভাটা, ছোট ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, ভাসমান প্লাস্টিক বল তৈরির কারখানা ও স' মিল আছে৷

ওই দিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, লাল শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বিকভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর৷ তবে রুল শুনানির সময় বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন৷ তাহলে বেরিয়ে আসবে এসব প্রতিষ্ঠান কতটুকু ক্ষতিকর৷

আর রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, লাল শ্রেণিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মাটি, পানি ও বায়ু দূষণকারী৷ বাকি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবও মারাত্মক৷ ফলে আইনানুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের সেখানে থাকার কোনো বৈধতা নেই৷

সুন্দরবনে এসব প্রকল্পের বিষয়ে আপনাদের মতামত লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়