সুদিনের অপেক্ষায় সিনেমা | বিশ্ব | DW | 17.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

সুদিনের অপেক্ষায় সিনেমা

সিনেমা হল খোলা হলেও এখনো তেমন সাড়া মেলেনি৷ করোনা আতঙ্কে হলমুখী নন দর্শকরা৷ আগামী সপ্তাহে নতুন ছবি মুক্তি পেলে বদলাতে পারে পরিস্থিতি৷

কোভিড সংক্রমণের জেরে যে লকডাউন কার্যকর করা হয় তাতে কয়েক মাস বন্ধ ছিল সিনেমা হল৷ সিঙ্গল স্ক্রিন থেকে মাল্টিপ্লেক্স সব জায়গায় তালা পড়েছিল৷ সংক্রমণ রুখতে ব্যবসায় বিপুল ক্ষতি হয়েছে হল মালিকদের৷ অবশেষে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) নির্ধারণ করে প্রেক্ষাগৃহ খোলার অনুমতি দিয়েছে কয়েকটি রাজ্যের সরকার৷ পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে খুলে গেছে অনেক হল৷ আরো কয়েকটি খুলতে চলেছে আগামী কয়েকদিনে৷ কিন্তু প্রাথমিকভাবে অভিজ্ঞতা ভালো নয় প্রেক্ষাগৃহের পরিচালকদের৷

পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সিঙ্গল স্ক্রিন, মাল্টিপ্লেক্স একটি একটি করে খুলছে৷ এতদিন পর হল খোলায় যে উৎসাহ প্রত্যাশা করেছিলেন মালিকরা তার ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি৷ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে হাতেগোনা দর্শক হয়েছে, কোথাও আবার পর্যাপ্ত দর্শক না হওয়ায় বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সিনেমা প্রদর্শন৷ একাধিক জায়গায় একজন দর্শকও উপস্থিত হননি সিনেমা দেখার জন্য৷ 

যদিও এতে হতাশ হতে রাজি নন সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবসায় যুক্ত মানুষেরা৷ কলকাতার বিখ্যাত মাল্টিপ্লেক্স ‘কার্নিভাল সিনেমা'র একটি শাখায় শুক্রবার থেকে ছবির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে৷ সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজার কুন্তল ঘোষ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "এতদিন হল বন্ধ ছিল৷

অডিও শুনুন 02:44

প্রথমে দর্শক কম হতেই পারে: কুন্তল

দর্শকদের কাছে সঠিক তথ্য নেই সিনেমা দেখানো হচ্ছে কিনা৷ যেভাবে চারপাশে মানুষ বাইরে বেরিয়েছে তাতে হলে আসা নিয়ে আলাদা আতঙ্ক থাকার কথা নয়৷ প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর ইতিবাচক ফল দেখা যাবে৷ প্রথমে দর্শক কম হতেই পারে৷” ‘আইনক্স'-এর রিজিওনাল ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল) অমিতাভ গুহঠাকুরতা বলেন, ‘‘শুধু সরকারি নির্দেশ নয়, তার সঙ্গে আরো কিছু সতর্কতা আমরা নিচ্ছি৷ বুকিং হচ্ছে শুধু অনলাইনে৷ পুরো পরিষেবাই হচ্ছে পেপার ও কনটাক্টলেস৷'' আইনক্স জানিয়েছে, খাবারের ব্যাপারেও তারা করোনাকে মাথায় রাখছে৷ বিশেষ সব্জি সমৃদ্ধ খাবার পরিবেশন করা হবে দর্শকদের৷ থাকবে নানা ধরনের গ্রিন টি৷ এর সঙ্গে প্রবেশের সময় থার্মাল চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে৷ 

সরকার নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী সংক্রমণ রুখতে প্রতিটি হলে আসন সংখ্যার অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা যাবে৷ থাকছে স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা৷ এজন্য টিকিটের দাম বাড়াতে পারবে না কর্তৃপক্ষ৷ অর্থাৎ আগের থেকেও খরচ বাড়বে তাদের৷ ‘আইনক্স' বা ‘কার্নিভাল'-এর মতো মাল্টিপ্লেক্স সংস্থা এই ক্ষতি সামলে নিলেও আগে থেকেই সংকটে থাকা সিঙ্গল স্ক্রিনের কী হবে? কলকাতার ঐতিহ্যশালী সিনেমা হল ‘প্রিয়া'র কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত বলেন, "সব একেবারে বন্ধ ছিল৷ সেটা আস্তে আস্তে চালু করতে হবে৷ সেজন্য গোড়ায় কিছু বাড়তি বিনিয়োগ দরকার৷ এ ছাড়া কোনো উপায় নেই৷ ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হলে ব্যবসা আগের জায়গায় ফিরে আসবে৷”

যদিও সিনেমার প্রযোজক, পরিবেশক সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ইম্পা'-র রতন সাহা মনে করেন, "নতুন কোনো সিনেমা নেই৷ তাই হল খুললে আদৌ লাভ হবে কিনা সন্দেহ৷'' 

অডিও শুনুন 02:06

দর্শকরা হলে ফিরবেন: অরিজিৎ

তাই দর্শকদের টানতে অফার সামনে এনেছে বিভিন্ন সংস্থা৷ কার্নিভাল একটার সঙ্গে আরেকটা টিকিট ফ্রি দিচ্ছে, কোভিড যোদ্ধা হলে নিখরচায় মিলবে সিনেমা দেখার সুযোগ৷ যদিও অনেকে আপাতত বাড়িতে বসেই সিনেমা দেখতে পছন্দ করছেন৷ উল্টোডাঙ্গার বাসিন্দা অপূর্ব রায় বলেন, "সপ্তাহের শেষে শনিবার রাতে একটা সিনেমা দেখা আমারও বাঁধা ছিল৷ মাস ছয়েক সেটা বন্ধ৷ তাই মোবাইল, কম্পিউটারে সিনেমা দেখছি৷ সেখানে নতুন সিনেমা রিলিজ করছে৷ সঙ্গে রয়েছে ওয়েব সিরিজ৷ আরো কয়েকটা দিন না গেলে হলে যাচ্ছি না৷” আবার অনেকে হল ছাড়া সিনেমা দেখার কথা ভাবতেই পারেন না৷ মূলত এই দর্শকরাই এখন হল মালিকদের পুঁজি৷ অরিজিৎ দত্তের বক্তব্য, "শোলে, সাউন্ড অফ মিউজিক মোবাইলে দেখে কি আনন্দ পাওয়া যায়? ছবি বড় পর্দায় দেখার মজা আলাদা, তাই দর্শকরা হলে ফিরবেন৷ শুধু একটু সময় দিতে হবে তাদের৷” যদিও যুগলদের প্রেক্ষাগৃহে পাশাপাশি বসে সিনেমা দেখার সু্যোগ আপাতত মিলবে না, এটা নিশ্চিত করেছেন হল পরিচালকেরা৷

আপাতত নতুন ছবির মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ৷ পিভিআর, সিনেপোলিস থেকে সিঙ্গল স্ক্রিনের পরিচালকরা তাকিয়ে আছেন ২১ তারিখের দিকে৷ পুজোতে নতুন বাংলা ছবি মুক্তি পায় প্রতি বছর৷ এবারও  অনেক বাধা কাটিয়ে সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হচ্ছে না৷  মুক্তি পেতে চলা ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘ড্রাকুলা স্যার', ‘সাহেবের কাটলেট', ‘চলো পটল তুলি', ‘রক্তরহস্য' ইত্যাদি৷ যে ছবি ইন্টারনেট সার্চ করে দেখার সুযোগ নেই, সেগুলির হলে প্রদর্শনী শুরু হলে দর্শক আসবেনই, এমনই প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন