সুইডেনে চিংড়ি সাফারি | অন্বেষণ | DW | 22.12.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

সুইডেনে চিংড়ি সাফারি

সুইডেনের পশ্চিম উপকূলে ফিয়ালবাকা গ্রাম গলদা চিংড়ির জন্য বিখ্যাত৷ সাগরে ঝাঁপ ফেলে রেখে গলদা চিংড়ি ধরা হয়৷ টুরিস্টরা আসেন সেই চিংড়ি ধরা দেখার জন্য৷ পরে থাকে গলদা চিংড়ি খাবার মজা৷

সুইডেনের পশ্চিম উপকূল আজও বন্য, আদিম৷ ফিয়ালবাকা নামের গ্রামটি জেলেদের গ্রাম, কিন্তু তার গলদা চিংড়ি সারা দেশে বিখ্যাত৷ হেমন্ত হল চিংড়ির মরসুম৷ পেয়ার কার্লসন-এর মতো জেলেদের ব্যস্ততার সময়৷ তিনি বলেন, ‘‘চিংড়ির মরসুম শুরু হলে এখানে জমজমাট! কেননা যাদের এখানে ছুটি কাটানোর বাংলো আছে, তারাও এই সময় দু'-এক সপ্তাহের জন্য এখানে আসেন, চিংড়ি মাছ ধরতে আর চিংড়ি মাছ খেতে৷''

সুইডেন ছাড়া ইউরোপেয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও আসেন গলদা চিংড়ির ভক্তরা৷ পেয়ার কার্লসন এই টুরিস্টদের জন্য গত দশ বছর ধরে তাঁর ‘চিংড়ি সাফারি' বা চিংড়ি ধরার অভিযানের ব্যবস্থা করেছেন৷ দু'ঘণ্টার টুর৷ এবার তাঁর নৌকায় রয়েছেন দক্ষিণ সুইডেনের একটি শহরের এক আইনজীবী কার্যালয়ের দশজন উকিল৷ সূর্যালোকের এখন কোনো অভাব নেই৷ স্টকহোমের ‘শেয়ারেন' দ্বীপপুঞ্জের মাঝখান দিয়ে ঘোরাফেরার সেরা সময় এটি৷

Deutschland Essen Kochen Hummer

পেয়ার কার্লসন ছেলেবেলা থেকে এখানে মাছ ধরছেন, এলাকাটাকে খুব ভালোভাবে চেনেন৷ পেয়ার জানালেন: ‘‘আমরা এখান দিয়ে বেরব৷ এটা হল ফিস্কহলেম, মৎস্যদ্বীপ, সেখান থেকে আমরা যাব দক্ষিণে৷ সব মিলিয়ে দু'ঘণ্টা৷''

ঝাঁপ ফেলে চিংড়ি তোলা

বয়া দিয়ে দিয়ে যে সব জায়গায় পেয়ার চিংড়ি ধরার ঝাঁপ ফেলেছেন, সেগুলো চিহ্ন করা আছে৷ এখানে বিশ মিটার পানি, কাজেই ঝাঁপ টেনে তোলাও একটা পরিশ্রমের কাজ৷ ঝাঁপে চিংড়ি পড়েছে৷ তবে এই চিংড়িটা প্রাণে বেঁচে যাবে৷ পেয়ার বললেন: ‘‘এটা মেয়ে চিংড়ি৷ কাজেই ছেড়ে দিতে হবে৷''

সুইডেনের মাছ ধরার আইন সেইরকম৷ ঝাঁপ আবার জলে ফেলা হল, নতুন করে টোপ দিয়ে৷ পেয়ার জানালেন: ‘‘এটা হল সল্টেড হেরিং, চিংড়িরা এর গন্ধ পায়৷ হেরিং খাবার লোভে ঝাঁপির ভেতরে ঢুকে আর বেরতে পারে না৷''

ঝাঁপ আবার জলে ফেলার আগে পাইলটের কেবিন থেকে সংকেতের অপেক্ষায় থাকেন পেয়ার৷

নৌকা চালাচ্ছেন তাঁর ভাই লার্স৷ লার্স একো সাউন্ডিং দিয়ে সমুদ্রবক্ষের উপর নজর রেখেছেন৷ লার্স জানালেন, ‘‘সাগরের তলায় জমির ওপর নজর রাখতে হয়, চিংড়িরা যেখানে থাকে, পাথরের তলায়৷'' পেয়ার কার্লসন ঠিক সেখানেই তাঁর ঝাঁপটা আবার নামিয়ে দিলেন৷ পরেরটাতেও চিংড়ি পাওয়া গেল - এবার একটা মদ্দা৷ শুধু মেপে দেখতে হবে, চিংড়িটা ঠিকমতো বড় হয়েছে কিনা৷ পেয়ার বললেন: ‘‘চোখের পেছন থেকে লেজ পর্যন্ত আট সেন্টিমিটার হতে হবে৷ এই চিংড়িটা ৮২ মিলিমিটার, কাজেই ঠিক আছে৷'' এর চাইতে ছোট চিংড়িগুলোকে আবার ছেড়ে দিতে হবে, সুইডিশ আইনে তাই বলে৷ এই চিংড়িটা যাবে মাছের বাজারে৷ সেখানে এর দাম উঠবে প্রায় ১০০ ইউরো৷

আজকে উঠেছে পাঁচটা চিংড়ি৷ এই চিংড়ি সাফারিতে পেয়ার-এর নৌকায় ছিলেন দশজন৷ কাজেই কেউ অভুক্ত থাকবেন বলে মনে হয় না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন