সীমান্ত জোরালোভাবে বন্ধ করতে হবে: এএফডি-র মুখ্য প্রার্থী গাউল্যান্ড | জার্মান নির্বাচন ২০১৭ | DW | 18.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

সীমান্ত জোরালোভাবে বন্ধ করতে হবে: এএফডি-র মুখ্য প্রার্থী গাউল্যান্ড

ডয়চে ভেলের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে আগামী নির্বাচনে ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ (এএফডি) দলের মুখ্য প্রার্থী আলেক্সান্ডার গাউল্যান্ড প্রত্যাখ্যাত অভিবাসীদের নিয়মমাফিক দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন৷

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল ও সঞ্চালক জাফর আব্দুল-করিম গাউল্যান্ডের সাক্ষাৎকার নেন

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল ও সঞ্চালক জাফর আব্দুল-করিম গাউল্যান্ডের সাক্ষাৎকার নেন

ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল ও সঞ্চালক জাফর আব্দুল-করিম গাউল্যান্ডের সাক্ষাৎকার নেন৷ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, উদ্বাস্তুদের জন্য জার্মানি তথা ইউরোপের বহির্সীমান্ত আরো শক্তভাবে বন্ধ করতে হবে৷ ৭৬ বছর বয়সি এএফডির এই রাজনীতিকের মতে, নথিপত্রবিহীন মানুষজনকে সীমান্ত পার হয়ে জার্মানিতে ঢুকতে দেওয়াটা ভুল৷

‘‘এ ধরনের মানুষদের জার্মানিতে ঢুকতে দেওয়াই উচিত নয়,’’ বরং তাদের জার্মানির বাইরে কিংবা ইউরোপের বাইরে থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা উচিত, বলে গাউল্যান্ড মনে করেন৷ সিরিয়ার মতো সংকট পীড়িত এলাকা থেকে যারা পলায়নপর, জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় পাবার অধিকার থাকলেও, ইতিমধ্যে অধিকাংশ উদ্বাস্তু এখানে আসছেন অর্থনৈতিক কারণে, বলে গাউল্যান্ডের অভিমত৷

উন্নততর জীবনযাত্রার খোঁজ যেমন বৈধ, তেমন একটি রাষ্ট্রের পক্ষে ‘এখানে তোমাদের কোনো জায়গা নেই’ বলাটাও বৈধ, বলে গাউল্যান্ড মন্তব্য করেন৷ ‘‘নিজেদের স্বার্থের খেয়াল আমাদেরই রাখতে হবে এবং বিপুল সংখ্যায় উদ্বাস্তু নেওয়াটা জার্মানির স্বার্থে নয়,’’ বলেন গাউল্যান্ড৷ ‘‘জার্মানি সারা দুনিয়ার পা ফেলার পাপোশ নয়,’’ এই হলো তাঁর বক্তব্য৷

যে অভিবাসীরা লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসছেন, তাদের জাহাজে করে সেখানে ফেরৎ পাঠাতে হবে – দাবি গাউল্যান্ডের৷ তারা যখন স্বেচ্ছায় আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে লিবিয়া পার হয়ে এসেছেন, তখন তাদের সেখানে ফেরত পাঠানো চলতে পারে, বলে তাঁর মত৷

উদ্বাস্তু নীতি ও নির্বাচনি প্রচার

জার্মান সরকারের উদ্বাস্তু নীতির সমালোচনা এএফডি-র নির্বাচনি প্রচারের মূল ভিত্তি৷ আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ‘‘ভ্রান্ত উদ্বাস্তু নীতি এএফডি-র পক্ষে একটি উপহার,’’ বলে বর্ণনা করেছেন গাউল্যান্ড৷ ২০১৫ সালের উদ্বাস্তু সংকট যাবৎ জার্মানিতে এএফডি-র জনসমর্থন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে: ইতিমধ্যে এএফডি জার্মানির ১৬টি রাজ্যের মধ্যে ১৩টি রাজ্যের বিধানসভায় প্রবেশ করেছে এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সংসদেও আসনগ্রহণের আশা করছে৷ এএফডি ৮ শতাংশ ভোট পেতে চলেছে, বলে অধিকাংশ জরিপে দেখা যাচ্ছে৷ গাউল্যান্ড স্বয়ং ২০১৩ সালে এএফডি-তে যোগদানের আগে ৪০ বছর ধরে সিডিইউ দলের সদস্য ছিলেন৷

‘ইসলাম জার্মানির অংশ নয়’

শুধু উদ্বাস্তু নীতির ক্ষেত্রেই নয়, ইসলামের প্রতি এএফডি-র মনোভাবও অন্যান্য দল থেকে আলাদা৷ ‘‘সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সত্তা হিসেবে ইসলাম জার্মানির অঙ্গ নয়,’’ ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন গাউল্যান্ড৷ জার্মানিতে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ লাখ মুসলিমের বাস সত্ত্বেও এএফডি তাদের নির্বাচনি ইশতাহারে এই অবস্থান ঘোষণা করেছে৷ ‘‘শরিয়া ও অপরাপর নির্দেশের কারণে ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যার রীতিনীতি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে মেলে না,’’ বলেন তিনি৷

ব্যক্তিগতভাবে যারা ইসলাম ধর্ম মেনে চলেন, তারা জার্মান সংবিধানের দ্বারা সুরক্ষিত, বলে গাউল্যান্ড উল্লেখ করেন৷ ‘‘কিন্তু আমরা যে ধীরে ধীরে ইসলামি রীতিনীতি এখানে আমদানি করব, সেটা চলতে পারে না,’’ বলেন এএফডি দলের মুখ্য প্রার্থী৷

তিনি নিজে কেন মুসলিমদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন না, এ প্রশ্নের জবাবে গাউল্যান্ড বলেন: ‘‘সরকারিভাবে মুসলিমদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার কোনো প্রয়োজন আমি বোধ করি না৷ আমার পারিপার্শ্বিকে যদি কেউ (কোনো মুসলিম) থাকেন, তাহলে আমি স্বভাবতই তার সঙ্গে কথা বলতে রাজি৷ সেটা কোনো সমস্যাই নয়৷’’

নিনা ভ্যার্কহয়জার/এসি

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো? জানান নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন