1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জার্মান জিহাদিরা বিপজ্জনক

নাস্তাসিয়া স্টয়ডেল/আরবি
১৭ আগস্ট ২০১৪

সিরিয়া থেকে আসা স্যাকসনির এক সালাফিস্ট জার্মানিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন৷ জার্মানির অনেকেই ইসলামি খালিফাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন৷

https://p.dw.com/p/1Cvfl
জিহাদি জগতে এক তারকা সিলভিও কে

সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘ইসলামি রাষ্ট্র'-এর ভিডিও বার্তায় তাঁদের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷ ‘‘যে ইসলামে আস্থা রাখবে না, কিংবা ইসলামের রীতিনীতি মেনে চলবে না, তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে৷'' এই ভিডিও বার্তাটির বাহক সিলভিও কে৷ ২৭ বছর বয়স্ক এই ব্যক্তি আইএস সালাফিস্টদের জার্মান মুখ৷ জন্ম তাঁর স্যাকসনিতে৷ প্রথমে এসেন পরে সোলিঙেন শহরে নিষিদ্ধ সালাফিস্ট সমিতি ‘মিলাতু ইব্রাহিমের' সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি৷ বর্তমানে সিরিয়ায় অবস্থান করছেন তিনি৷ সেখানে থেকে খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন৷ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে৷

Symbolbild Terror Terroristen Dschihadisten Islamisten Syrische Rebellen
ছবি: picture-alliance/dpa

জিহাদি জগতে এক তারকা

সিলভিও কে, তদন্তকারীদের কাছে পরিচিত৷ ‘‘তিনি জিহাদি জগতে এক তারকা৷ জার্মানির ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ সালাফিস্ট তাঁর কথা শোনেন৷'' বলেন সন্ত্রাসী বিশেষজ্ঞ গিডো স্টাইনব্যার্গ৷ এই ইসলামিস্ট অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি৷

অতীতে তিনি চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে হামলার হুমকি দিয়েছেন৷ সম্প্রতি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিলভিও জার্মানিতে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন৷ ‘আল্লার যোদ্ধা' হিসাবে জার্মানির ‘কাফেরদের' বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন৷

নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এই ধরনের হুমকিকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন৷ নির্দিষ্টভাবে কিছু লক্ষ্যবস্তুর নামও উল্লেখ করায় বিষয়টি আরো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে৷ যেমন রাইনলান্ড ফালৎস রাজ্যের মার্কিন পারমাণবিকবোমা-সংগ্রহশালা ইসলামিস্টদের নজরে রয়েছে৷ তাই এই স্থাপনাটিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷

এছাড়া অ্যামেরিকান এয়ারফোর্স বেস-এর সুরক্ষার ব্যাপারেও জোর দেওয়া হচ্ছে৷ সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, দপ্তর কিংবা যানবাহন ও পরিবহনের ওপর হামলার ঝুঁকিও রয়েছে৷

প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রত্যাবর্তন

জার্মান সংবিধান সুরক্ষা দপ্তরের মতে ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় ৩২০ জন জার্মান জিহাদি সিরিয়া গিয়েছেন৷ এর মধ্যে রয়েছেন স্যাকসনির সিলভিও কে৷

ইসলাম বিশেষজ্ঞ আহমেত সেনিয়ুর্ট এই প্রবণতার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘‘তরুণরা বিপ্লবে অংশ নেওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে সেখানে যান৷ ইসলামি খালিফাত পশ্চিমা সমাজ ব্যবস্থার বিপরীত এক ধারা, যা তাঁদের আকৃষ্ট করে৷''

ইসলামি রাষ্ট্রের দাবিদারদের মধ্যযুগীয় মনে হলেও তাঁদের কাছে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ও মিডিয়ার কলাকৌশল রয়েছে৷ এইভাবে তাঁরা সেইসব মানুষের কাছে পৌঁছান, যাঁরা জার্মান সমাজে কখনই ঠিক মতো গৃহীত হননি বলে মনে করেন৷ বলেন ইসলাম বিশেষজ্ঞ আহমেত সেনিয়ুর্ট৷

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে জার্মানিতে ফিরে এলে এইসব ব্যক্তি আরো চরমপন্থি হয়ে উঠতে পারেন৷ আত্মঘাতী হামলা কিংবা ব্রাসেলসের মতো আক্রমণ ঘটাও অসম্ভব নয়৷ গত মে মাসে খুব সম্ভবত সিরিয়ার ‘পবিত্র যুদ্ধ' থেকে ফেরা এক ব্যক্তির গুলিতে চার ব্যক্তি নিহত হন৷

ইউরোপীয় সমস্যা

ফেডারেল সংবিধান সুরক্ষা দপ্তরের প্রেসিডেন্ট হান্স-গেওর্গ মাসেন বলেন ‘সিরিয়ান যোদ্ধাদের' ফিরে আসা এখন ইউরোপীয় সমস্যা হয়ে উঠেছে, যা নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ এক্ষেত্রে শুধু পুরুষদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে চলবে না৷ মেয়েরাও খুব পিছিয়ে নেই৷ সম্প্রতি বাভারিয়ায় সন্দেহজনক এক নারীকে আটক করা হয়েছে, যিনি সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামিস্টদের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন৷ যুদ্ধ কবলিত এলাকায় তাঁর দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান