সিরিয়ায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সুফল পাচ্ছে কে? | বিশ্ব | DW | 09.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সিরিয়া

সিরিয়ায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সুফল পাচ্ছে কে?

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সেখানে ইরান, রাশিয়া এবং তুরস্ক পদক্ষেপ নিতে চাইছে, তবে শেষ পর্যন্ত এর সুফল কার ঘরে উঠবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা৷

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের মত সৈন্য রয়েছে৷ তার মধ্যে তুরস্কের সীমান্ত এলাকা থেকে মাত্র দুই ডজন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন৷

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হওয়ায় সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) যোদ্ধারা আঙ্কারার সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার হতে পারেন৷ রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া সরকার ও আইএস- এদের সবাই অঞ্চলটিতে সুফল লাভের চেষ্টা চালাচ্ছে৷

মঙ্গলবার কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ওই অঞ্চলে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে তুরস্ক৷ কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এসডিএফকে নির্মূল করে তুরস্ক কয়েক লাখ সিরীয় শরণার্থীর জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায়৷

এমন পরিস্থিতিতে কুর্দি যোদ্ধারা বাশার আল আসাদ সরকারের সঙ্গে জোট বাধতে চাইলেও সেই আলোচনা দূর্বল হয়ে গেছে৷ মঙ্গলবার এসডিএফ এর কমান্ডার-ইন-চিফ মাজলুম আবদী অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দেন৷ সিরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল মাকদাদ কুর্দিদের সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে জাহান্নামে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন৷

এসডিএফ জোটের মুখপাত্র সালিহ মুসলিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, সিরিয়ার সরকার যদি এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয় তবেই তারা সংলাপে বসবেন৷ এটি  একীভূত সিরিয়ার অংশ হওয়া উচিত৷ যদি তারা এ জাতীয় সমাধান চায় তবে তাদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে৷ তবে আমি মনে করি সিরিয়ার সরকার ইরান ও রাশিয়াকে ছাড়া নিজেরা এ কাজ করার মত স্বাধীন নয়৷

ইসলামী রাষ্ট্রবিরোধী জোটের সাবেক মার্কিন দূত ব্রেট ম্যাকগুর্ক সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়া, ইরান এবং আইএসের জন্য উপহার হিসাবে বর্ণনা করেছেন৷

আর এসডিএফ জোটের মুখপাত্র মুসলিম বলছেন, তুরস্ক এই অঞ্চলে জিহাদিদের আরো কাছাকাছি এনে বিশেষ এক ধরনের অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবে৷... কারণ তুরস্ক তাদের সাথে বাণিজ্য করছিল এবং তাদের কাছ থেকে তেলও পাচ্ছিল৷ সম্ভবত তুরস্ক নতুন খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে৷

উত্তরে তুরস্কের সঙ্গে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে তখন এসডিএফকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৭০ হাজার আইএস যোদ্ধা এবং বন্দীদের সঙ্গেও লড়াই করতে হবে৷

সালিহ মুসলিমও মনে করেন তুরস্ক আটককৃতদের দায়িত্ব নেবে৷  কারণ  দেশটি আইএস সদস্যদের সমর্থন ও অস্ত্র দিয়ে সিরিয়ায় পাঠায়৷ তারা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং ইউরোপের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল করতে ব্যবহার করবে৷

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ের মিত্র কুর্দিদের পাশ থেকে সরে এসে এভাবে তাদের ওপর আক্রমণের পথ করে দেয়ায় রিপাবলিকানদেরও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প৷ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত বদলাতেও অনুরোধ জানিয়েছিলেন অনেকে৷       

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরীয় সীমান্তে অভিযানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে টুইটারে জানিয়েছে৷ ট্রাম্পো টুইটারে লিখেছেন, ‘সীমার বাইরে' কিছু করলে তিনি তুরস্কের অর্থনীতি ‘পুরোপুরি ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন' করে দেবেন৷

নেটো সদস্য এই দুই দেশ একসময় একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে৷ কূটনৈতিক ওই টানাপোড়েনের সূত্র ধরেই গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল অনেক কর্মকর্তার ওপর৷

টম অ্যালিনসন/এসআই/কেএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন