সিভিল এভিয়েশনের সংকট কোথায়? | আলাপ | DW | 02.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সিভিল এভিয়েশনের সংকট কোথায়?

বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন বা বেসরকারি বিমান চলাচল সংস্থার জন্য দরকার প্রায় ১০ হাজার কর্মী৷ কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি চলছে অনেক কম জনবল নিয়ে৷ ফলে নানা চাপের মুখে থাকতে হয়৷ অথচ এটিই  বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা৷

বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তিনটি৷ ঢাকার হজরত শাহ জালাল বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানন্দর৷ আর অভ্যন্তরীন বিমানবন্দর আছে সাতটি৷ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল ঈশ্বরদী, সৈয়দপুর ও কুমিল্লায় একটি করে বিমানবন্দর আছে৷

আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে এই দশটি বিমানবন্দর, বিমানবন্দর ব্যবহারকারী দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্স৷ বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজের সব ধরনের সেফটি ও সিকিউরিটি, উড়োজাহাজের সেফটি সিকিউরিটি নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদন, পাইলটদের লাইসেন্স প্রদান৷ এয়ার ট্রাফিক, এয়ার রুট নিয়ন্ত্রন, ফ্লাইট অপারেশন কন্ট্রোলসহ আরো অনেক কিছু সরাসরি দেখে সিভিল এভিয়েশন৷

বাংলাদেশ বিমানসহ বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের সি-চেকসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের অনুমোদিত হতে হয়৷ আর বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সকে তাদের সেফটি এবং সিকিউরিটি সনদও এখান থেকে নেয়া বাধ্যতামূলক৷

সিভিল এভিয়েশেন আরো কিছু সেবা দিয়ে থাকে৷ এর মধ্যে আছে এয়ার অ্যান্ড নেভিগেশন সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস, কমিউনিকেশন অ্যান্ড নেভিগেশন সার্ভিস, অ্যারোনটিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিস, মেটেওরোলজিক্যাল সার্ভিস প্রভৃতি৷

দেশের ১০টি বিমানবন্দর এবং বিমানবন্দরের সেবার মধ্যে রয়েছে: বিমানবন্দর ব্যবহার, ল্যান্ডিং,পার্কিং, বোর্ডিং, কার্গো প্রভৃতি৷

বাংলাদেশে এখন তিনটি বেসরকারি এয়াললাইন্স রয়েছে৷ এই তিনটি ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিমান)ও অভ্যন্তরীন রুটে উড়োজাহাজ পরিচালনা করে৷ শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেশের চারটি এয়ারলাইন্সের প্রায় ৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়৷ পাশাপাশি ১৮ দেশের ২৫টি এয়ারলাইন্সের কমপক্ষে ১০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এ বিমানবন্দর দিয়ে৷

অথচ সিভিল এভিয়েশন পরিচালিত হচ্ছে তিন দশক আগের অর্গানোগ্রাম দিয়ে৷ এই অর্গানোগ্রাম ১৯৮৫ সালের তৈরি৷ যখন এই অর্গানোগ্রাম তৈরি হয় তখন শুধু বিমান ও হাতেগোনা কয়েকটা বিদেশি এয়ারলাইন্স ছিল৷ তখন বার্ষিক যাত্রী ছিল মাত্র দশ লাখ৷ তিন দশকে এখন দেশীয় এয়ারলাইন্স পাঁচটি৷ শুধু শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়েই বছরে ষাট লাখেরও বেশি যাত্রী আসা-যাওয়া করেন৷

এর বাইরে দেশীয় কার্গো বিমান পরিচালনা করে পাঁচটি এয়ার লাইন্স৷ নয়টি প্রাইভেট অপারেটর পরিচালনা করে ২৩টি হেলিকপ্টার৷ এসবেরই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিভিল এভিয়েশন৷

সিভিল এভিয়েশনের এখন মোট জনবল তিন হাজার আটশ'র মতো৷ কিন্তু এর কাজের বিস্তৃতি এবং পরিধি বিবেচনা করলে বর্তমানের চেয়ে প্রায় তিনগুন জনবল প্রয়োজন৷ আর এই সংস্থায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল৷ 

সিভিল এভিয়েশন পুরনো অর্গানোগ্রামে চলছে৷ গত ৯ বছর ধরে নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি এবং অনুমোদনের চেষ্টা করছে৷ নতুন পাঁচ হাজার পদের বিপরীতে লোকবল নিয়োগের চেষ্টা করছে৷ কিন্তু সেই চেষ্টা এখনো সফল হয়নি৷ ফলে সিভিল এভিয়েশন বলতে গেলে অনেকটা চাপের মুখেই আছে৷ চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে৷

সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং সেফটি ও সিকিউরিটি সুপারভাইজার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সিভিল  এভিয়েশনের চেয়াম্যারসহ শীর্ষ পদে যাঁরা আসেন, তাঁরা মূলত সিভিল এভিয়েশনের সরাসরি নিয়োগ পাওয়া নয়৷ তাঁরা হয় বিমানবাহিনী বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে আসেন৷ এটা অনেকটা বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে৷ যাঁরা আসেন তাঁরা ২-৩ বছর থেকে চলে যান৷ তাঁদের মূল ডিপার্টমেন্ট যেহেতু সিভিল এভিয়েশন নয়, তাই তাঁরা এর উন্নয়ন নিয়েও তেমন মাথা ঘামান না৷''

অডিও শুনুন 06:59
এখন লাইভ
06:59 মিনিট

‘এই প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতি আছে’

তিনি বলেন, ‘‘সিভিল এভিয়েশন সরকারকে বড় অংকের রাজস্ব দেয়৷ পুরো এভিয়েশন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা৷ বিমানবন্দর পরিচালনা করে৷ তাই এখানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত অনেক জনবল দরকার৷ বিশেষ করে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি খাতে এই প্রশিক্ষণ খুব জরুরি৷ তা না করে বাইরের লোক দিয়ে সিভিল এভিয়েশন চালানো হচ্ছে৷ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তা দল থাকার কথা থাকলেও তা নেই৷ দীর্ঘদিন দৈনিক ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করে এই প্রতিষ্ঠান চালানো হয়েছে৷''

তিনি দাবি করেন, ‘‘এই প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতি আছে৷ আমরা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলো বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু এর ফল হিসেবে আমরা শীর্ষ কর্মকর্তাদের রোষের মুখেও পড়েছি৷''

বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বেবিচক)-এর গ্রহণযোগ্য অর্গানোগ্রাম না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ'র  তালিকায় ক্যাটাগরি-২ হিসেবে বিবেচিত হয়৷ ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হতে পারছে না বেবিচক৷ আর ক্যাটাগরি-২-এ থাকায় বেবিচক থেকে অনুমোদন নেয়া সংস্থার উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশকিছু দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাচ্ছে না৷ একই কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো উড়োজাহাজেরও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নেই৷ এই কারণেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিউইয়র্ক রুটের ফ্লাইটও চালু করা সম্ভব হয়নি৷

এদিকে নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিরাপত্তা চেকিংকে গ্রহণ করছে না৷ পণ্য পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে৷ তৃতীয় দেশে নিরাপত্তা চেকিংয়ের শর্ত দিয়েছে৷ আর ব্রিটিশ নিরাপত্তা কোম্পানি রেডলাইন শাহজালাল বিমানবন্দরের কাজ তদারকি করছে৷ এসবের কারণ আসলে দক্ষ জনবলের অভাব৷ এর মধ্যে যুক্তরাজ্য অবশ্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে৷ বিমানবন্দরে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য স্ক্যানারসহ অনেক যন্ত্র থাকলেও তা পরিচালনার জন্য লোক নেই৷

তবে নিরাপত্তাব্যবস্থার সার্বিক সূচকে সিভিল এভিয়েশন অনেকটা এগিয়েছে৷ ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও)-এর মান অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা সূচক এখন ৭৭ দশমিক ৪৬৷ ২০১২ সালে বাংলাদেশের সূচক ছিল ৫০ দশমিক ২৷ আইকাও মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের সূচক ৬০-এর ওপর হলে সে দেশের এভিয়েশন খাতকে সন্তোষজনক মানের বিবেচনা করা হয়৷  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষ জনবল এবং অর্গানোগ্রামের উন্নতি হলে সিভিল এভিয়েশন হয়তো  এফএএ'র ক্যাটাগরি-১ এ উন্নীত হতে পারবে৷ আর তাই যদি হয়, তাহলে বাংলাদেশ নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু করতে পাববে৷  আন্তর্জাতিক এভিয়েশন অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে৷

এদিকে ইউএস-বাংলার বিমান নেপালে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি৷ দেশের যাত্রী বহনকারী এয়ারলাইন্স, কার্গো এয়ারলাইন্স, হেলিকপ্টার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশন, প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য সেফটি কনফারেন্স শুরু করেছে৷ একইসঙ্গে পাইলটদের প্রশিক্ষণ, এয়ারলাইন্সগুলোর বিমানের নিয়মিত মেরামত হয় কিনা এসব বিষয় বিশেষভাবে পরির্দশন করবে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি৷

অডিও শুনুন 07:49
এখন লাইভ
07:49 মিনিট

‘সমস্যা আছে, আমরা তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি’

১৭ মার্চ থেকে ফ্লাইট সেফটি নিয়ে কনফারেন্স ও বিশেষ ইনস্পেকশন শুরু হয়৷ পাইলট, প্রকৌশলী ও ফ্লাইট অপারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিয়ে করা হচ্ছে সেফটি কনফারেন্স৷ একইসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট অপারেশন ইনস্পেক্টররা এয়ারলাইন্সগুলোর পাইলটদের প্রশিক্ষণ, উড়োজাহাজের মেরামত সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরির্দশন করবেন৷

সিভিল এভিয়েশনের সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন পরিচালক উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা সারাবছর ধরেই সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করবো৷ আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে সিভিল এভিয়েশন আরো ভালো সেবা দিতে পারবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জনবল সংকট কেটে যাবে৷ কারণ, আমরা অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ছয়শ' অতিরিক্ত জনবলের অনুমোদন পেয়েছি৷ তবে তাদের নিয়োগ দিতে আরো কিছু কাজ বাকি আছে৷ নিয়োগবিধি চূড়ান্ত হলে ফাইনাল অ্যাপ্রুভ্যাল হলে আমরা নিয়োগ শুরু করতে পারবো৷ তবে নিয়োগ দেয়াই আসল কাজ নয়৷ আসল কাজ হলো প্রশিক্ষণ৷ সেটি নিশ্চিত করতে হবে৷''

উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে পাইলটদের লাইসেন্সিং অথরিটি সিভিল এভিয়েশন৷ তাদের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরীক্ষা নেয়া হয়৷ আর উড়োজাহাজের নানা ধরনের সেফটি সিকিউরিটি, সি-চেক প্রভৃতির ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন সার্টিফায়েড প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট নিতে হয়৷ আর এই ক্ষেত্রে মনিটরিং এবং সঠিক প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ জিয়াউল কবির বলেন, ‘‘আমাদের প্রকৌশলী এক্সপার্ট বা টেকনিশিয়ানরা ওইসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি পরিদর্শন করে তারপর অনুমোদন দেয়৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘সমস্যা আছে, আমরা তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি৷ আইকাও  সেফটি সূচকে সিভিল এভিয়েশনের মান এখন আন্তর্জাতিক মানের৷ সূচক ৬০ হলেই আন্তর্জাতিক মানের৷ আমাদের সূচক এখন ৭৭-এর বেশি৷ আশা করি আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ)'র ক্যাটাগরি-১-এও উন্নীত হবো৷ এর মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে৷''

তিনি সিভিল এভিয়েশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ'র এক অভিযোগের জবাবে বলেন, ‘‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের অধীনে একটি সংস্থা৷''

সিভিল এভিয়েশন থেকে দুর্নীতি দূর করার উপায় কী? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন